জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

কোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান



কোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দীর্ঘদিন থেকে চলছে পাঠদান।  ভবনের টিনের চালাঘরে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণীর পর্যন্ত প্রতিদিন পাঠদান চলে। সেই সাথে লাইব্রেরি ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ  বেঞ্চ না নেই। বৃষ্টি হলেই কাদা পানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে  শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আসতে হয় এতে সিমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে অতি দ্রুতই  নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শুরু করার প্রয়োজন বলে করেন।  

মঙ্গলবার(৭ এপ্রিল) সকালে বিদ্যালয় গিয়ে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু জাফর জানান, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মোঃ শরিফ উদ্দিনের প্রচেষ্ঠায় ১৯৪১ সালে প্রায় ১ একর ১৮ শতক জায়গার উপর কোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ১৯৮৫ সালে  বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হয়। শুরুতেই বিদ্যালয়টি মেড ইন ইংলিশ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। 

সেই সময় ভারতের জলপাইগুড়ি বিভাগের আওতায় বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়। তৎকালীন  পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী বিদ্যালয়টি পরিদর্শনও করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৩টি ভবন রয়েছে। টিনের ছাউনির একটি পাকা ৩ কক্ষের ভবনসহ পুরাতন টিনের ছাউনী বিশিষ্ট ৫ কক্ষ একটি ভবনে পাঠদান চলছে। পুরাতন এই ভবনে টিনের ছাউনি কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি নামলেই শ্রেণিকক্ষের ভিতরে পানি পরে। 

এ সময় ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান থেকে বিরত থাকতে হয়। ৩ কক্ষ বিশিষ্ট পাকা এই ভবনটি দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় ভবনটির ভিতরের দেয়ালগুলো বিভিন্ন স্থানের পলেস্তার খসে পড়ছে। ছাদের পলেস্তার উঠে রডগুলো কংকালের মত বেরিয়ে রয়েছে। দরজা জানালার অবস্থাও করুণ। যেকোনো মুহূর্তের বড় ধরনের দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সরেজমিনে দেখা যায়। 

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদকে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত মেলেনি ভবন নির্মাণের কোন সুখবর।  

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  ফেরাজ উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষা সরঞ্জামাদি সংশ্লিষ্ট কিছু সমস্যা থাকলেও সবচেয়ে বড় সমস্য অবকাঠামো ও যোগাযোগসহ শ্রেণীকক্ষ সমস্যা।  সরকার দ্রুত  হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ধরে রাখতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। 

দুপচাঁচিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


কোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দীর্ঘদিন থেকে চলছে পাঠদান।  ভবনের টিনের চালাঘরে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণীর পর্যন্ত প্রতিদিন পাঠদান চলে। সেই সাথে লাইব্রেরি ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ  বেঞ্চ না নেই। বৃষ্টি হলেই কাদা পানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে  শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আসতে হয় এতে সিমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে অতি দ্রুতই  নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শুরু করার প্রয়োজন বলে করেন।  

মঙ্গলবার(৭ এপ্রিল) সকালে বিদ্যালয় গিয়ে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু জাফর জানান, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মোঃ শরিফ উদ্দিনের প্রচেষ্ঠায় ১৯৪১ সালে প্রায় ১ একর ১৮ শতক জায়গার উপর কোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ১৯৮৫ সালে  বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হয়। শুরুতেই বিদ্যালয়টি মেড ইন ইংলিশ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। 

সেই সময় ভারতের জলপাইগুড়ি বিভাগের আওতায় বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়। তৎকালীন  পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী বিদ্যালয়টি পরিদর্শনও করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৩টি ভবন রয়েছে। টিনের ছাউনির একটি পাকা ৩ কক্ষের ভবনসহ পুরাতন টিনের ছাউনী বিশিষ্ট ৫ কক্ষ একটি ভবনে পাঠদান চলছে। পুরাতন এই ভবনে টিনের ছাউনি কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি নামলেই শ্রেণিকক্ষের ভিতরে পানি পরে। 

এ সময় ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান থেকে বিরত থাকতে হয়। ৩ কক্ষ বিশিষ্ট পাকা এই ভবনটি দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় ভবনটির ভিতরের দেয়ালগুলো বিভিন্ন স্থানের পলেস্তার খসে পড়ছে। ছাদের পলেস্তার উঠে রডগুলো কংকালের মত বেরিয়ে রয়েছে। দরজা জানালার অবস্থাও করুণ। যেকোনো মুহূর্তের বড় ধরনের দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সরেজমিনে দেখা যায়। 

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদকে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত মেলেনি ভবন নির্মাণের কোন সুখবর।  

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  ফেরাজ উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষা সরঞ্জামাদি সংশ্লিষ্ট কিছু সমস্যা থাকলেও সবচেয়ে বড় সমস্য অবকাঠামো ও যোগাযোগসহ শ্রেণীকক্ষ সমস্যা।  সরকার দ্রুত  হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ধরে রাখতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। 

দুপচাঁচিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত