জয়পুরহাট    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

হৃদয়ের বন্ধনে মেতেছিল তারা



হৃদয়ের বন্ধনে মেতেছিল তারা

দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও স্মৃতির পাতায় আজও অমলিন সেই স্কুলজীবন। সময়ের স্রোতে কেউ হয়েছেন ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ বা শিক্ষক, জীবনের ব্যস্ততায় ছড়িয়ে পড়েছেন দেশের নানা প্রান্তে। তবুও হৃদয়ের টানে আবারও এক ছাদের নিচে মিলিত হলেন ১৯৭৯ সালের এসএসসি ব্যাচের সহপাঠীরা।

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার আক্কেলপুর সরকারি এফ. ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৭৯ সালের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত পুনর্মিলনীটি পরিণত হয় এক আবেগঘন মিলনমেলায়। সোমবার সকাল ১১টায় আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে শুরু হওয়া এ আয়োজনে অংশ নেন অর্ধশতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে রঙিন ব্যানার “১৯৭৯ সালের এসএসসি ব্যাচের পুনর্মিলনী ২০২৬” যেন ফিরে যেতে আহ্বান জানাচ্ছিল সেই সোনালি অতীতে। একই রঙের পোশাক ও ক্যাপ পরে সারিবদ্ধভাবে বসে থাকা প্রৌঢ় সহপাঠীদের চোখেমুখে ছিল এক অনন্য উচ্ছ্বাস।

দীর্ঘদিন পর একে অপরকে কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। করমর্দন, কোলাকুলি আর স্মৃতিচারণে বারবার ফিরে আসে স্কুলজীবনের দুরন্ত দিনগুলোর কথা। কেউ বলছিলেন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে খেলার গল্প, কেউবা স্মরণ করছিলেন শিক্ষকদের কঠোর শাসন সব মিলিয়ে মুহূর্তগুলো হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও হৃদয়ছোঁয়া।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক গসির উদ্দীন ও ইসমাইল হোসেন। প্রিয় শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে শিক্ষক ইসমাইল হোসেন বলেন, তোমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আজ আমি যেন আবার সেই পুরোনো দিনে ফিরে গেছি। তখন তোমরা ছিলে কিশোর, স্বপ্নে ভরা চোখ, দুষ্টুমিতে ভরা দিন, আর আজ তোমাদের দেখি জীবনের নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে। একজন শিক্ষক হিসেবে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না।

আয়োজক কমিটির সম্পাদক মোছাদ্দেক আলী বলেন, আমরা সবাই জীবনের নানা ব্যস্ততায় ছড়িয়ে পড়েছি। কিন্তু এই স্কুল, এই বন্ধুত্ব আমাদের স্মৃতির মণিকোঠায় বারবার ভেসে ওঠে। এমন আয়োজন আমাদের জীবনে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করে। ভবিষ্যতেও এই বন্ধন অটুট রাখতে আমরা নিয়মিত পুনর্মিলনীর আয়োজন করতে চাই।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিদায়ের ক্ষণ এলেও সবার চোখেমুখে ছিল আবারও মিলিত হওয়ার অঙ্গীকার।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


হৃদয়ের বন্ধনে মেতেছিল তারা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও স্মৃতির পাতায় আজও অমলিন সেই স্কুলজীবন। সময়ের স্রোতে কেউ হয়েছেন ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ বা শিক্ষক, জীবনের ব্যস্ততায় ছড়িয়ে পড়েছেন দেশের নানা প্রান্তে। তবুও হৃদয়ের টানে আবারও এক ছাদের নিচে মিলিত হলেন ১৯৭৯ সালের এসএসসি ব্যাচের সহপাঠীরা।

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার আক্কেলপুর সরকারি এফ. ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৭৯ সালের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত পুনর্মিলনীটি পরিণত হয় এক আবেগঘন মিলনমেলায়। সোমবার সকাল ১১টায় আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে শুরু হওয়া এ আয়োজনে অংশ নেন অর্ধশতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে রঙিন ব্যানার “১৯৭৯ সালের এসএসসি ব্যাচের পুনর্মিলনী ২০২৬” যেন ফিরে যেতে আহ্বান জানাচ্ছিল সেই সোনালি অতীতে। একই রঙের পোশাক ও ক্যাপ পরে সারিবদ্ধভাবে বসে থাকা প্রৌঢ় সহপাঠীদের চোখেমুখে ছিল এক অনন্য উচ্ছ্বাস।

দীর্ঘদিন পর একে অপরকে কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। করমর্দন, কোলাকুলি আর স্মৃতিচারণে বারবার ফিরে আসে স্কুলজীবনের দুরন্ত দিনগুলোর কথা। কেউ বলছিলেন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে খেলার গল্প, কেউবা স্মরণ করছিলেন শিক্ষকদের কঠোর শাসন সব মিলিয়ে মুহূর্তগুলো হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও হৃদয়ছোঁয়া।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক গসির উদ্দীন ও ইসমাইল হোসেন। প্রিয় শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে শিক্ষক ইসমাইল হোসেন বলেন, তোমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আজ আমি যেন আবার সেই পুরোনো দিনে ফিরে গেছি। তখন তোমরা ছিলে কিশোর, স্বপ্নে ভরা চোখ, দুষ্টুমিতে ভরা দিন, আর আজ তোমাদের দেখি জীবনের নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে। একজন শিক্ষক হিসেবে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না।

আয়োজক কমিটির সম্পাদক মোছাদ্দেক আলী বলেন, আমরা সবাই জীবনের নানা ব্যস্ততায় ছড়িয়ে পড়েছি। কিন্তু এই স্কুল, এই বন্ধুত্ব আমাদের স্মৃতির মণিকোঠায় বারবার ভেসে ওঠে। এমন আয়োজন আমাদের জীবনে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করে। ভবিষ্যতেও এই বন্ধন অটুট রাখতে আমরা নিয়মিত পুনর্মিলনীর আয়োজন করতে চাই।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিদায়ের ক্ষণ এলেও সবার চোখেমুখে ছিল আবারও মিলিত হওয়ার অঙ্গীকার।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত