জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

নওগাঁয় পুলিশের লাথির আঘাতে আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ



নওগাঁয় পুলিশের লাথির আঘাতে আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ
ছবি-সংগৃহীত

নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের লাথির আঘাতে আব্দুল হামিদ ধলা (৬৬) নামে এক আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মহাদেবপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান, এএসআই আছির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে নিহত আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেনকে আটক করতে মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এমরান হোসেন পালিয়ে যায়। কিন্তু ইমরান হোসেনকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে আব্দুল হামিদের বৃদ্ধা মা হালিমা বেওয়া তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য পুলিশের পা ধরলেও পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।

নিহত আব্দুল হামিদের নাতি রিপন জানান, ‘তারা দাদা-নাতি এক ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। মধ্যরাতে পাঁচ জন পুলিশ এসে তার দাদাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তার দাদাকে লাথি মারলে পুলিশের লাথিতে তার দাদা মাটিতে পড়ে যায়। সেখানেই তিনি মারা যায়। ’

নিহত আব্দুল হামিদের মা হালিমা বেওয়া জানান, ‘তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য তিনি পুলিশের পা ধরলে পুলিশ তাকেও ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।’

ওই গ্রামের মৃত ধলা বক্সের ছেলে এসলাম বক্স জানান, ‘রাত ১টার দিকে কয়েকজন পুলিশ তার বাড়িতে ঢুকে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে জানিয়ে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেন। এ সময় আইডি কার্ডের সাথে তার নামের বানানের মিল না থাকায় তাকে আদালত থেকে জামিনের পরামর্শ দেয়।’

অভিযোগের বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামে ধরতে অভিযান দিয়েছিলো। এ সময় অভিযানে একজন আসামিকে আটক করা হয়। পরে আরেকটি বাড়িতে অভিযান দিলে সেই বাড়ি থেকে কোন আসামি পাওয়া যায়নি। পরে ওই বাড়ির অভিভাবকের কাছ থেকে পাশের একটি বাড়ি দেখে নেয়ার জন্য হেল্প চায়। হেল্প চাইলে নামের গরম মিল থাকায় পুলিশ ওখান থেকে আরেক জায়গায় অভিযান দেয়। পরে ওখান থেকে আসার পথে স্থানীয় লোকজন বলছিল যে লোকটি সহযোগিতা করতে বাইরে গিয়েছিল ওই লোকটা স্টকে মারা যায়। পুলিশের আঘাতে মৃত্যুর ঘটনা সঠিক নয়।’

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। ওই পরিবারের কেউ এখনো আমাদের কাছে কোন অভিযোগ করেনি। তারপরও বিষয়টি আমলে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


নওগাঁয় পুলিশের লাথির আঘাতে আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের লাথির আঘাতে আব্দুল হামিদ ধলা (৬৬) নামে এক আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মহাদেবপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান, এএসআই আছির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে নিহত আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেনকে আটক করতে মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এমরান হোসেন পালিয়ে যায়। কিন্তু ইমরান হোসেনকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে আব্দুল হামিদের বৃদ্ধা মা হালিমা বেওয়া তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য পুলিশের পা ধরলেও পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।

নিহত আব্দুল হামিদের নাতি রিপন জানান, ‘তারা দাদা-নাতি এক ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। মধ্যরাতে পাঁচ জন পুলিশ এসে তার দাদাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তার দাদাকে লাথি মারলে পুলিশের লাথিতে তার দাদা মাটিতে পড়ে যায়। সেখানেই তিনি মারা যায়। ’

নিহত আব্দুল হামিদের মা হালিমা বেওয়া জানান, ‘তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য তিনি পুলিশের পা ধরলে পুলিশ তাকেও ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।’

ওই গ্রামের মৃত ধলা বক্সের ছেলে এসলাম বক্স জানান, ‘রাত ১টার দিকে কয়েকজন পুলিশ তার বাড়িতে ঢুকে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে জানিয়ে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেন। এ সময় আইডি কার্ডের সাথে তার নামের বানানের মিল না থাকায় তাকে আদালত থেকে জামিনের পরামর্শ দেয়।’

অভিযোগের বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামে ধরতে অভিযান দিয়েছিলো। এ সময় অভিযানে একজন আসামিকে আটক করা হয়। পরে আরেকটি বাড়িতে অভিযান দিলে সেই বাড়ি থেকে কোন আসামি পাওয়া যায়নি। পরে ওই বাড়ির অভিভাবকের কাছ থেকে পাশের একটি বাড়ি দেখে নেয়ার জন্য হেল্প চায়। হেল্প চাইলে নামের গরম মিল থাকায় পুলিশ ওখান থেকে আরেক জায়গায় অভিযান দেয়। পরে ওখান থেকে আসার পথে স্থানীয় লোকজন বলছিল যে লোকটি সহযোগিতা করতে বাইরে গিয়েছিল ওই লোকটা স্টকে মারা যায়। পুলিশের আঘাতে মৃত্যুর ঘটনা সঠিক নয়।’

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। ওই পরিবারের কেউ এখনো আমাদের কাছে কোন অভিযোগ করেনি। তারপরও বিষয়টি আমলে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত