জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

দুপচাঁচিয়ায় আলুর ফলন হলেও কৃষক পর্যায়ে লোকসানের বোঝা।



দুপচাঁচিয়ায় আলুর ফলন হলেও কৃষক পর্যায়ে লোকসানের বোঝা।
ছবি-প্রতিনিধি

দুপচাঁচিয়ায় গত কয়েক মৌসুম ধরে আলু চাষে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা। মাঠ থেকে শুরু করে পাইকারি বাজার সহ সব জায়গায় আলুর দামে ধস নেমেছে। কম দামে আলু কিনে স্বস্তিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। তবে উৎপাদন খরচ না ওঠায় হতাশ কৃষকেরা।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া  উপজেলায় নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮ টাকা থেকে ৯ টাকায়। এর সঙ্গে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ৫ কেজি করে ‘ঢলন’ দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। এতে অধিকাংশ চাষিরা তাদের উৎপাদন খরচ তুলতে পারছে না। ফলে গুনতে হচ্ছে লোকসান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,এবার দুপচাঁচিয়া উপজেলাতে 

৪হাজার ৮শ'হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।এর মধ্যে উফসি ৪ হাজার হেক্টর ও স্থানীয় দেশি আলু ৮শ'হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ১লাখ ১৮ হাজার ৯০ মেট্রিক টন আলু। 

আলু চাষি শচীন চন্দ্র দাস  জানান, তার তিন বিঘা জমি ও নলঘড়িয়া গ্রামের আলু চাষী সাজ্জাদ আলী ৯ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। তারা জানান,এবার মাটির আদ্রতা থাকায় দেরিতে আলু চাষ করা হয়েছে। তারপরও আলুর ফলন বেশি হলেও দাম কম এতে করে লোকসানে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।

ফাটাপাকরি আলু প্রতি মন ৩০০ হতে ৩৫০টাকা দরে পাইকারি দামে বিক্রি হচ্ছে।  প্রতি বস্তা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এতে প্রতি বিঘায় ২৪ হাজার থেকে ৩১ হাজার টাকা পাওয়া গেলেও খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা।

কৃষক ফেরদৌস হোসেন বলেন, ‘ঘাম ঝরিয়ে ফলানো আলু ৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হয়েছে। পাইকাররা শুরুতে ৫ টাকা দাম হাঁকলেও শেষ পর্যন্ত ৬ টাকা কেজি দরে কিনেছে। কীটনাশক ব্যবহার না করায় এক বিঘা জমিতে এ বছর আলুর আবাদে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ৮০ মণ আলু পাওয়া যায়। ন্যায্য দাম না পেলে এরপর মাঠেই আলু ফেলে রেখে নষ্ট করব।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুল আবেদীন  জানান, জেলা সহ উপজেলাগুলোতে  আলুভিত্তিক শিল্প-কারখানা চালু হলে স্থানীয়ভাবে নতুন বাজার সৃষ্টি হবে,এতে এলাকার মানুষদের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মূল্য পেতে সক্ষম হবেন। একই সঙ্গে সরকারও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করতে পারবে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দুপচাঁচিয়ায় আলুর ফলন হলেও কৃষক পর্যায়ে লোকসানের বোঝা।

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

দুপচাঁচিয়ায় গত কয়েক মৌসুম ধরে আলু চাষে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা। মাঠ থেকে শুরু করে পাইকারি বাজার সহ সব জায়গায় আলুর দামে ধস নেমেছে। কম দামে আলু কিনে স্বস্তিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। তবে উৎপাদন খরচ না ওঠায় হতাশ কৃষকেরা।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া  উপজেলায় নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮ টাকা থেকে ৯ টাকায়। এর সঙ্গে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ৫ কেজি করে ‘ঢলন’ দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। এতে অধিকাংশ চাষিরা তাদের উৎপাদন খরচ তুলতে পারছে না। ফলে গুনতে হচ্ছে লোকসান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,এবার দুপচাঁচিয়া উপজেলাতে 

৪হাজার ৮শ'হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।এর মধ্যে উফসি ৪ হাজার হেক্টর ও স্থানীয় দেশি আলু ৮শ'হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ১লাখ ১৮ হাজার ৯০ মেট্রিক টন আলু। 

আলু চাষি শচীন চন্দ্র দাস  জানান, তার তিন বিঘা জমি ও নলঘড়িয়া গ্রামের আলু চাষী সাজ্জাদ আলী ৯ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। তারা জানান,এবার মাটির আদ্রতা থাকায় দেরিতে আলু চাষ করা হয়েছে। তারপরও আলুর ফলন বেশি হলেও দাম কম এতে করে লোকসানে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।

ফাটাপাকরি আলু প্রতি মন ৩০০ হতে ৩৫০টাকা দরে পাইকারি দামে বিক্রি হচ্ছে।  প্রতি বস্তা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এতে প্রতি বিঘায় ২৪ হাজার থেকে ৩১ হাজার টাকা পাওয়া গেলেও খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা।

কৃষক ফেরদৌস হোসেন বলেন, ‘ঘাম ঝরিয়ে ফলানো আলু ৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হয়েছে। পাইকাররা শুরুতে ৫ টাকা দাম হাঁকলেও শেষ পর্যন্ত ৬ টাকা কেজি দরে কিনেছে। কীটনাশক ব্যবহার না করায় এক বিঘা জমিতে এ বছর আলুর আবাদে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ৮০ মণ আলু পাওয়া যায়। ন্যায্য দাম না পেলে এরপর মাঠেই আলু ফেলে রেখে নষ্ট করব।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুল আবেদীন  জানান, জেলা সহ উপজেলাগুলোতে  আলুভিত্তিক শিল্প-কারখানা চালু হলে স্থানীয়ভাবে নতুন বাজার সৃষ্টি হবে,এতে এলাকার মানুষদের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মূল্য পেতে সক্ষম হবেন। একই সঙ্গে সরকারও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করতে পারবে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত