জয়পুরহাট    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

পাঁচবিবিতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নাম থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ উধাও



পাঁচবিবিতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নাম থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ উধাও
ছবি-সংগৃহীত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণে নির্মিত ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও সংরক্ষণশালা’থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটিই মুছে ফেলা হয়েছে। শুধু নাম পরিবর্তনই নয়, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতিবিজড়িত এই জাদুঘরটিকে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে ময়লা রাখার ভাগাড় বা ডাস্টবিন হিসেবে। এমন ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ২০২২ সালের ১৮ এপ্রিল পাঁচবিবি পৌরসভা ভবনের তৃতীয় তলায় ‘পাঁচবিবি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও সংরক্ষণশালা’র উদ্বোধন করেন তৎকালীন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান (এন.আই.খান)। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, যুদ্ধের সরঞ্জাম, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ও দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই জাদুঘরটি অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাদুঘরের মূল ফলক থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি কৌশলে মুছে দিয়ে সেখানে কেবল ‘পাঁচবিবি জাদুঘর সংরক্ষণশালা’ লিখে রাখা হয়েছে। জাদুঘরের ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের স্মারকগুলোর ওপর জমেছে ধুলোর আস্তরণ, আর কক্ষের এক কোণে স্তূপ করে রাখা হয়েছে পৌরসভার ডাস্টবিন।

উপজেলার আয়মারাসুলপুর ইউনিয়নের আগইর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জাল হোসেন, স্থানীয় মুক্তা আক্তারসহ অন্য বাসিন্দারা বলেন, স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির ইন্ধন ছাড়া এমন দুঃসাহস দেখানো সম্ভব নয়। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলার মালিদহ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক মন্ডলের ছেলে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে ব্যঙ্গ করার চক্রান্তেরই অংশ এটি। যারা আমাদের গৌরবের ইতিহাস মুছে ফেলতে চায়, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

পাঁচবিবি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রউফ বুলু বলেন, এটা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক কাজ, ঘৃণিত কাজ। এটাকে কে সরালো, কে নাম কাটলো, এটা কার ইন্ধনে হলো- এটা আমরা একটু জানতে চাই।

জয়পুরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহুরুল আলম তরফদার রুকু বলেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নামফলক তুলে দেওয়া একটি নিন্দনীয় অপরাধ। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পাঁচবিবি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জোবাইদুল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শব্দটি মুছে ফেলা এবং সেখানে ডাস্টবিন রাখা অত্যন্ত অনুচিত হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নামফলকটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনব।

এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম হোসেন বলেন, জাদুঘরটি দীর্ঘদিন সঠিক ব্যবস্থাপনায় ছিল না। এটি সংস্কার করে নতুনভাবে এবং সুন্দর পরিবেশে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


পাঁচবিবিতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নাম থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ উধাও

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণে নির্মিত ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও সংরক্ষণশালা’থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটিই মুছে ফেলা হয়েছে। শুধু নাম পরিবর্তনই নয়, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতিবিজড়িত এই জাদুঘরটিকে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে ময়লা রাখার ভাগাড় বা ডাস্টবিন হিসেবে। এমন ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ২০২২ সালের ১৮ এপ্রিল পাঁচবিবি পৌরসভা ভবনের তৃতীয় তলায় ‘পাঁচবিবি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও সংরক্ষণশালা’র উদ্বোধন করেন তৎকালীন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান (এন.আই.খান)। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, যুদ্ধের সরঞ্জাম, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ও দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই জাদুঘরটি অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাদুঘরের মূল ফলক থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি কৌশলে মুছে দিয়ে সেখানে কেবল ‘পাঁচবিবি জাদুঘর সংরক্ষণশালা’ লিখে রাখা হয়েছে। জাদুঘরের ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের স্মারকগুলোর ওপর জমেছে ধুলোর আস্তরণ, আর কক্ষের এক কোণে স্তূপ করে রাখা হয়েছে পৌরসভার ডাস্টবিন।

উপজেলার আয়মারাসুলপুর ইউনিয়নের আগইর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জাল হোসেন, স্থানীয় মুক্তা আক্তারসহ অন্য বাসিন্দারা বলেন, স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির ইন্ধন ছাড়া এমন দুঃসাহস দেখানো সম্ভব নয়। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলার মালিদহ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক মন্ডলের ছেলে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে ব্যঙ্গ করার চক্রান্তেরই অংশ এটি। যারা আমাদের গৌরবের ইতিহাস মুছে ফেলতে চায়, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

পাঁচবিবি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রউফ বুলু বলেন, এটা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক কাজ, ঘৃণিত কাজ। এটাকে কে সরালো, কে নাম কাটলো, এটা কার ইন্ধনে হলো- এটা আমরা একটু জানতে চাই।

জয়পুরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহুরুল আলম তরফদার রুকু বলেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নামফলক তুলে দেওয়া একটি নিন্দনীয় অপরাধ। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পাঁচবিবি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জোবাইদুল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শব্দটি মুছে ফেলা এবং সেখানে ডাস্টবিন রাখা অত্যন্ত অনুচিত হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নামফলকটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনব।

এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম হোসেন বলেন, জাদুঘরটি দীর্ঘদিন সঠিক ব্যবস্থাপনায় ছিল না। এটি সংস্কার করে নতুনভাবে এবং সুন্দর পরিবেশে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত