ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ ও জয়পুরহাট-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে জমা দেওয়া ১৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: আল-মামুন মিয়া ওই ৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া করা হয়েছে। এসময় পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, জেলা নির্বাচন অফিসার মাহমুদ হাসান, জয়পুরহাট-১ ও জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী, প্রস্তাবক, সমর্থকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ব্যাংকের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনের আটজন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অপর চারজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর, ক্ষেতলাল ও কালাই) আসনে মোট ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে এবং অপর তিনজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
যেসব কারণে ৭ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
জয়পুরহাট-১ আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া সাত প্রার্থীরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী জালাল উদ্দিন মন্ডল, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী সুলতান মো: শামছুজ্জামান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন।
জালাল উদ্দিন মন্ডলের প্রার্থীতা বাতিলের কারণ হিসেবে তার ১ শতাংশ ভোটার সমর্থনে গরমিল, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, আয়কর জমা না দেওয়া ও ব্যাংকের হিসাব নম্বর ভুল রয়েছে। সাবেকুন নাহার তার ১ শতাংশ ভোটার সমর্থনে গরমিল রয়েছে। সুলতান মো: শামছুজ্জামান হলফনামায় স্বাক্ষর করেননি। এছাড়া আনোয়ার হোসেন ফরম ২০ ও ২১ দাখিল করেননি।
অপরদিকে জয়পুরহাট-২ আসনে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন- আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির এস.এম. জাহিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্বাস আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুর ইসলাম।
প্রার্থীতা বাতিলের কারণ হিসেবে এস.এম. জাহিদ হলফনামায় স্বাক্ষর করেননি। এছাড়া তিনি আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি। মো. আব্বাস আলীর ১ শতাংশ ভোটার সমর্থনে গরমিল রয়েছে। আমিনুর ইসলাম তার ১ শতাংশ ভোটার সমর্থনে গরমিল ও আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি।
যাদের মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছে
জয়পুরহাট-১ আসনে মনোনয়নের বৈধতা পেয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) তৌফিতা দেওয়ান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদ, বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রার্থী ওয়াজেদ আলী।
অপরদিকে জয়পুরহাট-২ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী সাবেক সচিব আব্দুল বারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস. এম. রাশেদুল আলম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফার মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।
বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তবে গ্রহণযোগ্য হয়নি
যাচাই-বাছাইয়ের সময় জয়পুরহাট-২ আসনের বিএনপির দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তফা নিজে ও তার নিয়োজিত দুইজন আইনজীবীর মাধ্যমে বিএনপির দলীয় প্রার্থী সাবেক সচিব আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য, মামলার তথ্য গরমিলসহ বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ে অভিযোগগুলো গুরুতর না হওয়ায় তা গ্রহণযোগ্য হয়নি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তফা বলেন, আমি ও আমার আইনজীবী বিএনপির প্রার্থী আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে তথ্য গরমিল ও গোপনের অভিযোগ করেছিলাম। অভিযোগ গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
বিএনপির দলীয় প্রার্থী আব্দুল বারী বলেন, আমি কোন তথ্য গোপন করিনি। আমার বিরুদ্ধে রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগগুলো প্রমাণ হয়নি।
এ প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: আল-মামুন মিয়া বলেন, ৩৫ জয়পুরহাট-২ আসনের একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল, তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। তবে আরপিও অনুযায়ী অভিযোগ করার সুযোগ কেবল সংশ্লিষ্ট আসনের প্রস্তাবকারী, সমর্থনকারী, প্রার্থী অথবা তার নিয়োগকৃত এজেন্টের থাকে। যিনি অভিযোগ করেছিলেন, তিনি এই কোনো ক্যাটাগরিতেই পড়েন না। তবুও আমরা তার বক্তব্য শুনেছি। কিন্তু তিনি তার অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি বা দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। তাই প্রমাণ না থাকায় আমরা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছি এবং অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছি। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী অভিযোগ করলে আমরা সেটি গুরুতর মনে করিনি।
তদন্তে গরমিল ও অসঙ্গতি পাওয়ায় মনোনয়ন বাতিল, থাকছে আপিলের সুযোগ
জেলার দুইটি আসনে ১৪ জনের মনোনয়নপত্রের বিপরীতে ৭টি বৈধ পাওয়া গেছে এবং অবশিষ্ট ৭টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো: আল-মামুন মিয়া। তিনি বলেন, বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৪ জন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নিয়ম অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা জমা দিতে হয়। নির্বাচন কমিশন দৈবচয়নের ভিত্তিতে সেই তালিকা থেকে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করার নির্দেশ দেয়। আমাদের নিয়োগকৃত তদন্তকারী কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদন্ত করে ওই ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি পাওয়ায় সেই মনোনয়নপত্র গুলো বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, প্রার্থীরা হলফনামায় স্বাক্ষর করেননি, 'ফরম-২০' ও 'ফরম-২১' যথাযথভাবে পূরণ করেননি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আইনি বিধান পর্যালোচনা করে আরপিও অনুযায়ী সঠিক না হওয়ায় আমরা সেগুলো বাতিল করেছি।
তিনি বলেন, বাছাইয়ের এই সিদ্ধান্তে যদি কোনো পক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়, তবে সংবিধিবদ্ধ নিয়মানুযায়ী তারা কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন। দুই পক্ষ থেকেই আপিলের সুযোগ রয়েছে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালটে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফলের বিরুদ্ধে ৫-৯ জানুয়ারি আপিল করতে পারবেন এবং ১০-১৮ জানুয়ারি তা নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি। প্রতীক পাওয়ার পরই প্রার্থীরা প্রচারণায় নামতে পারবেন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ ও জয়পুরহাট-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে জমা দেওয়া ১৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: আল-মামুন মিয়া ওই ৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া করা হয়েছে। এসময় পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, জেলা নির্বাচন অফিসার মাহমুদ হাসান, জয়পুরহাট-১ ও জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী, প্রস্তাবক, সমর্থকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ব্যাংকের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনের আটজন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অপর চারজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর, ক্ষেতলাল ও কালাই) আসনে মোট ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে এবং অপর তিনজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
যেসব কারণে ৭ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
জয়পুরহাট-১ আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া সাত প্রার্থীরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী জালাল উদ্দিন মন্ডল, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী সুলতান মো: শামছুজ্জামান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন।
জালাল উদ্দিন মন্ডলের প্রার্থীতা বাতিলের কারণ হিসেবে তার ১ শতাংশ ভোটার সমর্থনে গরমিল, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, আয়কর জমা না দেওয়া ও ব্যাংকের হিসাব নম্বর ভুল রয়েছে। সাবেকুন নাহার তার ১ শতাংশ ভোটার সমর্থনে গরমিল রয়েছে। সুলতান মো: শামছুজ্জামান হলফনামায় স্বাক্ষর করেননি। এছাড়া আনোয়ার হোসেন ফরম ২০ ও ২১ দাখিল করেননি।
অপরদিকে জয়পুরহাট-২ আসনে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন- আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির এস.এম. জাহিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্বাস আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুর ইসলাম।
প্রার্থীতা বাতিলের কারণ হিসেবে এস.এম. জাহিদ হলফনামায় স্বাক্ষর করেননি। এছাড়া তিনি আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি। মো. আব্বাস আলীর ১ শতাংশ ভোটার সমর্থনে গরমিল রয়েছে। আমিনুর ইসলাম তার ১ শতাংশ ভোটার সমর্থনে গরমিল ও আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি।
যাদের মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছে
জয়পুরহাট-১ আসনে মনোনয়নের বৈধতা পেয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) তৌফিতা দেওয়ান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদ, বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রার্থী ওয়াজেদ আলী।
অপরদিকে জয়পুরহাট-২ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী সাবেক সচিব আব্দুল বারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস. এম. রাশেদুল আলম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফার মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।
বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তবে গ্রহণযোগ্য হয়নি
যাচাই-বাছাইয়ের সময় জয়পুরহাট-২ আসনের বিএনপির দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তফা নিজে ও তার নিয়োজিত দুইজন আইনজীবীর মাধ্যমে বিএনপির দলীয় প্রার্থী সাবেক সচিব আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য, মামলার তথ্য গরমিলসহ বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ে অভিযোগগুলো গুরুতর না হওয়ায় তা গ্রহণযোগ্য হয়নি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তফা বলেন, আমি ও আমার আইনজীবী বিএনপির প্রার্থী আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে তথ্য গরমিল ও গোপনের অভিযোগ করেছিলাম। অভিযোগ গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
বিএনপির দলীয় প্রার্থী আব্দুল বারী বলেন, আমি কোন তথ্য গোপন করিনি। আমার বিরুদ্ধে রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগগুলো প্রমাণ হয়নি।
এ প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: আল-মামুন মিয়া বলেন, ৩৫ জয়পুরহাট-২ আসনের একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল, তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। তবে আরপিও অনুযায়ী অভিযোগ করার সুযোগ কেবল সংশ্লিষ্ট আসনের প্রস্তাবকারী, সমর্থনকারী, প্রার্থী অথবা তার নিয়োগকৃত এজেন্টের থাকে। যিনি অভিযোগ করেছিলেন, তিনি এই কোনো ক্যাটাগরিতেই পড়েন না। তবুও আমরা তার বক্তব্য শুনেছি। কিন্তু তিনি তার অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি বা দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। তাই প্রমাণ না থাকায় আমরা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছি এবং অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছি। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী অভিযোগ করলে আমরা সেটি গুরুতর মনে করিনি।
তদন্তে গরমিল ও অসঙ্গতি পাওয়ায় মনোনয়ন বাতিল, থাকছে আপিলের সুযোগ
জেলার দুইটি আসনে ১৪ জনের মনোনয়নপত্রের বিপরীতে ৭টি বৈধ পাওয়া গেছে এবং অবশিষ্ট ৭টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো: আল-মামুন মিয়া। তিনি বলেন, বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৪ জন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নিয়ম অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা জমা দিতে হয়। নির্বাচন কমিশন দৈবচয়নের ভিত্তিতে সেই তালিকা থেকে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করার নির্দেশ দেয়। আমাদের নিয়োগকৃত তদন্তকারী কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদন্ত করে ওই ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি পাওয়ায় সেই মনোনয়নপত্র গুলো বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, প্রার্থীরা হলফনামায় স্বাক্ষর করেননি, 'ফরম-২০' ও 'ফরম-২১' যথাযথভাবে পূরণ করেননি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আইনি বিধান পর্যালোচনা করে আরপিও অনুযায়ী সঠিক না হওয়ায় আমরা সেগুলো বাতিল করেছি।
তিনি বলেন, বাছাইয়ের এই সিদ্ধান্তে যদি কোনো পক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়, তবে সংবিধিবদ্ধ নিয়মানুযায়ী তারা কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন। দুই পক্ষ থেকেই আপিলের সুযোগ রয়েছে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালটে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফলের বিরুদ্ধে ৫-৯ জানুয়ারি আপিল করতে পারবেন এবং ১০-১৮ জানুয়ারি তা নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি। প্রতীক পাওয়ার পরই প্রার্থীরা প্রচারণায় নামতে পারবেন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন