জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদের বিরুদ্ধে সরকারি দরপত্রসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা।
সোমবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে ‘সাধারণ ঠিকাদার ও আক্কেলপুরবাসী’ ব্যানারে আয়োজিত ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধনে স্থানীয় ঠিকাদার, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সেবাগ্রহীতারা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের বিভিন্ন সরকারি দরপত্রে স্বচ্ছতা বজায় না রেখে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। দরপত্র মূল্যায়নে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। পাশাপাশি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয় ও বিতরণেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়।
বক্তারা আরও দাবি করেন, সরকারি বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে এবং সাধারণ রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অসদাচরণ ও দায়িত্বে অবহেলার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। এতে করে হাসপাতালের সেবার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, ডা. আবু শফি মাহমুদ যোগদানের পর থেকে তার নিজ এলাকা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের মাধ্যমে হাসপাতালের পথ্যসহ প্রায় সব ধরনের সরবরাহ কাজ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করাচ্ছেন। এর ফলে নিম্নমানের মালামাল হাসপাতাল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের ক্ষতি হচ্ছে।
মানববন্ধনে স্থানীয় ঠিকাদার এম কেরামত আলী একটি নির্দিষ্ট দরপত্রের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, হাসপাতালের আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য টেন্ডার আইডি নং-১১৪৭৫৪২ এ তিনি সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলেন। কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে চতুর্থ সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ৫১ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একইভাবে অন্যান্য দরপত্রেও ইচ্ছামতো ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের লাখ লাখ টাকা ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মানববন্ধন শেষে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, পিপিআর ২০২৫ অনুসরণ না করে দরপত্রে স্বেচ্ছাচারী ও অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া ডা. আবু শফি মাহমুদ এর আগে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুর রশিদ বলেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত অভিযোগ গুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানায়
এদিকে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। আসবাবপত্র ক্রয়ের দরপত্রে এম কেরামত আলী পাঁচ থেকে ছয়টি গুরুতর শর্ত ভঙ্গ করেছেন। সে কারণেই তিনি কাজ পাননি। কাজ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সব অভিযোগই সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদের বিরুদ্ধে সরকারি দরপত্রসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা।
সোমবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে ‘সাধারণ ঠিকাদার ও আক্কেলপুরবাসী’ ব্যানারে আয়োজিত ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধনে স্থানীয় ঠিকাদার, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সেবাগ্রহীতারা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের বিভিন্ন সরকারি দরপত্রে স্বচ্ছতা বজায় না রেখে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। দরপত্র মূল্যায়নে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। পাশাপাশি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয় ও বিতরণেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়।
বক্তারা আরও দাবি করেন, সরকারি বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে এবং সাধারণ রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অসদাচরণ ও দায়িত্বে অবহেলার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। এতে করে হাসপাতালের সেবার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, ডা. আবু শফি মাহমুদ যোগদানের পর থেকে তার নিজ এলাকা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের মাধ্যমে হাসপাতালের পথ্যসহ প্রায় সব ধরনের সরবরাহ কাজ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করাচ্ছেন। এর ফলে নিম্নমানের মালামাল হাসপাতাল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের ক্ষতি হচ্ছে।
মানববন্ধনে স্থানীয় ঠিকাদার এম কেরামত আলী একটি নির্দিষ্ট দরপত্রের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, হাসপাতালের আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য টেন্ডার আইডি নং-১১৪৭৫৪২ এ তিনি সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলেন। কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে চতুর্থ সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ৫১ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একইভাবে অন্যান্য দরপত্রেও ইচ্ছামতো ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের লাখ লাখ টাকা ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মানববন্ধন শেষে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, পিপিআর ২০২৫ অনুসরণ না করে দরপত্রে স্বেচ্ছাচারী ও অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া ডা. আবু শফি মাহমুদ এর আগে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুর রশিদ বলেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত অভিযোগ গুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানায়
এদিকে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। আসবাবপত্র ক্রয়ের দরপত্রে এম কেরামত আলী পাঁচ থেকে ছয়টি গুরুতর শর্ত ভঙ্গ করেছেন। সে কারণেই তিনি কাজ পাননি। কাজ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সব অভিযোগই সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

আপনার মতামত লিখুন