জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপ, পরিবর্তন হতে পারে বিএনপির প্রার্থী তালিকা



মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপ, পরিবর্তন হতে পারে বিএনপির প্রার্থী তালিকা
ছবি-সংগৃহীত

জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে চাপে পড়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, মনোনয়ন বঞ্চিতদের বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে এবং প্রয়োজন হলে প্রার্থী পরিবর্তনও করা হতে পারে।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। ইতোমধ্যে মাদারীপুর-১ আসনের প্রার্থীর নাম স্থগিত করা হয়েছে।

গত সোমবার বিকেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩০০ আসনের মধ্যে প্রবীণ ও নবীন নেতাদের সমন্বয়ে ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

তবে ঘোষিত এ তালিকায় দলের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার নাম নেই। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, আসলাম চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জয়নুল আবেদীন, আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবির, সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হাইসহ আরও অনেকে।

দলীয় প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকায় এসব নেতারা এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি, তবে তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোমবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা বিক্ষোভে নেমেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা গেছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা হতাশ হলেও দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। অনেকে ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তবে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন, কেন নাম তালিকায় নেই, তা তাঁরা নিজেরাও জানেন না।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “ঘোষিত তালিকাটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা। প্রয়োজন মনে করলে স্থায়ী কমিটি পুনর্বিবেচনা করে পরিবর্তন আনতে পারে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মনোনয়ন ইস্যুতে নেতাকর্মীদের ভেতরকার অসন্তোষ বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঠপর্যায়ে ঐক্য রক্ষার পাশাপাশি নির্বাচনী কৌশল ঠিক রাখতে এখন দলটির সামনে সবচেয়ে বড় কাজ হলো অভ্যন্তরীণ সংকট কাটিয়ে ওঠা।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপ, পরিবর্তন হতে পারে বিএনপির প্রার্থী তালিকা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে চাপে পড়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, মনোনয়ন বঞ্চিতদের বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে এবং প্রয়োজন হলে প্রার্থী পরিবর্তনও করা হতে পারে।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। ইতোমধ্যে মাদারীপুর-১ আসনের প্রার্থীর নাম স্থগিত করা হয়েছে।

গত সোমবার বিকেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩০০ আসনের মধ্যে প্রবীণ ও নবীন নেতাদের সমন্বয়ে ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

তবে ঘোষিত এ তালিকায় দলের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার নাম নেই। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, আসলাম চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জয়নুল আবেদীন, আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবির, সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হাইসহ আরও অনেকে।

দলীয় প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকায় এসব নেতারা এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি, তবে তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোমবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা বিক্ষোভে নেমেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা গেছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা হতাশ হলেও দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। অনেকে ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তবে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন, কেন নাম তালিকায় নেই, তা তাঁরা নিজেরাও জানেন না।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “ঘোষিত তালিকাটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা। প্রয়োজন মনে করলে স্থায়ী কমিটি পুনর্বিবেচনা করে পরিবর্তন আনতে পারে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মনোনয়ন ইস্যুতে নেতাকর্মীদের ভেতরকার অসন্তোষ বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঠপর্যায়ে ঐক্য রক্ষার পাশাপাশি নির্বাচনী কৌশল ঠিক রাখতে এখন দলটির সামনে সবচেয়ে বড় কাজ হলো অভ্যন্তরীণ সংকট কাটিয়ে ওঠা।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত