জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

জয়পুরহাটে অপহরণের নাটক: ছেলেকে অপহরণের হুমকি, টাকা নিতে গিয়ে ধরা পড়লেন জামাতা!



জয়পুরহাটে অপহরণের নাটক: ছেলেকে অপহরণের হুমকি, টাকা নিতে গিয়ে ধরা পড়লেন জামাতা!
ছবি- এআই

ছেলেকে অপহরণের হুমকি দিয়ে বাবার কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল এক দুর্বৃত্তচক্র। ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায়। প্রায় এক মাস আগে এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরামর্শে তাঁরা হুমকিদাতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। একপর্যায়ে টাকার পরিমাণ কমিয়ে ৫ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।

নির্ধারিত দিনে রাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী টাকা ভরা ব্যাগের পরিবর্তে রাখা হয় একটি ‘ডামি’ ব্যাগ। পরিবার ও পুলিশ সদস্যরা আড়াল থেকে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। কিছু সময় পর এক ব্যক্তি টাকা নিতে সেখানে এলে তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে ধরা পড়ার পর সবাই অবাক হয়ে যান—কারণ ওই ব্যক্তি আর কেউ নন, পরিবারেরই জামাতা রাসেল আহাম্মেদ।

রাসেল আহাম্মেদ কালাই উপজেলার দক্ষিণ পাকুরিয়া গ্রামের মোক্তার আলীর ছেলে। তাঁর শ্বশুরবাড়ি একই উপজেলার একডালা গ্রামে। ধরা পড়ার পর রাসেল স্বীকার করেন, তিনি শ্যালকের ছেলেকে অপহরণের হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন। পরে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


কিন্তু এখানেই শেষ নয়—শ্বশুরবাড়ি থেকে ছাড়া পাওয়ার পর পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। মারধরের শিকার হয়ে রাসেল হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। আদালত কালাই থানার ওসিকে মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। ফলে তাঁর শ্বশুর শাহিদুল ইসলাম, শ্যালকসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।

অন্যদিকে, শাহিদুল ইসলামও জামাতা রাসেল আহাম্মেদের বিরুদ্ধে থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। তবে থানা–পুলিশ দুই পক্ষের কোনো অভিযোগই আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করেনি।


থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একডালা গ্রামের শাহিদুল ইসলামের হোয়াটসঅ্যাপে এক অচেনা নম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁর সাত বছর বয়সী ছেলে শাহরিয়ারকে অপহরণের পর হত্যা করে গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর শাহিদুল ২৭ সেপ্টেম্বর থানায় জিডি করেন। পরবর্তী সময়ে হুমকি অব্যাহত থাকায় তিনি আবারও পুলিশকে অবহিত করেন। পরিশেষে ৫ লাখ টাকায় রফা হয় এবং তাঁকে ভাবকী গ্রামের ইটাখোলা-নিশ্চিন্তা সড়কের তিনমাথা মোড়ে টাকা রাখতে বলা হয়।

শাহিদুল ও তাঁর স্বজনেরা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘ডামি’ ব্যাগ রেখে আড়ালে অবস্থান নেন। রাত ১০টার দিকে রাসেল আহাম্মেদ সেখানে উপস্থিত হয়ে ব্যাগ তুলতে গেলে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলে স্বজনেরা। পরে তাঁকে বেঁধে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়।


পরদিন স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসান আলীর মধ্যস্থতায় রাসেলকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর তিনি জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।

বর্তমানে রাসেল নিজ বাড়িতে রয়েছেন। তিনি বলেন, “স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছে। ওই সুযোগে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে ফাঁসানোর জন্য টাকা চাওয়ার নাটক সাজিয়েছে। সেদিন রাতে আমি মায়ের ওষুধ কিনে ফিরছিলাম, তখন আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। তাই আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি, কিন্তু পুলিশ এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”


অন্যদিকে শাহিদুল ইসলাম বলেন, “হুমকিদাতার সঙ্গে কথাবার্তার পর নির্ধারিত রাতে টাকা রেখে আমরা আড়ালে ছিলাম। তখন দেখি, টাকা নিতে আসে আমার বোনজামাই রাসেল। আমরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধরে ফেলি। পরে স্থানীয়ভাবে আপস মীমাংসা হয়।” তবে রাসেল দাবি করেন, “তাঁরা আমার কাছেই টাকা দাবি করেছিলেন, আমি কোনো আপস করিনি।”

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, “শাহিদুল ইসলামের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ১৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল, সে সময় থানায় জিডি করা হয়। নম্বরটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে টাকা নিতে গিয়ে রাসেল আহাম্মেদ ধরা পড়ে। বর্তমানে রাসেল আদালতে মামলা করেছেন, শাহিদুলও থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। আদালতের আদেশের কপি থানায় এসেছে, শিগগিরই মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে।”

 

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


জয়পুরহাটে অপহরণের নাটক: ছেলেকে অপহরণের হুমকি, টাকা নিতে গিয়ে ধরা পড়লেন জামাতা!

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

ছেলেকে অপহরণের হুমকি দিয়ে বাবার কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল এক দুর্বৃত্তচক্র। ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায়। প্রায় এক মাস আগে এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরামর্শে তাঁরা হুমকিদাতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। একপর্যায়ে টাকার পরিমাণ কমিয়ে ৫ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।

নির্ধারিত দিনে রাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী টাকা ভরা ব্যাগের পরিবর্তে রাখা হয় একটি ‘ডামি’ ব্যাগ। পরিবার ও পুলিশ সদস্যরা আড়াল থেকে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। কিছু সময় পর এক ব্যক্তি টাকা নিতে সেখানে এলে তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে ধরা পড়ার পর সবাই অবাক হয়ে যান—কারণ ওই ব্যক্তি আর কেউ নন, পরিবারেরই জামাতা রাসেল আহাম্মেদ।

রাসেল আহাম্মেদ কালাই উপজেলার দক্ষিণ পাকুরিয়া গ্রামের মোক্তার আলীর ছেলে। তাঁর শ্বশুরবাড়ি একই উপজেলার একডালা গ্রামে। ধরা পড়ার পর রাসেল স্বীকার করেন, তিনি শ্যালকের ছেলেকে অপহরণের হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন। পরে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


কিন্তু এখানেই শেষ নয়—শ্বশুরবাড়ি থেকে ছাড়া পাওয়ার পর পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। মারধরের শিকার হয়ে রাসেল হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। আদালত কালাই থানার ওসিকে মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। ফলে তাঁর শ্বশুর শাহিদুল ইসলাম, শ্যালকসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।

অন্যদিকে, শাহিদুল ইসলামও জামাতা রাসেল আহাম্মেদের বিরুদ্ধে থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। তবে থানা–পুলিশ দুই পক্ষের কোনো অভিযোগই আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করেনি।


থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একডালা গ্রামের শাহিদুল ইসলামের হোয়াটসঅ্যাপে এক অচেনা নম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁর সাত বছর বয়সী ছেলে শাহরিয়ারকে অপহরণের পর হত্যা করে গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর শাহিদুল ২৭ সেপ্টেম্বর থানায় জিডি করেন। পরবর্তী সময়ে হুমকি অব্যাহত থাকায় তিনি আবারও পুলিশকে অবহিত করেন। পরিশেষে ৫ লাখ টাকায় রফা হয় এবং তাঁকে ভাবকী গ্রামের ইটাখোলা-নিশ্চিন্তা সড়কের তিনমাথা মোড়ে টাকা রাখতে বলা হয়।

শাহিদুল ও তাঁর স্বজনেরা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘ডামি’ ব্যাগ রেখে আড়ালে অবস্থান নেন। রাত ১০টার দিকে রাসেল আহাম্মেদ সেখানে উপস্থিত হয়ে ব্যাগ তুলতে গেলে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলে স্বজনেরা। পরে তাঁকে বেঁধে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়।


পরদিন স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসান আলীর মধ্যস্থতায় রাসেলকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর তিনি জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।

বর্তমানে রাসেল নিজ বাড়িতে রয়েছেন। তিনি বলেন, “স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছে। ওই সুযোগে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে ফাঁসানোর জন্য টাকা চাওয়ার নাটক সাজিয়েছে। সেদিন রাতে আমি মায়ের ওষুধ কিনে ফিরছিলাম, তখন আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। তাই আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি, কিন্তু পুলিশ এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”


অন্যদিকে শাহিদুল ইসলাম বলেন, “হুমকিদাতার সঙ্গে কথাবার্তার পর নির্ধারিত রাতে টাকা রেখে আমরা আড়ালে ছিলাম। তখন দেখি, টাকা নিতে আসে আমার বোনজামাই রাসেল। আমরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধরে ফেলি। পরে স্থানীয়ভাবে আপস মীমাংসা হয়।” তবে রাসেল দাবি করেন, “তাঁরা আমার কাছেই টাকা দাবি করেছিলেন, আমি কোনো আপস করিনি।”

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, “শাহিদুল ইসলামের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ১৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল, সে সময় থানায় জিডি করা হয়। নম্বরটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে টাকা নিতে গিয়ে রাসেল আহাম্মেদ ধরা পড়ে। বর্তমানে রাসেল আদালতে মামলা করেছেন, শাহিদুলও থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। আদালতের আদেশের কপি থানায় এসেছে, শিগগিরই মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে।”

 


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত