২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে জারির দাবিতে জয়পুরহাটে সমাবেশ করেছেন শিক্ষকেরা। একইসাথে তারা আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের উপর পুলিশের হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় জেলা শহরের জিরো পয়েন্ট মসজিদ মার্কেটের সামনে জয়পুরহাট জেলা কলেজ শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ব্যানারে এই কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।
'বিপন্ন শিক্ষা বাঁচাতে এগিয়ে আসুন' এই স্লোগানে আয়োজিত এই কর্মসূচীতে জয়পুরহাট মহিলা কলেজের শিক্ষক সুলতানা পারভীন বলেন, কয়েকদিন আগে আমাদের শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিব ম্যাডাম বলেছেন আমাদের যোগ্যতা অর্জন করতে। আমরা যদি যোগ্যতা অর্জন করে এগিয়ে যাই, তবেই তিনি আমাদের পাওনাটুকু দেবেন। কেন বলেছেন এই কথা? আমাদের এতো বছরের শিক্ষকতায় আমরা কি অযোগ্য? দেব মন্ত্রী তো অনেকই দেখলাম, কি দিয়েছেন আপনারা? দেব, দিব বলতে বলতে আজ আমাদের রাজপথে নামিয়েছেন। আপনারা কেন এতোগুলো প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করেছিলেন। তখন কেন মনে হয়নি আমরা অযোগ্য।
দোগাছী উচ্চ বিদ্যালয় ভোকেশনাল শাখার শিক্ষক জেবুন নাহার বলেন, শিক্ষকেরা তাদের নায্য কথা বলতে গিয়ে বারবার নির্যাতিত হয়েছে। শিক্ষকেরা পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের পুলিশ পোস্টে নিয়ে গিয়ে অপমান করা হয়েছে। আমি জাতি ও দেশের আপামর জনসাধারণ, সরকার প্রধানের কাছে প্রশ্ন রেখে যাই- এই অন্দোলন কি শুধু শিক্ষকদের আন্দোলন? রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনের আন্দোলন নয় কি? শিক্ষা সংস্কার হলো সকল সংস্কারের মূল এবং প্রধান। শিক্ষকদের দাবি সরকারে মানতেই হবে, কোন বাহানা চলবে না।
ধুরইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন বলেন, আমরা তো বেশি কিছু চাইনি, শুধু চেয়েছি বৈষম্য দূর করতে। সরকারি যারা আছেন তারা বাড়ি ভাড়া পায় ৪৫ শতাংশ, কিন্তু আমরা পাই মাত্র এক হাজার টাকা। মাত্র এক হাজার টাকায় কি একটি মুরগির ঘর পাওয়া যাবে? এটা আমাদের জন্য অপমানজনক। মেডিকেল পাঁচশত টাকা, কিন্তু একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর ফি এক হাজার টাকা। তাহলে আমরা কিভাবে এগিয়ে যাবো?
তিনি বলেন, আজকে আমরা পেটের ক্ষুধায় পরিবার নিয়ে দিশেহারা যেসময়ে, সেসময়ে সচিবালয়ে যে টাকা নষ্ট করা হয়, গাড়ি কেনা হয়। কিন্তু আমাদের ভাতা দেওয়া হয় না। সাতদিন ধরে যারা ঢাকায় আন্দোলন করছেন তারা অনেক নির্যাতিত হচ্ছেন। তারা তপ্ত রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন। আমাদের দাবি কি খুবই বেশি? যেখানে গাড়ি কেনা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার, সেখানে আমরা চাইতে গেলে টাকা থাকে না। পুলিশ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী, ওই রাষ্ট্রপতি কোন কোন শিক্ষক তৈরি করেছেন। অথচ আমাদের টাকা দিতে গেলে কোষাগার শূন্য হয়ে যায়। বর্তমান অন্তর্বতী সরকার বলছেন বৈষম্যহীন সমাজ গড়বো, কিন্তু এটা কোন বৈষম্যের শিকার?
এই কর্মসূচীতে জয়পুরহাট জেলা কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও বিএমআই কলেজের অধ্যক্ষ একেএম মুসা সভাপতিত্ব করেন। এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দন, জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক এম.এ ওহাব, জেলা কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জয়পুরহাা মহিলা করেজের শিক্ষক আব্দুল মোমিন, সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ ও ক্ষেতলাল বিএম কলেজের অধ্যক্ষক আলী হাসান মুক্তা, আমদই কলেজের প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ মুসা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৫
২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে জারির দাবিতে জয়পুরহাটে সমাবেশ করেছেন শিক্ষকেরা। একইসাথে তারা আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের উপর পুলিশের হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় জেলা শহরের জিরো পয়েন্ট মসজিদ মার্কেটের সামনে জয়পুরহাট জেলা কলেজ শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ব্যানারে এই কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।
'বিপন্ন শিক্ষা বাঁচাতে এগিয়ে আসুন' এই স্লোগানে আয়োজিত এই কর্মসূচীতে জয়পুরহাট মহিলা কলেজের শিক্ষক সুলতানা পারভীন বলেন, কয়েকদিন আগে আমাদের শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিব ম্যাডাম বলেছেন আমাদের যোগ্যতা অর্জন করতে। আমরা যদি যোগ্যতা অর্জন করে এগিয়ে যাই, তবেই তিনি আমাদের পাওনাটুকু দেবেন। কেন বলেছেন এই কথা? আমাদের এতো বছরের শিক্ষকতায় আমরা কি অযোগ্য? দেব মন্ত্রী তো অনেকই দেখলাম, কি দিয়েছেন আপনারা? দেব, দিব বলতে বলতে আজ আমাদের রাজপথে নামিয়েছেন। আপনারা কেন এতোগুলো প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করেছিলেন। তখন কেন মনে হয়নি আমরা অযোগ্য।
দোগাছী উচ্চ বিদ্যালয় ভোকেশনাল শাখার শিক্ষক জেবুন নাহার বলেন, শিক্ষকেরা তাদের নায্য কথা বলতে গিয়ে বারবার নির্যাতিত হয়েছে। শিক্ষকেরা পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের পুলিশ পোস্টে নিয়ে গিয়ে অপমান করা হয়েছে। আমি জাতি ও দেশের আপামর জনসাধারণ, সরকার প্রধানের কাছে প্রশ্ন রেখে যাই- এই অন্দোলন কি শুধু শিক্ষকদের আন্দোলন? রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনের আন্দোলন নয় কি? শিক্ষা সংস্কার হলো সকল সংস্কারের মূল এবং প্রধান। শিক্ষকদের দাবি সরকারে মানতেই হবে, কোন বাহানা চলবে না।
ধুরইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন বলেন, আমরা তো বেশি কিছু চাইনি, শুধু চেয়েছি বৈষম্য দূর করতে। সরকারি যারা আছেন তারা বাড়ি ভাড়া পায় ৪৫ শতাংশ, কিন্তু আমরা পাই মাত্র এক হাজার টাকা। মাত্র এক হাজার টাকায় কি একটি মুরগির ঘর পাওয়া যাবে? এটা আমাদের জন্য অপমানজনক। মেডিকেল পাঁচশত টাকা, কিন্তু একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর ফি এক হাজার টাকা। তাহলে আমরা কিভাবে এগিয়ে যাবো?
তিনি বলেন, আজকে আমরা পেটের ক্ষুধায় পরিবার নিয়ে দিশেহারা যেসময়ে, সেসময়ে সচিবালয়ে যে টাকা নষ্ট করা হয়, গাড়ি কেনা হয়। কিন্তু আমাদের ভাতা দেওয়া হয় না। সাতদিন ধরে যারা ঢাকায় আন্দোলন করছেন তারা অনেক নির্যাতিত হচ্ছেন। তারা তপ্ত রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন। আমাদের দাবি কি খুবই বেশি? যেখানে গাড়ি কেনা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার, সেখানে আমরা চাইতে গেলে টাকা থাকে না। পুলিশ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী, ওই রাষ্ট্রপতি কোন কোন শিক্ষক তৈরি করেছেন। অথচ আমাদের টাকা দিতে গেলে কোষাগার শূন্য হয়ে যায়। বর্তমান অন্তর্বতী সরকার বলছেন বৈষম্যহীন সমাজ গড়বো, কিন্তু এটা কোন বৈষম্যের শিকার?
এই কর্মসূচীতে জয়পুরহাট জেলা কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও বিএমআই কলেজের অধ্যক্ষ একেএম মুসা সভাপতিত্ব করেন। এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দন, জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক এম.এ ওহাব, জেলা কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জয়পুরহাা মহিলা করেজের শিক্ষক আব্দুল মোমিন, সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ ও ক্ষেতলাল বিএম কলেজের অধ্যক্ষক আলী হাসান মুক্তা, আমদই কলেজের প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ মুসা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আপনার মতামত লিখুন