জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

গরুর বিনিময়ে স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিলেন স্বামী



গরুর বিনিময়ে স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিলেন স্বামী
ছবি- প্রতীকী

স্ত্রী অন্য পুরুষের প্রতি আসক্ত জানার পর বেশিরভাগ পুরুষই হয় হতাশায় ভোগেন নয়তো প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে থাকেন। তবে ইন্দোনেশিয়ার একটি অস্বাভাবিক ঘটনা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। 

ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব সুলাওয়েসি প্রদেশের উত্তর কোনাওয়ে জেলার এক ব্যক্তি শতাব্দী প্রাচীন একটি উপজাতীয় রীতিনীতির মাধ্যমে তার স্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতার সমাধান করেছেন। যেখানে এই দম্পতি বাস করতেন সেই অঞ্চলটি সেখানে তোলাকি জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল। যারা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং গভীর সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের জন্য পরিচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ট্রিবিউননিউজ সুলট্রার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনাওয়ে রিজেন্সির পুউডোম্বি গ্রামের বাসিন্দা এসআরএইচ নামে ওই ব্যক্তি পাঁচ বছর ধরে তার স্ত্রী এনএস-এর সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন। পরে তিনি স্ত্রীর প্রেমের কথা জানতে পারেন। সেপ্টেম্বরে এসআরএইচ তার স্ত্রীকে অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে একটি বোর্ডিং হাউসে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি তাদের সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে পুলিশের কাছে একটি মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য প্রমাণ নিয়ে যান। পরে তারা স্বীকার করেন যে প্রেমিক একটি খনি কোম্পানির কর্মী ছিলেন। স্ত্রীর প্রেমের কথা জানার পরেই ওই ব্যক্তি স্থানীয় প্রবীণদের কাছ থেকে সাহায্য চান। 

এলাকার প্রবীণরা তাদের মোওয়া সারাপু নামক একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে বলেছিলেন। যার অর্থ ‘ছেড়ে দেওয়া এবং শান্তি স্থাপন করা’। শতাব্দী ধরে এই অঞ্চলে প্রচলিত এই রীতিটি বৈবাহিক ঝামেলায় পারস্পরিক পুনর্মিলনের একটি পদ্ধতি হিসেবে কাজ করে। লোকটি তার স্ত্রীকে কিছু নগদ টাকা এবং একটি গরুর বিনিময়ে তার প্রেমিকের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যাতে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মিটে যায়। এই রীতির মাধ্যমে ওই ব্যক্তি তার মর্যাদা রক্ষা করতে এবং  দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে চেয়েছিল। 

এই রীতিটি প্রতীকীভাবে ব্যবহার এনএস-কে যে কোনও অন্যায় থেকে মুক্ত করার জন্য। এই রীতির মেনে চলার কারণ, তোলাকি উপজাতির বিশ্বাস যে, সম্প্রদায়ের মধ্যে ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হলে জড়িত সকলের জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে আনতে পারে।

অনুষ্ঠানের একটি ক্লিপে দেখা যায়, এসআরএইচ এবং এনএস তাদের বাড়ির বয়স্ক লোকজন, আত্মীয়স্বজন এবং এলাকার বাসিন্দাদের সামনে প্রকাশ্যে কথা বলছেন এবং একে অপরের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছেন। ভিডিওতে এসআরএইচ-কে দৃশ্যত আবেগপ্রবণ দেখা গিয়েছে। এমনকি তিনি তার স্ত্রীর প্রেমিকের কাঁধে হাত দিয়ে বলছেন, “দয়া করে তাঁর ভাল যত্ন নেবেন। তাকে কখনও কষ্ট দেবেন না। তিনি কখনও আমার সঙ্গে খুশি হননি।” তারপর, অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে, প্রেমিক এসআরএইচ-কে একটি গরু, একটি বিশেষ কাপড়ের টুকরো, একটি তামার পাত্র এবং নগদ পাঁচ মিলিয়ন রুপি (প্রায় ২৬,০০০ টাকা) উপহার দেন। এর পর, গ্রাম প্রধান জানান যে, এসআরএইচ এবং এনএস-এর বিবাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে গিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গরুর বিনিময়ে স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিলেন স্বামী

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

স্ত্রী অন্য পুরুষের প্রতি আসক্ত জানার পর বেশিরভাগ পুরুষই হয় হতাশায় ভোগেন নয়তো প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে থাকেন। তবে ইন্দোনেশিয়ার একটি অস্বাভাবিক ঘটনা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। 

ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব সুলাওয়েসি প্রদেশের উত্তর কোনাওয়ে জেলার এক ব্যক্তি শতাব্দী প্রাচীন একটি উপজাতীয় রীতিনীতির মাধ্যমে তার স্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতার সমাধান করেছেন। যেখানে এই দম্পতি বাস করতেন সেই অঞ্চলটি সেখানে তোলাকি জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল। যারা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং গভীর সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের জন্য পরিচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ট্রিবিউননিউজ সুলট্রার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনাওয়ে রিজেন্সির পুউডোম্বি গ্রামের বাসিন্দা এসআরএইচ নামে ওই ব্যক্তি পাঁচ বছর ধরে তার স্ত্রী এনএস-এর সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন। পরে তিনি স্ত্রীর প্রেমের কথা জানতে পারেন। সেপ্টেম্বরে এসআরএইচ তার স্ত্রীকে অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে একটি বোর্ডিং হাউসে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি তাদের সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে পুলিশের কাছে একটি মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য প্রমাণ নিয়ে যান। পরে তারা স্বীকার করেন যে প্রেমিক একটি খনি কোম্পানির কর্মী ছিলেন। স্ত্রীর প্রেমের কথা জানার পরেই ওই ব্যক্তি স্থানীয় প্রবীণদের কাছ থেকে সাহায্য চান। 

এলাকার প্রবীণরা তাদের মোওয়া সারাপু নামক একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে বলেছিলেন। যার অর্থ ‘ছেড়ে দেওয়া এবং শান্তি স্থাপন করা’। শতাব্দী ধরে এই অঞ্চলে প্রচলিত এই রীতিটি বৈবাহিক ঝামেলায় পারস্পরিক পুনর্মিলনের একটি পদ্ধতি হিসেবে কাজ করে। লোকটি তার স্ত্রীকে কিছু নগদ টাকা এবং একটি গরুর বিনিময়ে তার প্রেমিকের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যাতে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মিটে যায়। এই রীতির মাধ্যমে ওই ব্যক্তি তার মর্যাদা রক্ষা করতে এবং  দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে চেয়েছিল। 

এই রীতিটি প্রতীকীভাবে ব্যবহার এনএস-কে যে কোনও অন্যায় থেকে মুক্ত করার জন্য। এই রীতির মেনে চলার কারণ, তোলাকি উপজাতির বিশ্বাস যে, সম্প্রদায়ের মধ্যে ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হলে জড়িত সকলের জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে আনতে পারে।

অনুষ্ঠানের একটি ক্লিপে দেখা যায়, এসআরএইচ এবং এনএস তাদের বাড়ির বয়স্ক লোকজন, আত্মীয়স্বজন এবং এলাকার বাসিন্দাদের সামনে প্রকাশ্যে কথা বলছেন এবং একে অপরের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছেন। ভিডিওতে এসআরএইচ-কে দৃশ্যত আবেগপ্রবণ দেখা গিয়েছে। এমনকি তিনি তার স্ত্রীর প্রেমিকের কাঁধে হাত দিয়ে বলছেন, “দয়া করে তাঁর ভাল যত্ন নেবেন। তাকে কখনও কষ্ট দেবেন না। তিনি কখনও আমার সঙ্গে খুশি হননি।” তারপর, অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে, প্রেমিক এসআরএইচ-কে একটি গরু, একটি বিশেষ কাপড়ের টুকরো, একটি তামার পাত্র এবং নগদ পাঁচ মিলিয়ন রুপি (প্রায় ২৬,০০০ টাকা) উপহার দেন। এর পর, গ্রাম প্রধান জানান যে, এসআরএইচ এবং এনএস-এর বিবাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে গিয়েছে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত