জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

ক্ষেতলাল প্রশাসনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ উপজেলা চত্বরে ‘পাখি কলোনি’



ক্ষেতলাল প্রশাসনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ উপজেলা চত্বরে ‘পাখি কলোনি’
ছবি- প্রতিনিধি

বাতাসে ভেসে আসে দোয়েল, শালিক, বাবুই আর টুনটুনির কিচিরমিচির। পাখিদের এমন কোলাহল প্রকৃতিকে এনে দেয় এক সৌন্দর্য। আর এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ চত্বরে গড়ে উঠছে 'পাখি কলোনি'।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শুরু করা হয়েছে এই ব্যতিক্রমী প্রকল্প। উদ্দেশ্য— পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্যের ব্যবস্থা করা, আর সেই সঙ্গে মানুষকে প্রকৃতির আরও কাছাকাছি আনা।


ক্ষেতলাল উপজেলা চত্বরের বিভিন্ন গাছে গাছে মাটির হাড়ি বাঁধানো হচ্ছে। সেখানে বাসা বাঁধবে শালিক, দোয়েল, বাবুই টুনটুনিসহ নানা প্রজাতির দেশীয় পাখি। এছাড়া পুকুরের পানির উপর আড়ানী দেওয়া হয়েছে, যেন সেখানে বসে পাখিরা পুকুর থেকে মাছ শিকার করতে পারে। পাখি কলোনি ঘোষণা করে এই চত্বরে একটি সাইবোর্ড দেওয়া হয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে, পাখিরা ফিরে আসুক মুক্ত আকাশে, ক্ষেতলাল হোক প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য; পাখির কূজনেই জেগে ওঠে ক্ষেতলাল- আসুন এই সুরকে চিরস্থায়ী করি; পাখি শিকার নয়, পাখি রক্ষা হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা; ক্ষেতলাল উপজেলা চত্বর পাখির ডানায় গড়া এক স্বপ্নলোক; পাখি বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, প্রকৃতি বাঁচলে টিকবে ক্ষেতলালের সৌন্দর্য; পাখির কণ্ঠে বাজুক জীবনের সুর, ক্ষেতলাল উপজেলা থাকুক সবুজে ভরপুর; ক্ষেতলাল উপজেলা চত্বর- যেখানে মানুষ আর পাখির মিলনে জন্ম নেয় শান্তি।


স্থানীয় পরিবেশকর্মী এম রাসেল আহমেদ বলেন, যেখানে মানুষ পাখি শিকার করে বা তাড়িয়ে দেয়, সেখানে তাদের জন্য ঘর বানানো হচ্ছে। এটি শুধু পরিবেশ প্রকল্প নয়, এটি সহানুভূতির প্রতীক। পাখি বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, প্রকৃতি বাঁচলেই মানুষ টিকে থাকবে।


ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, পাখি প্রকৃতির প্রাণ, আর প্রকৃতি মানেই জীবন। আমরা উপজেলা পরিষদ চত্বরকে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে মানুষ, গাছ ও পাখি একসঙ্গে টিকে থাকবে। এখানে শুধু পাখিদের আশ্রয় নয়, এটি প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি আমাদের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতীক। আমরা পাখি কলোনি প্রকল্প শুরু করেছি। 

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


ক্ষেতলাল প্রশাসনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ উপজেলা চত্বরে ‘পাখি কলোনি’

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

বাতাসে ভেসে আসে দোয়েল, শালিক, বাবুই আর টুনটুনির কিচিরমিচির। পাখিদের এমন কোলাহল প্রকৃতিকে এনে দেয় এক সৌন্দর্য। আর এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ চত্বরে গড়ে উঠছে 'পাখি কলোনি'।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শুরু করা হয়েছে এই ব্যতিক্রমী প্রকল্প। উদ্দেশ্য— পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্যের ব্যবস্থা করা, আর সেই সঙ্গে মানুষকে প্রকৃতির আরও কাছাকাছি আনা।


ক্ষেতলাল উপজেলা চত্বরের বিভিন্ন গাছে গাছে মাটির হাড়ি বাঁধানো হচ্ছে। সেখানে বাসা বাঁধবে শালিক, দোয়েল, বাবুই টুনটুনিসহ নানা প্রজাতির দেশীয় পাখি। এছাড়া পুকুরের পানির উপর আড়ানী দেওয়া হয়েছে, যেন সেখানে বসে পাখিরা পুকুর থেকে মাছ শিকার করতে পারে। পাখি কলোনি ঘোষণা করে এই চত্বরে একটি সাইবোর্ড দেওয়া হয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে, পাখিরা ফিরে আসুক মুক্ত আকাশে, ক্ষেতলাল হোক প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য; পাখির কূজনেই জেগে ওঠে ক্ষেতলাল- আসুন এই সুরকে চিরস্থায়ী করি; পাখি শিকার নয়, পাখি রক্ষা হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা; ক্ষেতলাল উপজেলা চত্বর পাখির ডানায় গড়া এক স্বপ্নলোক; পাখি বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, প্রকৃতি বাঁচলে টিকবে ক্ষেতলালের সৌন্দর্য; পাখির কণ্ঠে বাজুক জীবনের সুর, ক্ষেতলাল উপজেলা থাকুক সবুজে ভরপুর; ক্ষেতলাল উপজেলা চত্বর- যেখানে মানুষ আর পাখির মিলনে জন্ম নেয় শান্তি।


স্থানীয় পরিবেশকর্মী এম রাসেল আহমেদ বলেন, যেখানে মানুষ পাখি শিকার করে বা তাড়িয়ে দেয়, সেখানে তাদের জন্য ঘর বানানো হচ্ছে। এটি শুধু পরিবেশ প্রকল্প নয়, এটি সহানুভূতির প্রতীক। পাখি বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, প্রকৃতি বাঁচলেই মানুষ টিকে থাকবে।


ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, পাখি প্রকৃতির প্রাণ, আর প্রকৃতি মানেই জীবন। আমরা উপজেলা পরিষদ চত্বরকে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে মানুষ, গাছ ও পাখি একসঙ্গে টিকে থাকবে। এখানে শুধু পাখিদের আশ্রয় নয়, এটি প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি আমাদের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতীক। আমরা পাখি কলোনি প্রকল্প শুরু করেছি। 


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত