জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

কালাইয়ে বিজয়া দশমীতে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব



কালাইয়ে বিজয়া দশমীতে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব

জয়পুরহাটে কালাই উপজেলার বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটে, যেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানানো হয়। এবং এটি মন্দিরে দেবীর মূর্তিতে 'সিঁদুর খেলা' ও 'বরণ' অনুষ্ঠানগুলোর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। এই দিনটি মন্দের উপর ভালোর জয়কে স্মরণ করে এবং ভক্তরা দেবীকে বিদায় জানিয়ে আগামী বছরের অপেক্ষায় থাকে। পরে বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের আসুরিক প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, হিংসা লালসা,বিসর্জন দেওয়ায়ই মূলত বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য।এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। 

চন্ডীপাঠ, বোধনও অধিবাসের মধ্যে দিয়ে ষষ্ঠী তিথিতে,আনন্দময়ীর আগমনে (২৮ সেপ্টেম্বর)থেকে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী পাঁচদিন এ উপজেলার পূজামন্ডপ গুলোতে পূজা অর্চনার মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে উৎসবের শেষ হয়। 

বিজয়া দশমীর আরেক ঐতিহাসিক আয়োজন হলো সিঁদুর খেলা। বিসর্জনের আগে বিবাহিত নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর দান করে তা একে

অপরের কপালে ও মুখে পরিয়ে দেন।এটি সৌভাগ্য সুখ ও দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের প্রতীক হিসাবে  বিবেচিত। 

মন্ডপে আসা ভক্তদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো।কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হাতিয়র হিন্দুপাড়া  পুজা মন্দিরে সভাপতি শ্রী সুদেব চন্দ্র বর্মন জানান,সারা বছর অপেক্ষায় থাকি দুর্গা উৎসবের জন্য। বন্ধ - বান্ধব আর পরিবারের সঙ্গে প্রতিমা দর্শন সত্যি অন্যরকম অনুভূতি।    

প্রথা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জনের পর সেখান থেকে জল এনে (শান্তিজল) মঙ্গলঘটে নিয়ে তা আবার

হৃদয়ে ধারণ করা হয়।আগামী বছর আবার এ শান্তিজল হৃদয় থেকে ঘটে,ঘট থেকে প্রতিমায় রেখে পুজা করা হবে। রামকৃষ্ণ মিশনে সন্ধ্যা আরতির পর জামুরজান পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়। এরপর ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণ করেনও মিষ্টিমুখ করেন।  

কালাই উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি কুমার মহন্ত বিটল জানান,এবার উপজেলায় ২৮ মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পূর্বের যেকোন সময়ের তুলনায় আর ও শক্তিশালী। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার এবং স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।তিনি  আরও বলেন প্রতিটি মন্ডপে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। যাতে করে কোন অপীতিকর ঘটনা না ঘটে। বিকেল চারটার পর থেকে বিসর্জন দেওয়া শুরু 

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)জাহিদ হোসেন জানান,গত (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব সুষ্ঠুভাবে ভাবে সম্পূর্ণ করতে পুলিশ সার্বক্ষণিক ভাবে কাজ করেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। 


আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


কালাইয়ে বিজয়া দশমীতে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

জয়পুরহাটে কালাই উপজেলার বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটে, যেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানানো হয়। এবং এটি মন্দিরে দেবীর মূর্তিতে 'সিঁদুর খেলা' ও 'বরণ' অনুষ্ঠানগুলোর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। এই দিনটি মন্দের উপর ভালোর জয়কে স্মরণ করে এবং ভক্তরা দেবীকে বিদায় জানিয়ে আগামী বছরের অপেক্ষায় থাকে। পরে বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের আসুরিক প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, হিংসা লালসা,বিসর্জন দেওয়ায়ই মূলত বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য।এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। 

চন্ডীপাঠ, বোধনও অধিবাসের মধ্যে দিয়ে ষষ্ঠী তিথিতে,আনন্দময়ীর আগমনে (২৮ সেপ্টেম্বর)থেকে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী পাঁচদিন এ উপজেলার পূজামন্ডপ গুলোতে পূজা অর্চনার মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে উৎসবের শেষ হয়। 

বিজয়া দশমীর আরেক ঐতিহাসিক আয়োজন হলো সিঁদুর খেলা। বিসর্জনের আগে বিবাহিত নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর দান করে তা একে

অপরের কপালে ও মুখে পরিয়ে দেন।এটি সৌভাগ্য সুখ ও দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের প্রতীক হিসাবে  বিবেচিত। 

মন্ডপে আসা ভক্তদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো।কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হাতিয়র হিন্দুপাড়া  পুজা মন্দিরে সভাপতি শ্রী সুদেব চন্দ্র বর্মন জানান,সারা বছর অপেক্ষায় থাকি দুর্গা উৎসবের জন্য। বন্ধ - বান্ধব আর পরিবারের সঙ্গে প্রতিমা দর্শন সত্যি অন্যরকম অনুভূতি।    

প্রথা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জনের পর সেখান থেকে জল এনে (শান্তিজল) মঙ্গলঘটে নিয়ে তা আবার

হৃদয়ে ধারণ করা হয়।আগামী বছর আবার এ শান্তিজল হৃদয় থেকে ঘটে,ঘট থেকে প্রতিমায় রেখে পুজা করা হবে। রামকৃষ্ণ মিশনে সন্ধ্যা আরতির পর জামুরজান পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়। এরপর ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণ করেনও মিষ্টিমুখ করেন।  

কালাই উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি কুমার মহন্ত বিটল জানান,এবার উপজেলায় ২৮ মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পূর্বের যেকোন সময়ের তুলনায় আর ও শক্তিশালী। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার এবং স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।তিনি  আরও বলেন প্রতিটি মন্ডপে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। যাতে করে কোন অপীতিকর ঘটনা না ঘটে। বিকেল চারটার পর থেকে বিসর্জন দেওয়া শুরু 

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)জাহিদ হোসেন জানান,গত (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব সুষ্ঠুভাবে ভাবে সম্পূর্ণ করতে পুলিশ সার্বক্ষণিক ভাবে কাজ করেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। 



Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত