৪৭তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় বিশ্বনাথ সূত্রধরকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সংবর্ধনা প্রদান করেছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলোর বার্তা সমাজ কল্যাণ পরিষদ।
গত শুক্রবার (০৬ নভেম্বর ২০২৬) রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থানগড় প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে সংগঠনের উপদেষ্টা আলহাজ্ব মাওলানা আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রায়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশ্বনাথ সূত্রধরের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
বিশ্বনাথ সূত্রধরের শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় মহাস্থান ব্র্যাক স্কুলের এক সাধারণ পরিবেশে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও কৌতূহলী স্বভাবের।
মহাস্থান ব্র্যাক স্কুল থেকে তিনি ২০১০ সালে প্রাথমিক এবং ২০১৬ সালে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। স্কুলজীবনে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
তার শিক্ষকরা জানান, ছোটবেলা থেকেই তার মাঝে ছিল সময়ানুবর্তিতা এবং নতুন কিছু শেখার প্রবল আগ্রহ।
মাধ্যমিকের এই সাফল্য তাকে নিয়ে যায় মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজে। সেখান থেকে ২০১৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে তিনি ভর্তি হন দেশের অন্যতম শীর্ষপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সেখানে পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে তিনি বিএসসি অনার্স ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার মান বজায় রাখার পাশাপাশি তিনি নিজের ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য স্থির করেন।
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত পত্রিকা পড়া, আন্তর্জাতিক ও সাম্প্রতিক বিষয়াবলী পর্যবেক্ষণ এবং ইংরেজির দক্ষতা বাড়াতে মনোনিবেশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হওয়ার পর শুরু হয় বিসিএসের দীর্ঘ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ লড়াই। নিজেকে টিকিয়ে রাখতে তিনি গড়ে তোলেন কঠোর এক দৈনিক রুটিন। বিশ্বনাথ সূত্রধর বলেন, "বিসিএস অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষা হলেও তা অধরা নয়।
ক্যাডার হতে গেলে সবার আগে পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। নিয়মিত সঠিক অনুশীলন ও পরিশ্রমের পাশাপাশি ভাগ্যও সুপ্রসন্ন হতে হয়। তবে ইচ্ছা থাকলে উপায়ও বের হয়।
পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি দৈনিক বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা পড়লে দক্ষতা বাড়ে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে যুগের সাথে তাল মিলিয়েই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত, তবেই বিসিএস নামক যুদ্ধ জয় করা সম্ভব।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম সৈকতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আলোর বার্তা সমাজ কল্যাণ পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল ইসলাম পলাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান মিজু, প্রচার সম্পাদক নাহিদ হাসান প্রমুখ।
এছাড়া এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে মহাস্থান পুকুরপাড় জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম আ. রহমান, শেমিল আহমেদ, শাহিনুর ইসলাম, শফিকুল ইসলাম রফিক, খোকন মিয়া, রাকিব, তাজুল ইসলাম ও হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টাসহ ১০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
৪৭তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় বিশ্বনাথ সূত্রধরকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সংবর্ধনা প্রদান করেছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলোর বার্তা সমাজ কল্যাণ পরিষদ।
গত শুক্রবার (০৬ নভেম্বর ২০২৬) রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থানগড় প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে সংগঠনের উপদেষ্টা আলহাজ্ব মাওলানা আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রায়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশ্বনাথ সূত্রধরের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
বিশ্বনাথ সূত্রধরের শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় মহাস্থান ব্র্যাক স্কুলের এক সাধারণ পরিবেশে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও কৌতূহলী স্বভাবের।
মহাস্থান ব্র্যাক স্কুল থেকে তিনি ২০১০ সালে প্রাথমিক এবং ২০১৬ সালে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। স্কুলজীবনে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
তার শিক্ষকরা জানান, ছোটবেলা থেকেই তার মাঝে ছিল সময়ানুবর্তিতা এবং নতুন কিছু শেখার প্রবল আগ্রহ।
মাধ্যমিকের এই সাফল্য তাকে নিয়ে যায় মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজে। সেখান থেকে ২০১৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে তিনি ভর্তি হন দেশের অন্যতম শীর্ষপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সেখানে পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে তিনি বিএসসি অনার্স ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার মান বজায় রাখার পাশাপাশি তিনি নিজের ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য স্থির করেন।
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত পত্রিকা পড়া, আন্তর্জাতিক ও সাম্প্রতিক বিষয়াবলী পর্যবেক্ষণ এবং ইংরেজির দক্ষতা বাড়াতে মনোনিবেশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হওয়ার পর শুরু হয় বিসিএসের দীর্ঘ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ লড়াই। নিজেকে টিকিয়ে রাখতে তিনি গড়ে তোলেন কঠোর এক দৈনিক রুটিন। বিশ্বনাথ সূত্রধর বলেন, "বিসিএস অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষা হলেও তা অধরা নয়।
ক্যাডার হতে গেলে সবার আগে পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। নিয়মিত সঠিক অনুশীলন ও পরিশ্রমের পাশাপাশি ভাগ্যও সুপ্রসন্ন হতে হয়। তবে ইচ্ছা থাকলে উপায়ও বের হয়।
পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি দৈনিক বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা পড়লে দক্ষতা বাড়ে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে যুগের সাথে তাল মিলিয়েই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত, তবেই বিসিএস নামক যুদ্ধ জয় করা সম্ভব।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম সৈকতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আলোর বার্তা সমাজ কল্যাণ পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল ইসলাম পলাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান মিজু, প্রচার সম্পাদক নাহিদ হাসান প্রমুখ।
এছাড়া এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে মহাস্থান পুকুরপাড় জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম আ. রহমান, শেমিল আহমেদ, শাহিনুর ইসলাম, শফিকুল ইসলাম রফিক, খোকন মিয়া, রাকিব, তাজুল ইসলাম ও হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টাসহ ১০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন