নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একটি চুরির অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা।
তাদের দাবি রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদন ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন ওই প্রসূতির গর্ভে একটি সন্তানই ছিল। তবে আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য আসার পেছনে সনোলজিস্ট চিকিৎসক দিনা ও রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে নওগাঁ শহরের দয়ালের মোড় এলাকায় বিএমএ'র জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিএমএ নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি ডা. ইস্কেন্দার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার বলাকা ক্লিনিকে শান্তনা আক্তার নামের এক প্রসূতির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় তার জরায়ু থেকে একটি নবজাতক বের করা হয়। পরে রোগীর চিকিৎসার নথি পর্যালোচনা করে তিনটি আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি প্রতিবেদনে এক সন্তান এবং অন্য দুটিতে যমজ সন্তানের কথা উল্লেখ ছিল।
ডা. ইসকেন্দার হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রসূতির স্বজনদের ডেকে এনে তাদের একটি সন্তান হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। প্রসূতিকেও বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়। তিনি তখন তা মেনে নেন। কিন্তু নবজাতককে বাইরে নেওয়ার পর স্বজনেরা দ্বিতীয় সন্তানের খোঁজ জানতে চান। একপর্যায়ে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নবজাতক অপহরণের অভিযোগ তোলেন তারা।
বিএমএর এই নেতা আরও বলেন, অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা নিয়ম অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের বাকি কার্যক্রম শেষ করে প্রসূতিকে কেবিনে পাঠান। এরপর তারা কর্মস্থল ত্যাগ করেন। আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদনে ভুল থাকার পেছনে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, যন্ত্রপাতির মান ও পরীক্ষা-পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণের আগে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. ইসকেন্দার হোসেন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ঘটনার যথাযথ তদন্ত না করে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বলাকা ক্লিনিকের একজন ওয়ার্ড বয়কে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই কর্মী অস্ত্রোপচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাই তাকে এভাবে আটক করা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। পুলিশ প্রশাসন উপযুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করুক।
সংবাদ সম্মেলনে বিএমএ ও ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কোনো ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ছাড়াই চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হলে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুক্তার হোসেনসহ বিএমএ ও ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একটি চুরির অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা।
তাদের দাবি রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদন ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন ওই প্রসূতির গর্ভে একটি সন্তানই ছিল। তবে আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য আসার পেছনে সনোলজিস্ট চিকিৎসক দিনা ও রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে নওগাঁ শহরের দয়ালের মোড় এলাকায় বিএমএ'র জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিএমএ নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি ডা. ইস্কেন্দার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার বলাকা ক্লিনিকে শান্তনা আক্তার নামের এক প্রসূতির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় তার জরায়ু থেকে একটি নবজাতক বের করা হয়। পরে রোগীর চিকিৎসার নথি পর্যালোচনা করে তিনটি আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি প্রতিবেদনে এক সন্তান এবং অন্য দুটিতে যমজ সন্তানের কথা উল্লেখ ছিল।
ডা. ইসকেন্দার হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রসূতির স্বজনদের ডেকে এনে তাদের একটি সন্তান হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। প্রসূতিকেও বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়। তিনি তখন তা মেনে নেন। কিন্তু নবজাতককে বাইরে নেওয়ার পর স্বজনেরা দ্বিতীয় সন্তানের খোঁজ জানতে চান। একপর্যায়ে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নবজাতক অপহরণের অভিযোগ তোলেন তারা।
বিএমএর এই নেতা আরও বলেন, অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা নিয়ম অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের বাকি কার্যক্রম শেষ করে প্রসূতিকে কেবিনে পাঠান। এরপর তারা কর্মস্থল ত্যাগ করেন। আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদনে ভুল থাকার পেছনে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, যন্ত্রপাতির মান ও পরীক্ষা-পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণের আগে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. ইসকেন্দার হোসেন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ঘটনার যথাযথ তদন্ত না করে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বলাকা ক্লিনিকের একজন ওয়ার্ড বয়কে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই কর্মী অস্ত্রোপচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাই তাকে এভাবে আটক করা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। পুলিশ প্রশাসন উপযুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করুক।
সংবাদ সম্মেলনে বিএমএ ও ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কোনো ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ছাড়াই চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হলে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুক্তার হোসেনসহ বিএমএ ও ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন