জয়পুরহাট    রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

আশুলিয়ায় শ্রমিকদের হামলায় সাংবাদিক আহত,মোবাইল ছিনতাই ও ক্যামেরা ভাঙচুর



আশুলিয়ায় শ্রমিকদের হামলায় সাংবাদিক আহত,মোবাইল ছিনতাই ও ক্যামেরা ভাঙচুর
ছবি- প্রতিনিধি

ঢাকার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অটোরিকশাচালক ও এক নারীকে মারধরের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার সাংবাদিক মোঃ সোহেল রানা। এ সময় তাকে ইট ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া, ক্যামেরা ভাঙচুর এবং সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিঁড়ে মালামাল তছনছ করার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে ধামরাই সরকারি মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ শেষে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন এবং এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার সময় আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক প্রথমে এক অটোরিকশাচালককে মারধর করেন। এ সময় এক নারী বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার কারণ জানতে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তথ্য সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক মোঃ সোহেল রানা। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সেখানে উপস্থিত নির্মাণশ্রমিকদের কয়েকজন তার ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাকে ইট ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

সাংবাদিক সোহেল রানার দাবি, হামলাকারীরা তার হাত ও মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পেশাগত কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি কাঁধে থাকা ব্যাগ ছিঁড়ে ভেতরের জিনিসপত্র তছনছ করা হয়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ধামরাই সরকারি মেডিক্যাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন।

এদিকে, ঘটনার পর সাংবাদিক সোহেল রানা আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে হামলা, মারধর, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া ও ক্যামেরা ভাঙচুরের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম নষ্ট ও ব্যক্তিগত মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাংবাদিক সোহেল রানার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ক্যামেরার ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


আশুলিয়ায় শ্রমিকদের হামলায় সাংবাদিক আহত,মোবাইল ছিনতাই ও ক্যামেরা ভাঙচুর

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ঢাকার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অটোরিকশাচালক ও এক নারীকে মারধরের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার সাংবাদিক মোঃ সোহেল রানা। এ সময় তাকে ইট ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া, ক্যামেরা ভাঙচুর এবং সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিঁড়ে মালামাল তছনছ করার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে ধামরাই সরকারি মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ শেষে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন এবং এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার সময় আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক প্রথমে এক অটোরিকশাচালককে মারধর করেন। এ সময় এক নারী বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার কারণ জানতে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তথ্য সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক মোঃ সোহেল রানা। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সেখানে উপস্থিত নির্মাণশ্রমিকদের কয়েকজন তার ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাকে ইট ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

সাংবাদিক সোহেল রানার দাবি, হামলাকারীরা তার হাত ও মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পেশাগত কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি কাঁধে থাকা ব্যাগ ছিঁড়ে ভেতরের জিনিসপত্র তছনছ করা হয়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ধামরাই সরকারি মেডিক্যাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন।

এদিকে, ঘটনার পর সাংবাদিক সোহেল রানা আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে হামলা, মারধর, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া ও ক্যামেরা ভাঙচুরের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম নষ্ট ও ব্যক্তিগত মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাংবাদিক সোহেল রানার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ক্যামেরার ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত