জয়পুরহাট    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন

প্রবাসের স্বপ্ন শেষ আগুনে,নওগাঁয় ফিরল পাঁচ পরিবারের প্রিয় মুখ



প্রবাসের স্বপ্ন শেষ আগুনে,নওগাঁয় ফিরল পাঁচ পরিবারের প্রিয় মুখ
ছবি- প্রতিনিধি

প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা ছিল দীর্ঘ। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান যে এমন নির্মম বাস্তবতায় হবে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি স্বজনেরা। জীবিত ফিরে আসার আশায় যাঁদের পথ চেয়ে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা, তাঁরা ফিরলেন নিথর দেহে। সৌদি আরবের রিয়াদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ অবশেষে পৌঁছেছে তাদের নিজ জেলা নওগাঁয়। 

জীবিকার সন্ধানে হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমানো মানুষগুলোর স্বপ্ন ছিল পরিবারের স্বচ্ছলতা আর প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানো। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই থেমে গেল তাঁদের জীবন। স্বজনদের কাছে তাঁরা আর ফিরবেন না জীবিত মানুষ হয়ে, ফিরেছেন কেবল শেষ বিদায়ের জন্য। প্রিয়জনের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। স্বজনদের আহাজারি আর শোকের মাতমে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পরিবেশ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে দেশে আনা হয় অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ। সকাল ৮টা ৫ মিনিটের দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৬ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে করে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে পাঠানো হয়। 

বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে নওগাঁর পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ তাঁদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছায়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রিয় মানুষটির শেষবারের মতো মুখ দেখার আকুতি নিয়ে বাড়িতে ছুটে আসেন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। 

মরদেহবাহী গাড়ির পাশে ভিড় করেন স্থানীয় মানুষ। যে মানুষগুলো একদিন জীবিকার তাগিদে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রবাসে, তাদের এমন নিথর প্রত্যাবর্তনে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।

গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১২ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। 

ঘটনার পর থেকেই স্বজনদের অপেক্ষা ছিল প্রিয়জনের মরদেহ ফিরে পাওয়ার। গত ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় নয়জনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পর অবশিষ্ট সাতজনের মরদেহ শনিবার দেশে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নওগাঁয়।

নওগাঁয় ফিরে আসা পাঁচ প্রবাসী হলেন, নওগাঁ পৌর শহরের পার নওগাঁ এলাকার মজনু রহমানের ছেলে শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের নাজমুল হুদার ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ, একই উপজেলার মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাস প্রামাণিকের ছেলে মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মজনু সরদারের ছেলে মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের আজহার আলীর ছেলে সাগর আলী।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ, সৌদি আরবের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অবশিষ্ট সাতজনের মরদেহের পরিচয় শনাক্তের বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। তাঁদের মধ্যে গত ২৭ আগস্ট নয়জনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে। অবশিষ্ট সাতজনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৬ ফ্লাইটে শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মরদেহগুলো বিনা খরচে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


প্রবাসের স্বপ্ন শেষ আগুনে,নওগাঁয় ফিরল পাঁচ পরিবারের প্রিয় মুখ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা ছিল দীর্ঘ। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান যে এমন নির্মম বাস্তবতায় হবে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি স্বজনেরা। জীবিত ফিরে আসার আশায় যাঁদের পথ চেয়ে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা, তাঁরা ফিরলেন নিথর দেহে। সৌদি আরবের রিয়াদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ অবশেষে পৌঁছেছে তাদের নিজ জেলা নওগাঁয়। 

জীবিকার সন্ধানে হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমানো মানুষগুলোর স্বপ্ন ছিল পরিবারের স্বচ্ছলতা আর প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানো। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই থেমে গেল তাঁদের জীবন। স্বজনদের কাছে তাঁরা আর ফিরবেন না জীবিত মানুষ হয়ে, ফিরেছেন কেবল শেষ বিদায়ের জন্য। প্রিয়জনের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। স্বজনদের আহাজারি আর শোকের মাতমে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পরিবেশ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে দেশে আনা হয় অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ। সকাল ৮টা ৫ মিনিটের দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৬ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে করে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে পাঠানো হয়। 

বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে নওগাঁর পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ তাঁদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছায়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রিয় মানুষটির শেষবারের মতো মুখ দেখার আকুতি নিয়ে বাড়িতে ছুটে আসেন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। 

মরদেহবাহী গাড়ির পাশে ভিড় করেন স্থানীয় মানুষ। যে মানুষগুলো একদিন জীবিকার তাগিদে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রবাসে, তাদের এমন নিথর প্রত্যাবর্তনে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।

গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১২ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। 

ঘটনার পর থেকেই স্বজনদের অপেক্ষা ছিল প্রিয়জনের মরদেহ ফিরে পাওয়ার। গত ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় নয়জনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পর অবশিষ্ট সাতজনের মরদেহ শনিবার দেশে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নওগাঁয়।

নওগাঁয় ফিরে আসা পাঁচ প্রবাসী হলেন, নওগাঁ পৌর শহরের পার নওগাঁ এলাকার মজনু রহমানের ছেলে শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের নাজমুল হুদার ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ, একই উপজেলার মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাস প্রামাণিকের ছেলে মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মজনু সরদারের ছেলে মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের আজহার আলীর ছেলে সাগর আলী।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ, সৌদি আরবের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অবশিষ্ট সাতজনের মরদেহের পরিচয় শনাক্তের বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। তাঁদের মধ্যে গত ২৭ আগস্ট নয়জনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে। অবশিষ্ট সাতজনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৬ ফ্লাইটে শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মরদেহগুলো বিনা খরচে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।



Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত