জয়পুরহাট    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

আত্মার প্রতীক

শেরে বাংলার আদর্শ বাঙালি জাতির প্রেরণার উৎস :আবদুল হাই শিকদার



শেরে বাংলার আদর্শ বাঙালি জাতির প্রেরণার উৎস :আবদুল হাই শিকদার
ছবি- সংগৃহীত

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাঙালি জাতির আত্মার প্রতীক। বাংলাদেশ যে কয়েকটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, শেরে বাংলা তার অন্যতম।

বরিশাল বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারে বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত সাহিত্য সম্মেলনের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাহিত্য-সংস্কৃতির নিবিড় পৃষ্ঠপোষক শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বাসস চেয়ারম্যান বলেন, শেরে বাংলা শুধু বাংলাকে ভালোবাসতেন না, ভালোবাসতেন বাংলার মাটিকেও। তিনি না থাকলে বাংলাদেশের ইতিহাস ভিন্ন হতো। বাংলাদেশে শেরে বাংলার মতো এত বড় নেতার আবির্ভাব আর হয়নি। তাঁকে অস্বীকার করা মানে দেশকেই অস্বীকার করা।

তিনি বলেন, মহাজনদের কৃষিঋণের হাত থেকে বাংলার কৃষকদের মুক্তি এবং ব্রিটিশদের শিক্ষানীতির প্রতিকূলতার মধ্যেও মুসলমানদের শিক্ষার প্রসারে শেরে বাংলার অবদান অসামান্য।

আবদুল হাই শিকদার আরও বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে শেরে বাংলার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। নজরুল যাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতেন, তিনি হলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।

তিনি বলেন, শেরে বাংলার জন্মভূমি বরিশাল হলেও চাখারে অবস্থিত তাঁর স্মৃতি জাদুঘরের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। জাদুঘরটি যথাযথভাবে সংরক্ষণে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, জাতীয় জাদুঘরে এখন পর্যন্ত শেরে বাংলার নামে কোনো কর্নার স্থাপন করা হয়নি। কাজী নজরুল ইসলামের নামেও সেখানে কোনো কর্নার নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে একটি কর্নার থাকলেও গত ১৫ বছরে সেটিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

তিনি শেরে বাংলার স্মৃতি জাদুঘর সংরক্ষণের পাশাপাশি জাতীয় জাদুঘরে শেরে বাংলা, কাজী নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমানের নামে পৃথক কর্নার স্থাপনের দাবি জানান। বর্তমান সরকারকে গণতান্ত্রিক সরকার উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের এসব দাবি বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগ নেবে।

এর আগে একই স্থানে সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক জোট, বরিশালের আহ্বায়ক এস এম সাব্বির নেওয়াজ সাগর।

সম্মেলনের সমাপনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবিতা পরিষদ, বরিশাল শাখার সভাপতি কবি মুস্তফা হাবীব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেকড় সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি নয়ন আহমেদ, গবেষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব কবি শাহীন চৌধুরী, লেখক ও গবেষক বেগম ফয়জুন নাহার শেলী, শেকড় সাহিত্য সংসদের সহসভাপতি কবি আল হাফিজ এবং কবি ও সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না।

এছাড়া সম্মেলনে গৌরনদী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মোসলেম উদ্দিন শিকদারকে ‘শেরে বাংলা স্মৃতিপদক-২০২৬’ প্রদান করা হয়।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক, কবি, লেখক ও জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন জানান, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের স্মৃতি ও সাহিত্য-সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করাই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


শেরে বাংলার আদর্শ বাঙালি জাতির প্রেরণার উৎস :আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাঙালি জাতির আত্মার প্রতীক। বাংলাদেশ যে কয়েকটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, শেরে বাংলা তার অন্যতম।

বরিশাল বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারে বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত সাহিত্য সম্মেলনের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাহিত্য-সংস্কৃতির নিবিড় পৃষ্ঠপোষক শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বাসস চেয়ারম্যান বলেন, শেরে বাংলা শুধু বাংলাকে ভালোবাসতেন না, ভালোবাসতেন বাংলার মাটিকেও। তিনি না থাকলে বাংলাদেশের ইতিহাস ভিন্ন হতো। বাংলাদেশে শেরে বাংলার মতো এত বড় নেতার আবির্ভাব আর হয়নি। তাঁকে অস্বীকার করা মানে দেশকেই অস্বীকার করা।

তিনি বলেন, মহাজনদের কৃষিঋণের হাত থেকে বাংলার কৃষকদের মুক্তি এবং ব্রিটিশদের শিক্ষানীতির প্রতিকূলতার মধ্যেও মুসলমানদের শিক্ষার প্রসারে শেরে বাংলার অবদান অসামান্য।

আবদুল হাই শিকদার আরও বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে শেরে বাংলার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। নজরুল যাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতেন, তিনি হলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।

তিনি বলেন, শেরে বাংলার জন্মভূমি বরিশাল হলেও চাখারে অবস্থিত তাঁর স্মৃতি জাদুঘরের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। জাদুঘরটি যথাযথভাবে সংরক্ষণে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, জাতীয় জাদুঘরে এখন পর্যন্ত শেরে বাংলার নামে কোনো কর্নার স্থাপন করা হয়নি। কাজী নজরুল ইসলামের নামেও সেখানে কোনো কর্নার নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে একটি কর্নার থাকলেও গত ১৫ বছরে সেটিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

তিনি শেরে বাংলার স্মৃতি জাদুঘর সংরক্ষণের পাশাপাশি জাতীয় জাদুঘরে শেরে বাংলা, কাজী নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমানের নামে পৃথক কর্নার স্থাপনের দাবি জানান। বর্তমান সরকারকে গণতান্ত্রিক সরকার উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের এসব দাবি বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগ নেবে।

এর আগে একই স্থানে সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক জোট, বরিশালের আহ্বায়ক এস এম সাব্বির নেওয়াজ সাগর।

সম্মেলনের সমাপনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবিতা পরিষদ, বরিশাল শাখার সভাপতি কবি মুস্তফা হাবীব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেকড় সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি নয়ন আহমেদ, গবেষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব কবি শাহীন চৌধুরী, লেখক ও গবেষক বেগম ফয়জুন নাহার শেলী, শেকড় সাহিত্য সংসদের সহসভাপতি কবি আল হাফিজ এবং কবি ও সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না।

এছাড়া সম্মেলনে গৌরনদী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মোসলেম উদ্দিন শিকদারকে ‘শেরে বাংলা স্মৃতিপদক-২০২৬’ প্রদান করা হয়।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক, কবি, লেখক ও জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন জানান, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের স্মৃতি ও সাহিত্য-সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করাই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত