গাজীপুরে জাতীয় দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ, নির্যাতন ও এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাগর ও ওসমান নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুর মিডিয়া সেন্টারের সামনে সাংবাদিক রিপনের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। গাজীপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংবাদ সংস্থা এনএনবির সম্পাদক ও কলামিস্ট জুলিয়াস চৌধুরী।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আমার জোর দাবি, এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। আমি এ ঘটনার ন্যায়বিচার চাই। একই সঙ্গে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গী সেনা কল্যাণ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে একদল ব্যক্তি মহিন উদ্দিন রিপনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকার একটি স্থানে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসবিরোধী সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন এই সাংবাদিক।
রিপনের অভিযোগ, তাঁকে আটকে রেখে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁকে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে টঙ্গীর একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা অপরাধ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় সংবাদে তুলে ধরেন। কোনো সংবাদ নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে আইনগতভাবে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের জেরে কোনো সাংবাদিককে অপহরণ, নির্যাতন কিংবা চাঁদা দাবির শিকার হতে হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
বক্তারা আরও বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তাঁরা। একই সঙ্গে মহিন উদ্দিন রিপনের ওপর হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুরে জাতীয় দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ, নির্যাতন ও এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাগর ও ওসমান নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুর মিডিয়া সেন্টারের সামনে সাংবাদিক রিপনের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। গাজীপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংবাদ সংস্থা এনএনবির সম্পাদক ও কলামিস্ট জুলিয়াস চৌধুরী।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আমার জোর দাবি, এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। আমি এ ঘটনার ন্যায়বিচার চাই। একই সঙ্গে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গী সেনা কল্যাণ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে একদল ব্যক্তি মহিন উদ্দিন রিপনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকার একটি স্থানে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসবিরোধী সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন এই সাংবাদিক।
রিপনের অভিযোগ, তাঁকে আটকে রেখে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁকে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে টঙ্গীর একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা অপরাধ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় সংবাদে তুলে ধরেন। কোনো সংবাদ নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে আইনগতভাবে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের জেরে কোনো সাংবাদিককে অপহরণ, নির্যাতন কিংবা চাঁদা দাবির শিকার হতে হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
বক্তারা আরও বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তাঁরা। একই সঙ্গে মহিন উদ্দিন রিপনের ওপর হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন