অনুকূল আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী হওয়ায় এ উপজেলায় বাড়ছে মরিচের আবাদ। ভালো ফলন পাওয়ার পরেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশায় ভোগছে এই উপজেলার মরিচ চাষিরা।
বর্তমানে মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে ৩৫/৪০ টাকা দরে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। এই দামে মরিচ বিক্রি করে কৃষকরা খরচের টাকাও তুলতে পারবেনা বলে জানিয়েছেন, মাদারগঞ্জ উপজেলার অনেক মরিচ চাষি।
উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের চর শুভগাছা গ্রামের মরিচ চাষি শিপন জানান, এবার সার,কীটনাশক, সেচ দিতে কৃষকদের বিঘাপ্রতি ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মরিচের যে মূল্য তা দিয়ে খরচ উঠবে না, কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের মরিচ চাষি আব্দুল খালেক বলেন, পলিমালচিং পদ্ধতিতে তিন বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছি। ময়নামতি জাতের মরিচ চাষ করেছি।
গত বছরের তুলনায় এবার মরিচ চাষে খরচ বেড়েছে। জমি চাষ, সেচ, বীজ, সার-কীটনাশক, যাতায়াত ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি সার নিয়ে অতিরিক্ত ভোগান্তিও যোগ হয়েছে। বাজার ভালো না পেলে লোকসানের সম্মুখীন হবো।
উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের চর শুভগাছা গ্রামের রাসেল খান জানান, থেকে মরিচ তোলা শুরু করেছি। পাইকারি বাজারে মরিচের ভালো দাম পাচ্ছি না। বর্তমানে ১৪/১৬শ টাকা দরে প্রতিমণ মরিচ বিক্রি করে খরচটাও উঠবে না।
মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে আগাম মরিচ চাষ হয়েছে ৩০০ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া পলিমালচিং পদ্ধতিতে ২৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করেছেন কৃষকেরা।
এখানে বিভিন্ন জাতের মরিচগুলোর মধ্যে - ময়নামতি, গ্রিন সুপার, নাগা ফায়ার, বিজলি, গ্রিন স্টার, সুপার ও প্রিমিয়ামসহ বিভিন্ন জাতের মরিচের আবাদ হয়েছে বেশি । এ মৌসুমে আবাদ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মরিচের আবাদ হওয়ায় এবার উপজেলায় কাঁচা মরিচের উৎপাদন ৪২ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।
মাদারগঞ্জের চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত মরিচ ঢাকা, সিলেট,চট্রগ্রাম,নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মরিচ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে দুই শতাধিক কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পলিমালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬
অনুকূল আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী হওয়ায় এ উপজেলায় বাড়ছে মরিচের আবাদ। ভালো ফলন পাওয়ার পরেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশায় ভোগছে এই উপজেলার মরিচ চাষিরা।
বর্তমানে মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে ৩৫/৪০ টাকা দরে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। এই দামে মরিচ বিক্রি করে কৃষকরা খরচের টাকাও তুলতে পারবেনা বলে জানিয়েছেন, মাদারগঞ্জ উপজেলার অনেক মরিচ চাষি।
উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের চর শুভগাছা গ্রামের মরিচ চাষি শিপন জানান, এবার সার,কীটনাশক, সেচ দিতে কৃষকদের বিঘাপ্রতি ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মরিচের যে মূল্য তা দিয়ে খরচ উঠবে না, কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের মরিচ চাষি আব্দুল খালেক বলেন, পলিমালচিং পদ্ধতিতে তিন বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছি। ময়নামতি জাতের মরিচ চাষ করেছি।
গত বছরের তুলনায় এবার মরিচ চাষে খরচ বেড়েছে। জমি চাষ, সেচ, বীজ, সার-কীটনাশক, যাতায়াত ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি সার নিয়ে অতিরিক্ত ভোগান্তিও যোগ হয়েছে। বাজার ভালো না পেলে লোকসানের সম্মুখীন হবো।
উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের চর শুভগাছা গ্রামের রাসেল খান জানান, থেকে মরিচ তোলা শুরু করেছি। পাইকারি বাজারে মরিচের ভালো দাম পাচ্ছি না। বর্তমানে ১৪/১৬শ টাকা দরে প্রতিমণ মরিচ বিক্রি করে খরচটাও উঠবে না।
মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে আগাম মরিচ চাষ হয়েছে ৩০০ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া পলিমালচিং পদ্ধতিতে ২৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করেছেন কৃষকেরা।
এখানে বিভিন্ন জাতের মরিচগুলোর মধ্যে - ময়নামতি, গ্রিন সুপার, নাগা ফায়ার, বিজলি, গ্রিন স্টার, সুপার ও প্রিমিয়ামসহ বিভিন্ন জাতের মরিচের আবাদ হয়েছে বেশি । এ মৌসুমে আবাদ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মরিচের আবাদ হওয়ায় এবার উপজেলায় কাঁচা মরিচের উৎপাদন ৪২ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।
মাদারগঞ্জের চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত মরিচ ঢাকা, সিলেট,চট্রগ্রাম,নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মরিচ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে দুই শতাধিক কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পলিমালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন