জয়পুরহাট    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

ভাঙ্গুড়ায় কথিত ‘মধুচক্র’ চক্রের ফাঁদে অর্থবিত্তশালীরা



ভাঙ্গুড়ায় কথিত ‘মধুচক্র’ চক্রের ফাঁদে অর্থবিত্তশালীরা
ছবি : প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় একটি কথিত মধুচক্রের মাধ্যমে ধনী ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহেল ও তাঁর স্ত্রী শিখা। উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া এলাকার রাঙ্গালিয়া অঞ্চলে অবস্থিত সুজাপাড়ার আজিজ ভিলায় হাঁস পালনের আড়ালে এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী (ফরিদপুর উপজেলার বাসিন্দা) জানান, দূর-দূরান্ত থেকে অর্থবিত্তশালী ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে আনা হয়। পরে তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।

অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক সম্মানহানি, পারিবারিক ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কায় প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে অনিচ্ছুক। ফলে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বক্তব্য ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন বলেন, “সোহেল বিএনপি করে ঠিক আছে, কিন্তু তার আচার-আচরণ ও চলাফেরা খারাপ। সে একাধিক বিয়ে করেছে। 

কয়েকদিন আগেও মারামারি করে জেলে গিয়েছিল। বিভিন্ন লোকজনকে বিভিন্ন কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে। গিল্টি মানুষ অনেক সময় সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে কথা বলে। তবে দোষী যেই হোক, অপরাধী যেই হোক শাস্তি হওয়া উচিত।”

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা সোহেল বলেন, এলাকার মানুষ তাকে ধরেছে। বিয়ে দেওয়ার কথা বললে তিনি জানান, মেয়েটির বয়স ১৪ বছর, তবে পরিবারের লোকজন আসছে।

সোহেলের স্ত্রী শিখা সাংবাদিকের ছদ্মনামে ফোন করলে প্রথমে চিনতে পারেননি বলে জানিয়ে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশের অবস্থান ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম বলেন, “এই প্রথম বিষয়টি জানলাম। কেউ আমাকে কিছু বলেনি। যিনি হানিট্র্যাপের শিকার হয়েছেন, তিনি থানায় অভিযোগ করেননি। তাঁকে অভিযোগ দিতে বলুন।”

ওসির এমন বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে মনে করেন, অভিযোগ না আসলেও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনানুগ অনুসন্ধান করা উচিত। ভুক্তভোগীদের সামাজিক সম্মান রক্ষা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।

উদ্বেগ ও সতর্কতা এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক হুমকি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা জরুরি।

সচেতন মহলের বার্তা মধুচক্রের ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকুন। যেকোনো সন্দেহজনক ঘটনায় দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করুন। সামাজিক সম্মানের ভয়ে চুপ থাকলে চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


ভাঙ্গুড়ায় কথিত ‘মধুচক্র’ চক্রের ফাঁদে অর্থবিত্তশালীরা

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় একটি কথিত মধুচক্রের মাধ্যমে ধনী ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহেল ও তাঁর স্ত্রী শিখা। উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া এলাকার রাঙ্গালিয়া অঞ্চলে অবস্থিত সুজাপাড়ার আজিজ ভিলায় হাঁস পালনের আড়ালে এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী (ফরিদপুর উপজেলার বাসিন্দা) জানান, দূর-দূরান্ত থেকে অর্থবিত্তশালী ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে আনা হয়। পরে তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।

অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক সম্মানহানি, পারিবারিক ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কায় প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে অনিচ্ছুক। ফলে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বক্তব্য ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন বলেন, “সোহেল বিএনপি করে ঠিক আছে, কিন্তু তার আচার-আচরণ ও চলাফেরা খারাপ। সে একাধিক বিয়ে করেছে। 

কয়েকদিন আগেও মারামারি করে জেলে গিয়েছিল। বিভিন্ন লোকজনকে বিভিন্ন কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে। গিল্টি মানুষ অনেক সময় সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে কথা বলে। তবে দোষী যেই হোক, অপরাধী যেই হোক শাস্তি হওয়া উচিত।”

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা সোহেল বলেন, এলাকার মানুষ তাকে ধরেছে। বিয়ে দেওয়ার কথা বললে তিনি জানান, মেয়েটির বয়স ১৪ বছর, তবে পরিবারের লোকজন আসছে।

সোহেলের স্ত্রী শিখা সাংবাদিকের ছদ্মনামে ফোন করলে প্রথমে চিনতে পারেননি বলে জানিয়ে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশের অবস্থান ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম বলেন, “এই প্রথম বিষয়টি জানলাম। কেউ আমাকে কিছু বলেনি। যিনি হানিট্র্যাপের শিকার হয়েছেন, তিনি থানায় অভিযোগ করেননি। তাঁকে অভিযোগ দিতে বলুন।”

ওসির এমন বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে মনে করেন, অভিযোগ না আসলেও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনানুগ অনুসন্ধান করা উচিত। ভুক্তভোগীদের সামাজিক সম্মান রক্ষা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।

উদ্বেগ ও সতর্কতা এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক হুমকি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা জরুরি।

সচেতন মহলের বার্তা মধুচক্রের ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকুন। যেকোনো সন্দেহজনক ঘটনায় দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করুন। সামাজিক সম্মানের ভয়ে চুপ থাকলে চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত