জয়পুরহাট    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

গাইবান্ধায় হামলা মামলার তাণ্ডবে বাদী চরম নিরাপত্তাহীনতায়



গাইবান্ধায় হামলা মামলার তাণ্ডবে বাদী চরম নিরাপত্তাহীনতায়
ছবি : প্রতিনিধি

‎গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের আনালেরতাড়ী ভেলুপাড়া এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ, মারধর, হত্যাচেষ্টা, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

‎‎মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার মৃত আজগর আলীর ছেলে মোরশেদসহ তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি ওই জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে স্থানীয় মতলেব মিয়া, মোকলেছুর রহমানসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

‎‎অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠি, লোহার রড, ধারালো অস্ত্র, পাটখড়ি ও কেরোসিন তেল নিয়ে দলবদ্ধভাবে মোরশেদ গংয়ের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় বসতঘরের বেড়া এবং ঘরের ভেতরে থাকা বাঁশ-খড়িতে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎বাদীপক্ষের দাবি, আগুনে ঘর, আসবাবপত্রসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

‎‎এজাহারে আরও বলা হয়, হামলায় বাধা দিতে গেলে রিক্তা খাতুন ও তার স্বামী আশরাফুল ইসলামকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আশরাফুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করা হলে তিনি মাথা সরিয়ে নেন। এতে অস্ত্রের আঘাত তার বাম কাঁধসংলগ্ন বুকে লাগে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

‎এ ছাড়া রিক্তা খাতুনের পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি এবং তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

‎‎চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত আশরাফুল ইসলামকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

‎‎এদিকে জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় মোরশেদ গং আদালতে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। প্রতিপক্ষ তাদের দখল থেকে উচ্ছেদ করে জমি জবরদখলের চেষ্টা করছে।

‎ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

‎‎অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগে উল্লিখিত মোকলেছুর রহমানকে বাদীপক্ষ ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং তিনি দিনাজপুর আনসার ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত বলে দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

‎ভুক্তভোগী পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা নম্বর ৩৮৩ উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আদালতে ৪২৫/২৫, ১০৭ ধারাসংক্রান্ত মামলা ০১/২০২৬, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১২০৮/৩০ ও ৪৪৫৯/১০, সেটেলমেন্ট সংক্রান্ত ৪৪৫৮৫৯/১০, ফৌজদারি মামলা ১৫৩/২০১৫, সিনিয়র জজ কোর্টে ৭৬/৯, সদর জজ কোর্টে ৫৬/২০০৯ এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪৩৮/২৬ নম্বরসহ একাধিক মামলা ও মামলা-সংক্রান্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

‎‎পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎‎জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিষয়গুলো যেহেতু আদালতে বিচারাধীন, তাই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

‎

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


গাইবান্ধায় হামলা মামলার তাণ্ডবে বাদী চরম নিরাপত্তাহীনতায়

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

‎গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের আনালেরতাড়ী ভেলুপাড়া এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ, মারধর, হত্যাচেষ্টা, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

‎‎মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার মৃত আজগর আলীর ছেলে মোরশেদসহ তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি ওই জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে স্থানীয় মতলেব মিয়া, মোকলেছুর রহমানসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

‎‎অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠি, লোহার রড, ধারালো অস্ত্র, পাটখড়ি ও কেরোসিন তেল নিয়ে দলবদ্ধভাবে মোরশেদ গংয়ের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় বসতঘরের বেড়া এবং ঘরের ভেতরে থাকা বাঁশ-খড়িতে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎বাদীপক্ষের দাবি, আগুনে ঘর, আসবাবপত্রসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

‎‎এজাহারে আরও বলা হয়, হামলায় বাধা দিতে গেলে রিক্তা খাতুন ও তার স্বামী আশরাফুল ইসলামকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আশরাফুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করা হলে তিনি মাথা সরিয়ে নেন। এতে অস্ত্রের আঘাত তার বাম কাঁধসংলগ্ন বুকে লাগে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

‎এ ছাড়া রিক্তা খাতুনের পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি এবং তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

‎‎চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত আশরাফুল ইসলামকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

‎‎এদিকে জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় মোরশেদ গং আদালতে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। প্রতিপক্ষ তাদের দখল থেকে উচ্ছেদ করে জমি জবরদখলের চেষ্টা করছে।

‎ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

‎‎অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগে উল্লিখিত মোকলেছুর রহমানকে বাদীপক্ষ ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং তিনি দিনাজপুর আনসার ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত বলে দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

‎ভুক্তভোগী পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা নম্বর ৩৮৩ উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আদালতে ৪২৫/২৫, ১০৭ ধারাসংক্রান্ত মামলা ০১/২০২৬, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১২০৮/৩০ ও ৪৪৫৯/১০, সেটেলমেন্ট সংক্রান্ত ৪৪৫৮৫৯/১০, ফৌজদারি মামলা ১৫৩/২০১৫, সিনিয়র জজ কোর্টে ৭৬/৯, সদর জজ কোর্টে ৫৬/২০০৯ এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪৩৮/২৬ নম্বরসহ একাধিক মামলা ও মামলা-সংক্রান্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

‎‎পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎‎জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিষয়গুলো যেহেতু আদালতে বিচারাধীন, তাই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

‎


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত