ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে ব্যবসা পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের যে আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে, তা কমাতে ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্যাকেজের আওতায় স্বল্প সুদে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকঋণের সুদহার প্রায় ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। এত উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করা উদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উদ্যোক্তাদের আর্থিক চাপ কমাতে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজশাহী নগরের ভেড়িপাড়া মোড় এলাকার প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি খাতে গতি সঞ্চার করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, ব্যবসায়ী, চেম্বার নেতারা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ব্যাংক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার।
অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তরুণদের মধ্যে যে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ দেখা গেছে, তা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগাতে ‘উদ্যোগ’ নামে একটি বিশেষ স্কিম চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে উদ্যোক্তা নির্বাচন করে মোট ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে স্কিমটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে এর কার্যক্রম শুরু হবে।
কৃষকদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার বিষয়ে মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের সুবিধা যাতে আরও বেশি প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছানো যায়, সে জন্য প্রচলিত জমি বা স্থাবর সম্পত্তি জামানত রাখার পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের অর্থায়নপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে উত্তরবঙ্গের কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপকে কার্যকর করা জরুরি। এ লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো, কৃষকদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে ব্যবসা পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের যে আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে, তা কমাতে ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্যাকেজের আওতায় স্বল্প সুদে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকঋণের সুদহার প্রায় ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। এত উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করা উদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উদ্যোক্তাদের আর্থিক চাপ কমাতে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজশাহী নগরের ভেড়িপাড়া মোড় এলাকার প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি খাতে গতি সঞ্চার করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, ব্যবসায়ী, চেম্বার নেতারা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ব্যাংক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার।
অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তরুণদের মধ্যে যে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ দেখা গেছে, তা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগাতে ‘উদ্যোগ’ নামে একটি বিশেষ স্কিম চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে উদ্যোক্তা নির্বাচন করে মোট ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে স্কিমটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে এর কার্যক্রম শুরু হবে।
কৃষকদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার বিষয়ে মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের সুবিধা যাতে আরও বেশি প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছানো যায়, সে জন্য প্রচলিত জমি বা স্থাবর সম্পত্তি জামানত রাখার পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের অর্থায়নপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে উত্তরবঙ্গের কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপকে কার্যকর করা জরুরি। এ লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো, কৃষকদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন