জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

সংবাদ সম্মেলনে ৫ দাবি

দোকান বরাদ্দের ৩১ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও দোকান দখলের অভিযোগ



দোকান বরাদ্দের ৩১ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও দোকান দখলের অভিযোগ
ছবি- প্রতিনিধি

রাজশাহীর মোহনপুরে কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেটের দোকানঘর বরাদ্দের ৩১ লাখ টাকা জামানত আত্মসাৎ, দোকান দখল, মালামাল চুরি ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেটের একাধিক দোকানঘর বরাদ্দের বিপরীতে চুক্তিপত্র ও স্ট্যাম্পের মাধ্যমে তিনি মোট ৩১ লাখ টাকা জামানত দেন। ব্যবসায়িক মন্দার কারণে ২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর জামানতের টাকা ফেরত চেয়ে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের কাছে লিখিত আবেদন করলেও দীর্ঘদিনেও টাকা ফেরত পাননি।

নজরুলের দাবি, প্রধান শিক্ষকের মৌখিক নির্দেশে মার্কেটের অসমাপ্ত দোকানঘর ও মসজিদের দেয়াল নির্মাণে তিনি নিজ খরচে আরও ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪২০ টাকা ব্যয় করেন। ওই অর্থও তাঁকে পরিশোধ করা হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাবুল নামে এক ব্যক্তির কাছে একটি দোকান সাব-লেট দেওয়ার পর প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও বাবুল যোগসাজশ করে দোকানটি দখলের চেষ্টা করেন এবং দোকানের মালামাল বাইরে ফেলে দেন। পরে রাতের আঁধারে দোকানে থাকা কয়েক লাখ টাকা মূল্যের মেশিনারি ও অন্যান্য মালামাল চুরি করে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষকের কথিত জালিয়াতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলেও পাওনা টাকা ফেরতের আশ্বাসে তিনি মামলা পরিচালনা করেননি। পরবর্তীতে মামলাটি খারিজ হওয়ার পর আশ্বাস ভঙ্গ করে তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পুলিশের কাছে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও উল্টো হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—জামানত বাবদ ৩১ লাখ টাকা ও সংস্কারকাজে ব্যয় করা ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪২০ টাকা ফেরত, দোকান দখল, চুরি ও মারধরের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মোহনপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা, আন্ডারগ্রাউন্ড দোকানে পানি প্রবেশে ১১ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ এবং হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুলিশি হয়রানি ও জোরপূর্বক দখলচেষ্টা বন্ধে আইনগত সুরক্ষা।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক, পুলিশ কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দোকান বরাদ্দের ৩১ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও দোকান দখলের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজশাহীর মোহনপুরে কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেটের দোকানঘর বরাদ্দের ৩১ লাখ টাকা জামানত আত্মসাৎ, দোকান দখল, মালামাল চুরি ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেটের একাধিক দোকানঘর বরাদ্দের বিপরীতে চুক্তিপত্র ও স্ট্যাম্পের মাধ্যমে তিনি মোট ৩১ লাখ টাকা জামানত দেন। ব্যবসায়িক মন্দার কারণে ২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর জামানতের টাকা ফেরত চেয়ে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের কাছে লিখিত আবেদন করলেও দীর্ঘদিনেও টাকা ফেরত পাননি।

নজরুলের দাবি, প্রধান শিক্ষকের মৌখিক নির্দেশে মার্কেটের অসমাপ্ত দোকানঘর ও মসজিদের দেয়াল নির্মাণে তিনি নিজ খরচে আরও ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪২০ টাকা ব্যয় করেন। ওই অর্থও তাঁকে পরিশোধ করা হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাবুল নামে এক ব্যক্তির কাছে একটি দোকান সাব-লেট দেওয়ার পর প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও বাবুল যোগসাজশ করে দোকানটি দখলের চেষ্টা করেন এবং দোকানের মালামাল বাইরে ফেলে দেন। পরে রাতের আঁধারে দোকানে থাকা কয়েক লাখ টাকা মূল্যের মেশিনারি ও অন্যান্য মালামাল চুরি করে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষকের কথিত জালিয়াতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলেও পাওনা টাকা ফেরতের আশ্বাসে তিনি মামলা পরিচালনা করেননি। পরবর্তীতে মামলাটি খারিজ হওয়ার পর আশ্বাস ভঙ্গ করে তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পুলিশের কাছে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও উল্টো হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—জামানত বাবদ ৩১ লাখ টাকা ও সংস্কারকাজে ব্যয় করা ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪২০ টাকা ফেরত, দোকান দখল, চুরি ও মারধরের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মোহনপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা, আন্ডারগ্রাউন্ড দোকানে পানি প্রবেশে ১১ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ এবং হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুলিশি হয়রানি ও জোরপূর্বক দখলচেষ্টা বন্ধে আইনগত সুরক্ষা।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক, পুলিশ কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত