জয়পুরহাট    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

ইলিশা লঞ্চঘাটের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন

সাংবাদিকদের‘ফ্যাসিস্টের দোসর বললেন বিআইডব্লিউটিএ'র কর্মকর্তা



সাংবাদিকদের‘ফ্যাসিস্টের দোসর বললেন বিআইডব্লিউটিএ'র কর্মকর্তা
ছবি : প্রতিনিধি

ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকদের ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ভোলা নদী বন্দরের  ট্রাফিক ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে। 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইলিশা লঞ্চঘাটে যাত্রী হয়রানী ঘাট ব্যবস্থাপনা, নৌযান চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তথ্য জানতে ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিতে সাংবাদিকরা বিআইডব্লিউটিএর ভোলা নদী বন্দরের ট্রাফিক ইনচার্জ মুঠোফোনে কাছে প্রশ্ন করেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার একপর্যায়ে ট্রাফিক ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন তাদের উদ্দেশে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর এমন বক্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক তানজিল ও ইমন বলেন, সরকারি সংস্থার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার কাছে ঘাট ব্যবস্থাপনা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের দায়িত্বের অংশ। 

কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তার ব্যাখ্যা বা সংশ্লিষ্ট তথ্য দিয়ে জবাব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের ফ্যাসিস্ট ও সাংবাদিক নামে সাংঘাতিক নামে আখ্যায়িত করা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। 

ঘটনাটি নিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলার সিনিয়র সাংবাদিকরা। 

ভোলা প্রেসক্লাবে ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক হেলাল উদ্দিন গোলদার প্রশ্ন রেখে  বলেন রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যম। একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি গণমাধ্যমের সাথে এ ধরনের আচরণ করেন তাহলে জনসাধারণের অবস্থা কি?

এছারাও সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানায় ট্রাফিক ইনচার্জ জাহাঙ্গীর যেখানে থাকে সেখানে মাদক  রয়েছে এমন একটি কল রেকর্ড এসেছে প্রতিবেদকের হাতে এবং পূর্বের কর্মস্থলগুলোতেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। 

এ বিষয়ে ট্রাফিক ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন আপনাদের যদি কিছু বলার থাকে তাহলে ইলিশা ঘাটে আসেন, তারপর আপনাদের সাথে কথা বলবো।

ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক (বিআই ডব্লিওটিএ'র) নির্মল বাবু এ প্রতিবেদক কে জানান এবিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নাই এটা সম্পূর্ণ উনার ব্যক্তিগত বিষয়। তারপরও বলছি সাংবাদিকদের কে ফ্যাসিস্টের দোসর  বলাটা ঠিক হয়নি, আপনি সংবাদ প্রচার করেন, বিষয়টি আমি উর্দ্বতন কৃতপক্ষকে জানাবো। 

এছাড়াও ইলিশা লঞ্চঘাটে যাত্রীসেবা ও ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


সাংবাদিকদের‘ফ্যাসিস্টের দোসর বললেন বিআইডব্লিউটিএ'র কর্মকর্তা

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকদের ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ভোলা নদী বন্দরের  ট্রাফিক ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে। 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইলিশা লঞ্চঘাটে যাত্রী হয়রানী ঘাট ব্যবস্থাপনা, নৌযান চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তথ্য জানতে ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিতে সাংবাদিকরা বিআইডব্লিউটিএর ভোলা নদী বন্দরের ট্রাফিক ইনচার্জ মুঠোফোনে কাছে প্রশ্ন করেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার একপর্যায়ে ট্রাফিক ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন তাদের উদ্দেশে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর এমন বক্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক তানজিল ও ইমন বলেন, সরকারি সংস্থার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার কাছে ঘাট ব্যবস্থাপনা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের দায়িত্বের অংশ। 

কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তার ব্যাখ্যা বা সংশ্লিষ্ট তথ্য দিয়ে জবাব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের ফ্যাসিস্ট ও সাংবাদিক নামে সাংঘাতিক নামে আখ্যায়িত করা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। 

ঘটনাটি নিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলার সিনিয়র সাংবাদিকরা। 

ভোলা প্রেসক্লাবে ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক হেলাল উদ্দিন গোলদার প্রশ্ন রেখে  বলেন রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যম। একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি গণমাধ্যমের সাথে এ ধরনের আচরণ করেন তাহলে জনসাধারণের অবস্থা কি?

এছারাও সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানায় ট্রাফিক ইনচার্জ জাহাঙ্গীর যেখানে থাকে সেখানে মাদক  রয়েছে এমন একটি কল রেকর্ড এসেছে প্রতিবেদকের হাতে এবং পূর্বের কর্মস্থলগুলোতেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। 

এ বিষয়ে ট্রাফিক ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন আপনাদের যদি কিছু বলার থাকে তাহলে ইলিশা ঘাটে আসেন, তারপর আপনাদের সাথে কথা বলবো।

ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক (বিআই ডব্লিওটিএ'র) নির্মল বাবু এ প্রতিবেদক কে জানান এবিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নাই এটা সম্পূর্ণ উনার ব্যক্তিগত বিষয়। তারপরও বলছি সাংবাদিকদের কে ফ্যাসিস্টের দোসর  বলাটা ঠিক হয়নি, আপনি সংবাদ প্রচার করেন, বিষয়টি আমি উর্দ্বতন কৃতপক্ষকে জানাবো। 

এছাড়াও ইলিশা লঞ্চঘাটে যাত্রীসেবা ও ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত