জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

কম বয়সেই হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে কেন বাড়ে



কম বয়সেই হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে কেন বাড়ে
ছবি- সংগৃহীত

লিভারে অতিরিক্ত মেদ (ফ্যাটি লিভার) জমলে তা শুধু লিভারের ক্ষতি করে না বরং কম বয়সেই হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। রক্তে চর্বি জমা, উচ্চ রক্তচাপ এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণে এ দুটি সমস্যা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিজের অজান্তে শরীরের বড় বিপদ ডেকে আনা এসব ক্ষতিকর অভ্যাস প্রতিরোধ করা জরুরি।

বাঙালির রান্নাঘরে তেল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মাছ ভাজা, লুচি, পরোটা, বেগুনি, চপ, কাটলেট কিংবা নানা ধরনের ঝাল-মসলাদার রান্না তেল ছাড়া যেন ভাবাই যায় না। কিন্তু স্বাদের জন্য খাবারে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করার অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

তারা বলছেন, শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য কিছু পরিমাণ ফ্যাটের প্রয়োজন আছে। কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল খাওয়া শুরু করলে বড় বিপদ ঘটতে পারে। অতিরিক্ত তেল শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি বাড়িয়ে তোলে, যার ফলে ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আর এই অতিরিক্ত ওজন থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হৃদযন্ত্র। অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল বাড়তে পারে। এই কোলেস্টেরল ধমনির ভেতরে জমতে শুরু করে, ফলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

শুধু হৃদযন্ত্র নয়, লিভারও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। অতিরিক্ত তেল, জাঙ্ক ফুড এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খেলে লিভারে চর্বি জমতে থাকে। শুরুতে তেমন লক্ষণ না থাকলেও ধীরে ধীরে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং প্রদাহও দেখা দিতে পারে।
এছাড়া আরো একটি বিপজ্জনক অভ্যাস হলো একই তেল বারবার ব্যবহার করা। অনেকে ভাজার পর বেঁচে যাওয়া তেল পুনরায় ব্যবহার করেন। বারবার গরম করলে তেলের গঠন বদলে যায় এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হয়, যা শরীরের কোষের ক্ষতি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে এর মানে এই নয় যে পুরোপুরি তেল খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

চিকিৎসকদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ভালো মানের তেল ব্যবহার করা উচিত। সরিষার তেল, চিনাবাদাম তেল কিংবা অন্যান্য উদ্ভিজ্জ তেল সীমিতভাবে ব্যবহার করা ভালো। পাশাপাশি ভাজাভুজির বদলে সেদ্ধ, গ্রিল বা কম তেলে রান্না করা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কম বয়সেই হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে কেন বাড়ে

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

লিভারে অতিরিক্ত মেদ (ফ্যাটি লিভার) জমলে তা শুধু লিভারের ক্ষতি করে না বরং কম বয়সেই হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। রক্তে চর্বি জমা, উচ্চ রক্তচাপ এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণে এ দুটি সমস্যা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিজের অজান্তে শরীরের বড় বিপদ ডেকে আনা এসব ক্ষতিকর অভ্যাস প্রতিরোধ করা জরুরি।

বাঙালির রান্নাঘরে তেল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মাছ ভাজা, লুচি, পরোটা, বেগুনি, চপ, কাটলেট কিংবা নানা ধরনের ঝাল-মসলাদার রান্না তেল ছাড়া যেন ভাবাই যায় না। কিন্তু স্বাদের জন্য খাবারে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করার অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

তারা বলছেন, শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য কিছু পরিমাণ ফ্যাটের প্রয়োজন আছে। কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল খাওয়া শুরু করলে বড় বিপদ ঘটতে পারে। অতিরিক্ত তেল শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি বাড়িয়ে তোলে, যার ফলে ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আর এই অতিরিক্ত ওজন থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হৃদযন্ত্র। অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল বাড়তে পারে। এই কোলেস্টেরল ধমনির ভেতরে জমতে শুরু করে, ফলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

শুধু হৃদযন্ত্র নয়, লিভারও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। অতিরিক্ত তেল, জাঙ্ক ফুড এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খেলে লিভারে চর্বি জমতে থাকে। শুরুতে তেমন লক্ষণ না থাকলেও ধীরে ধীরে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং প্রদাহও দেখা দিতে পারে।
এছাড়া আরো একটি বিপজ্জনক অভ্যাস হলো একই তেল বারবার ব্যবহার করা। অনেকে ভাজার পর বেঁচে যাওয়া তেল পুনরায় ব্যবহার করেন। বারবার গরম করলে তেলের গঠন বদলে যায় এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হয়, যা শরীরের কোষের ক্ষতি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে এর মানে এই নয় যে পুরোপুরি তেল খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

চিকিৎসকদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ভালো মানের তেল ব্যবহার করা উচিত। সরিষার তেল, চিনাবাদাম তেল কিংবা অন্যান্য উদ্ভিজ্জ তেল সীমিতভাবে ব্যবহার করা ভালো। পাশাপাশি ভাজাভুজির বদলে সেদ্ধ, গ্রিল বা কম তেলে রান্না করা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত