জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

টাকার অভাবে জুটছে না ওষুধ

রাজাপুরের বিধবা রাজিয়ার মানবেতর জীবনযাপন



রাজাপুরের বিধবা রাজিয়ার মানবেতর জীবনযাপন
ছবি : প্রতিনিধি

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নিজ গালুয়া গ্রামে একজন ৮৮ বছরের বৃদ্ধ, অন্যজন ৭৫ বছরের বৃদ্ধা। দুজনই শয্যাশায়ী। একজন সাড়ে চার বছর ধরে স্ট্রোকের পর প্যারালাইসড হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন, অন্যজন প্রায় এক বছর ধরে অসুস্থ হয়ে হারিয়েছেন কথা বলা ও চলাচলের সক্ষমতা। 

অর্থের অভাবে প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ তাঁদের নিয়মিত ওষুধ। ঘরে খাবারও থাকে না সবসময়। এমন পরিস্থিতিতে দুই সন্তান ও অসুস্থ মা-বাবাকে নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন বিধবা রাজিয়া বেগম।

উপজেলার নিজ গালুয়া গ্রামের বাসিন্দা মুজাফফর হাওলাদার (৮৮) প্রায় সাড়ে চার বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এতে তাঁর বাম হাত ও পা অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে বিছানাই তাঁর ঠিকানা। বয়সের ভার ও অসুস্থতার কারণে শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে প্রায় দুই বছর ধরে তাঁর প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে।

একই ঘরে শয্যাশায়ী তাঁর স্ত্রী নাজিমুল বেগম (৭৫)। প্রায় এক বছর ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন তিনি। তাঁর ডান হাত ও পা অবশ হয়ে গেছে। কথা বলতে পারেন না। নিজে উঠে বসা কিংবা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সামর্থ্যও নেই। সার্বক্ষণিক অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন তাঁর।

বৃদ্ধ মা-বাবার এমন অসহায় অবস্থা দেখে তাঁদের নিজের সংসারে নিয়ে আসেন বড় মেয়ে রাজিয়া বেগম। প্রায় ছয় বছর আগে তাঁর স্বামী আব্দুস সত্তার মারা যান। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। এর মধ্যেই অসুস্থ মা-বাবার দায়িত্বও এসে পড়ে তাঁর কাঁধে।

এখন একই ঘরে দুই অসুস্থ বৃদ্ধ মা-বাবা, দুই সন্তান ও বিধবা রাজিয়া। নেই পর্যাপ্ত খাবার, নেই চিকিৎসার টাকা। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে দুই শয্যাশায়ী বৃদ্ধের ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে কখনও একবেলা, কখনও অর্ধাহারে দিন কাটছে পুরো পরিবারের।

রাজিয়ার কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, মা-বাবার অসুস্থতা চোখের সামনে দেখেও তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না। ওষুধের প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে দিনের পর দিন তা ছাড়াই থাকতে হচ্ছে তাঁদের।

রাজিয়া বেগম বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। মা-বাবা দুজনই অসুস্থ। তাঁদের নিজের কাছে এনে সেবা করছি। কিন্তু খাবার জোগাড় করতেই কষ্ট হয়, ওষুধ কিনব কীভাবে? অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়। মানুষের সহযোগিতা পেলে মা-বাবার চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করতে পারতাম।’

অসহায় রাজিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও হৃদয়বান মানুষের প্রতি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সামান্য সহযোগিতাও এই অসহায় পরিবারের জন্য হয়ে উঠতে পারে বেঁচে থাকার বড় অবলম্বন। সহযোগিতার জন্য বিকাশ (ব্যক্তিগত): ০১৭৫৬৬৮২৬৯১ 

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাজাপুরের বিধবা রাজিয়ার মানবেতর জীবনযাপন

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নিজ গালুয়া গ্রামে একজন ৮৮ বছরের বৃদ্ধ, অন্যজন ৭৫ বছরের বৃদ্ধা। দুজনই শয্যাশায়ী। একজন সাড়ে চার বছর ধরে স্ট্রোকের পর প্যারালাইসড হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন, অন্যজন প্রায় এক বছর ধরে অসুস্থ হয়ে হারিয়েছেন কথা বলা ও চলাচলের সক্ষমতা। 

অর্থের অভাবে প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ তাঁদের নিয়মিত ওষুধ। ঘরে খাবারও থাকে না সবসময়। এমন পরিস্থিতিতে দুই সন্তান ও অসুস্থ মা-বাবাকে নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন বিধবা রাজিয়া বেগম।

উপজেলার নিজ গালুয়া গ্রামের বাসিন্দা মুজাফফর হাওলাদার (৮৮) প্রায় সাড়ে চার বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এতে তাঁর বাম হাত ও পা অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে বিছানাই তাঁর ঠিকানা। বয়সের ভার ও অসুস্থতার কারণে শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে প্রায় দুই বছর ধরে তাঁর প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে।

একই ঘরে শয্যাশায়ী তাঁর স্ত্রী নাজিমুল বেগম (৭৫)। প্রায় এক বছর ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন তিনি। তাঁর ডান হাত ও পা অবশ হয়ে গেছে। কথা বলতে পারেন না। নিজে উঠে বসা কিংবা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সামর্থ্যও নেই। সার্বক্ষণিক অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন তাঁর।

বৃদ্ধ মা-বাবার এমন অসহায় অবস্থা দেখে তাঁদের নিজের সংসারে নিয়ে আসেন বড় মেয়ে রাজিয়া বেগম। প্রায় ছয় বছর আগে তাঁর স্বামী আব্দুস সত্তার মারা যান। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। এর মধ্যেই অসুস্থ মা-বাবার দায়িত্বও এসে পড়ে তাঁর কাঁধে।

এখন একই ঘরে দুই অসুস্থ বৃদ্ধ মা-বাবা, দুই সন্তান ও বিধবা রাজিয়া। নেই পর্যাপ্ত খাবার, নেই চিকিৎসার টাকা। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে দুই শয্যাশায়ী বৃদ্ধের ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে কখনও একবেলা, কখনও অর্ধাহারে দিন কাটছে পুরো পরিবারের।

রাজিয়ার কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, মা-বাবার অসুস্থতা চোখের সামনে দেখেও তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না। ওষুধের প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে দিনের পর দিন তা ছাড়াই থাকতে হচ্ছে তাঁদের।

রাজিয়া বেগম বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। মা-বাবা দুজনই অসুস্থ। তাঁদের নিজের কাছে এনে সেবা করছি। কিন্তু খাবার জোগাড় করতেই কষ্ট হয়, ওষুধ কিনব কীভাবে? অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়। মানুষের সহযোগিতা পেলে মা-বাবার চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করতে পারতাম।’

অসহায় রাজিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও হৃদয়বান মানুষের প্রতি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সামান্য সহযোগিতাও এই অসহায় পরিবারের জন্য হয়ে উঠতে পারে বেঁচে থাকার বড় অবলম্বন। সহযোগিতার জন্য বিকাশ (ব্যক্তিগত): ০১৭৫৬৬৮২৬৯১ 


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত