জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

লালমনিরহাটে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন



লালমনিরহাটে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন
ছবি- প্রতিনিধি

‎তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলা প্রত্যাহার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে লালমনিরহাটে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

‎​রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ‘সত্য প্রকাশে কলম চলবে’ স্লোগানে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে এ কর্মসূচি পালিত হয়। 

‎জেলার বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে কর্মরত বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক এই মানববন্ধনে অংশ নেন। দেশ টিভির লালমনিরহাট প্রতিনিধি জামাল বাদশার সঞ্চালনায় কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়।

‎​মামলায় অভিযুক্ত দুই সাংবাদিক হলেন,  দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি এস কে সাহেদ এবং দৈনিক নয়া দিগন্ত মাল্টিমিডিয়ার প্রতিনিধি জুবাইর আহমেদ খান রোহান।  

‎​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সমবায় সমিতিটির নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটি মূলত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টি ও সাংবাদিকদের হয়রানি করার একটি অপচেষ্টা।

‎​কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সেতু সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি। তিনি বলেন, সমাজের নানা অসঙ্গতি ও অনিয়ম উন্মোচন করায় কিছু প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে, তবে এর প্রতিকার মামলা হতে পারে না। তিনি এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান।

‎​৭১ টেলিভিশনের প্রতিনিধি মিলন পাটোয়ারী বলেন, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে যারা অপসাংবাদিকতা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের কারণে অনেক সময় প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।

‎​বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের বিভাগীয় সভাপতি ও লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি এস আর রতন বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে বাধা বা ভয়ভীতি দেখানোর যেকোনো অপচেষ্টা সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না। সত্য প্রকাশের কারণে এই ধরনের হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।  

‎​প্রেস ক্লাব লালমনিরহাটের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম লিটন তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল স্বাধীন সাংবাদিকতার গতি থামিয়ে দিতে নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এদের চিহ্নিত করে তদন্তের আওতায় আনতে হবে এবং সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এসব ষড়যন্ত্রের শক্ত জবাব দিতে হবে।  

‎​সিনিয়র সাংবাদিক গকুল রায় বলেন, পেশাদার সাংবাদিকদের পূর্ণ সুরক্ষা দিতে হবে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা সৃষ্টিকারী ও হলুদ সাংবাদিকদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

‎​মানববন্ধন থেকে অনতিবিলম্বে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলা প্রত্যাহার এবং জেলায় সাংবাদিকদের জন্য স্বাধীন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


লালমনিরহাটে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

‎তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলা প্রত্যাহার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে লালমনিরহাটে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

‎​রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ‘সত্য প্রকাশে কলম চলবে’ স্লোগানে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে এ কর্মসূচি পালিত হয়। 

‎জেলার বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে কর্মরত বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক এই মানববন্ধনে অংশ নেন। দেশ টিভির লালমনিরহাট প্রতিনিধি জামাল বাদশার সঞ্চালনায় কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়।

‎​মামলায় অভিযুক্ত দুই সাংবাদিক হলেন,  দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি এস কে সাহেদ এবং দৈনিক নয়া দিগন্ত মাল্টিমিডিয়ার প্রতিনিধি জুবাইর আহমেদ খান রোহান।  

‎​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সমবায় সমিতিটির নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটি মূলত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টি ও সাংবাদিকদের হয়রানি করার একটি অপচেষ্টা।

‎​কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সেতু সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি। তিনি বলেন, সমাজের নানা অসঙ্গতি ও অনিয়ম উন্মোচন করায় কিছু প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে, তবে এর প্রতিকার মামলা হতে পারে না। তিনি এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান।

‎​৭১ টেলিভিশনের প্রতিনিধি মিলন পাটোয়ারী বলেন, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে যারা অপসাংবাদিকতা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের কারণে অনেক সময় প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।

‎​বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের বিভাগীয় সভাপতি ও লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি এস আর রতন বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে বাধা বা ভয়ভীতি দেখানোর যেকোনো অপচেষ্টা সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না। সত্য প্রকাশের কারণে এই ধরনের হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।  

‎​প্রেস ক্লাব লালমনিরহাটের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম লিটন তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল স্বাধীন সাংবাদিকতার গতি থামিয়ে দিতে নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এদের চিহ্নিত করে তদন্তের আওতায় আনতে হবে এবং সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এসব ষড়যন্ত্রের শক্ত জবাব দিতে হবে।  

‎​সিনিয়র সাংবাদিক গকুল রায় বলেন, পেশাদার সাংবাদিকদের পূর্ণ সুরক্ষা দিতে হবে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা সৃষ্টিকারী ও হলুদ সাংবাদিকদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

‎​মানববন্ধন থেকে অনতিবিলম্বে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলা প্রত্যাহার এবং জেলায় সাংবাদিকদের জন্য স্বাধীন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত