জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

স্বাস্থ্য সহকারীকে শোকজ

বোচাগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পুড়িয়ে মাটিচাপা



বোচাগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পুড়িয়ে মাটিচাপা
ছবি- প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে কমিটির অনুমোদন ছাড়াই কয়েক লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে  এসব ওষুধ পোড়ানোর চিহ্ন ও অবশিষ্টাংশ দেখতে পাওয়া যায়। পরে পোড়ানো ওষুধের ওপর ঘাস ও মাটি দিয়ে চাপা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওষুধ পোড়ানোর পর এর গন্ধ যাতে বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য পোড়ানো ওষুধের ওপর ঘাস ও মাটি দিয়ে চাপা দেওয়া হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. বিজয় কুমার রায় বলেন, “আমি ওষুধ পোড়ানোর কোনো অনুমতি দেইনি। ওষুধগুলো ২০২২ সালে সরবরাহ করা হয়েছিল এবং ২০২৪ সালে সেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে। ওষুধ পোড়ানোর ঘটনায় স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুর রাহাতকে শোকজ করা হয়েছে।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্টোরকিপারের পদটি শূন্য থাকায় স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুর রাহাদ স্টোরের দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুর রাহাদ জানান, কয়েকদিন আগে অপারেশন থিয়েটার পরিষ্কার করা হয়েছিল। তার ধারণা, সেখান থেকে পাওয়া ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো পুড়িয়ে ফেলা হতে পারে।

তবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো কার নির্দেশে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোন কমিটির মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ওষুধের সংকট রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের পেছনে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ নিতে আসা শহিদুল ইসলাম নামে এক চায়ের দোকানদার বলেন, “কিছুদিন আগে আমি কারেন্টের শক খেয়েছিলাম। আজও ওষুধ নিতে হাসপাতালে এসেছি। এখানে ওষুধ নেই। অথচ হাসপাতালের পেছনে দেখছি ওষুধ পোড়ানো হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল মোস্তাক বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে রাতে ওষুধ পোড়ানো হচ্ছে। পরে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তিনি আসিফ ও রাতুলসহ সেখানে গিয়ে ফেসবুক লাইভ করেন। সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান বলে দাবি করেন তিনি। পরে বিষয়টি সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফয়সাল মোস্তাক আরও বলেন, “যেখানে সাধারণ মানুষ ওষুধ পায় না, সেখানে রাতের আঁধারে ওষুধ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়ম বোচাগঞ্জে আর চলতে দেওয়া হবে না। দায়িত্বশীলরা বিষয়টি আমলে নিয়েছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। এখন কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই দেখার বিষয়।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ২০২২ সালে সরবরাহ করা ওষুধগুলো ২০২৪ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর এতদিন কেন সংরক্ষণ করা হলো, কেন সময়মতো বিতরণ করা হয়নি এবং কীভাবে সেগুলো ধ্বংস করা হলো। একই সঙ্গে কত ধরনের ও কী পরিমাণ ওষুধ ছিল এবং এসব ওষুধের মোট মূল্য কত—তাও তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংসের ক্ষেত্রে কোনো কমিটি গঠন ও অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, ধ্বংসের প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না এবং কার নির্দেশে ওষুধগুলো পোড়ানো হয়েছে—এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বোচাগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পুড়িয়ে মাটিচাপা

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে কমিটির অনুমোদন ছাড়াই কয়েক লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে  এসব ওষুধ পোড়ানোর চিহ্ন ও অবশিষ্টাংশ দেখতে পাওয়া যায়। পরে পোড়ানো ওষুধের ওপর ঘাস ও মাটি দিয়ে চাপা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওষুধ পোড়ানোর পর এর গন্ধ যাতে বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য পোড়ানো ওষুধের ওপর ঘাস ও মাটি দিয়ে চাপা দেওয়া হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. বিজয় কুমার রায় বলেন, “আমি ওষুধ পোড়ানোর কোনো অনুমতি দেইনি। ওষুধগুলো ২০২২ সালে সরবরাহ করা হয়েছিল এবং ২০২৪ সালে সেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে। ওষুধ পোড়ানোর ঘটনায় স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুর রাহাতকে শোকজ করা হয়েছে।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্টোরকিপারের পদটি শূন্য থাকায় স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুর রাহাদ স্টোরের দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুর রাহাদ জানান, কয়েকদিন আগে অপারেশন থিয়েটার পরিষ্কার করা হয়েছিল। তার ধারণা, সেখান থেকে পাওয়া ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো পুড়িয়ে ফেলা হতে পারে।

তবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো কার নির্দেশে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোন কমিটির মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ওষুধের সংকট রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের পেছনে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ নিতে আসা শহিদুল ইসলাম নামে এক চায়ের দোকানদার বলেন, “কিছুদিন আগে আমি কারেন্টের শক খেয়েছিলাম। আজও ওষুধ নিতে হাসপাতালে এসেছি। এখানে ওষুধ নেই। অথচ হাসপাতালের পেছনে দেখছি ওষুধ পোড়ানো হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল মোস্তাক বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে রাতে ওষুধ পোড়ানো হচ্ছে। পরে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তিনি আসিফ ও রাতুলসহ সেখানে গিয়ে ফেসবুক লাইভ করেন। সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান বলে দাবি করেন তিনি। পরে বিষয়টি সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফয়সাল মোস্তাক আরও বলেন, “যেখানে সাধারণ মানুষ ওষুধ পায় না, সেখানে রাতের আঁধারে ওষুধ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়ম বোচাগঞ্জে আর চলতে দেওয়া হবে না। দায়িত্বশীলরা বিষয়টি আমলে নিয়েছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। এখন কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই দেখার বিষয়।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ২০২২ সালে সরবরাহ করা ওষুধগুলো ২০২৪ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর এতদিন কেন সংরক্ষণ করা হলো, কেন সময়মতো বিতরণ করা হয়নি এবং কীভাবে সেগুলো ধ্বংস করা হলো। একই সঙ্গে কত ধরনের ও কী পরিমাণ ওষুধ ছিল এবং এসব ওষুধের মোট মূল্য কত—তাও তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংসের ক্ষেত্রে কোনো কমিটি গঠন ও অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, ধ্বংসের প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না এবং কার নির্দেশে ওষুধগুলো পোড়ানো হয়েছে—এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত