সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও কাজ পাননি স্থানীয় ঠিকাদার এম কেরামত আলী। অভিযোগ, তাঁর পরিবর্তে চতুর্থ সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ৫১ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।
শুধু একটি দরপত্র নয়, আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরও কয়েকটি দরপত্র, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রায় আট মাস পর অবশেষে তদন্তে নামছে কমিটি।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এ তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগকারী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করবে তদন্ত কমিটি।
স্থানীয় ঠিকাদার এম কেরামত আলী গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে সরকারি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়ম এবং রোগী ও সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়।
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে হাসপাতালের আসবাবপত্র কেনার একটি দরপত্র। কেরামত আলীর দাবি, টেন্ডার আইডি নং-১১৪৭৫৪২-এ তিনি সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলেন।
নিয়ম অনুযায়ী কাজ পাওয়ার কথা থাকলেও তাঁকে বাদ দিয়ে চতুর্থ সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়। এতে সরকারের প্রায় ৫১ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কেরামত আলীর আরও অভিযোগ, একইভাবে অন্যান্য দরপত্রেও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের কয়েক লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটায়ও অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া সাধারণ রোগী ও সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আচরণ নিয়েও অভিযোগ করেন ওই ঠিকাদার। তাঁর দাবি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযোগের দিনই ডা. আবু শফি মাহমুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন স্থানীয় ঠিকাদার ও বাসিন্দারা। ‘সাধারণ ঠিকাদার ও আক্কেলপুরবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণ দাবি করা হয়।
অভিযোগের পর রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের নির্দেশনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে নওগাঁর সিভিল সার্জন কার্যালয়। কমিটির সভাপতি নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম। সদস্য বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা এবং সদস্যসচিব নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুনীর আলী আকন্দ।
জারি করা পত্রে তদন্ত কমিটিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের মাধ্যমে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী এম কেরামত আলীকেও তদন্তের সময় উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এম কেরামত আলী বলেন, টেন্ডার আইডি নং-১১৪৭৫৪২-এ আমি সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলাম। কিন্তু আমাকে বাদ দিয়ে চতুর্থ সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য দরপত্রেও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে।
এতে সরকারের কয়েক লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ করেছি। আমরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তার অপসারণ চাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. আবু শফি মাহমুদ। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেরামত আলী দরপত্রের শর্ত পূরণ করতে পারেননি। এ কারণে তাঁর দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। কাজ না পেয়ে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই তিনি এসব অভিযোগ করেছেন।
তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ডা. মো. মুনীর আলী আকন্দ বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
অভিযোগকারীসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হবে। তদন্ত শেষে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও কাজ পাননি স্থানীয় ঠিকাদার এম কেরামত আলী। অভিযোগ, তাঁর পরিবর্তে চতুর্থ সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ৫১ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।
শুধু একটি দরপত্র নয়, আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরও কয়েকটি দরপত্র, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রায় আট মাস পর অবশেষে তদন্তে নামছে কমিটি।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এ তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগকারী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করবে তদন্ত কমিটি।
স্থানীয় ঠিকাদার এম কেরামত আলী গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে সরকারি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়ম এবং রোগী ও সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়।
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে হাসপাতালের আসবাবপত্র কেনার একটি দরপত্র। কেরামত আলীর দাবি, টেন্ডার আইডি নং-১১৪৭৫৪২-এ তিনি সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলেন।
নিয়ম অনুযায়ী কাজ পাওয়ার কথা থাকলেও তাঁকে বাদ দিয়ে চতুর্থ সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়। এতে সরকারের প্রায় ৫১ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কেরামত আলীর আরও অভিযোগ, একইভাবে অন্যান্য দরপত্রেও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের কয়েক লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটায়ও অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া সাধারণ রোগী ও সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আচরণ নিয়েও অভিযোগ করেন ওই ঠিকাদার। তাঁর দাবি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযোগের দিনই ডা. আবু শফি মাহমুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন স্থানীয় ঠিকাদার ও বাসিন্দারা। ‘সাধারণ ঠিকাদার ও আক্কেলপুরবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণ দাবি করা হয়।
অভিযোগের পর রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের নির্দেশনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে নওগাঁর সিভিল সার্জন কার্যালয়। কমিটির সভাপতি নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম। সদস্য বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা এবং সদস্যসচিব নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুনীর আলী আকন্দ।
জারি করা পত্রে তদন্ত কমিটিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের মাধ্যমে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী এম কেরামত আলীকেও তদন্তের সময় উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এম কেরামত আলী বলেন, টেন্ডার আইডি নং-১১৪৭৫৪২-এ আমি সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলাম। কিন্তু আমাকে বাদ দিয়ে চতুর্থ সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য দরপত্রেও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে।
এতে সরকারের কয়েক লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ করেছি। আমরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তার অপসারণ চাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. আবু শফি মাহমুদ। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেরামত আলী দরপত্রের শর্ত পূরণ করতে পারেননি। এ কারণে তাঁর দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। কাজ না পেয়ে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই তিনি এসব অভিযোগ করেছেন।
তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ডা. মো. মুনীর আলী আকন্দ বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
অভিযোগকারীসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হবে। তদন্ত শেষে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন