জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

বেলাবতে আখ চাষ করে ৩ সন্তান কে প্রতিষ্ঠিত করলেন এক কৃষক ও তার গৃহিনী



বেলাবতে আখ চাষ করে ৩ সন্তান কে প্রতিষ্ঠিত করলেন এক কৃষক ও তার গৃহিনী
ছবি- প্রতিনিধি

একসময় আখ চাষের জন্য নরসিংদী জেলার অন্যতম বিখ্যাত উপজেলা ছিল বেলাব। কিন্তু বিভিন্ন সেচ প্রকল্প আবির্ভাবের ফলে ধান চাষে ঝুঁকে পড়ে কৃষক। আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশে ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে পুনরায় আখ চাষের দিকে ধাবিত হচ্ছে তারা। বর্তমানে এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করে ধানের চেয়ে প্রায় ৭ গুণ বেশি লাভবান হচ্ছে কৃষক।

বেলাব  উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৪ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হচ্ছে। তা ছাড়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে চাষ হচ্ছে আখ বলে জানা যায়। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে বাজনাব, পাটুলী, আমলাব, চর উজিলাব ও নারায়ণপুর। বেলাব উপজেলায় চাষকৃত আখের জাতগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ঈশ্বরদী-২৮ ও টেনাই (বোম্বাই)। টেনাই সরাসরি বাজারে বিক্রি করা হয় খাবারের জন্য। 

অন্যদিকে ঈশ্বরদী গুড় তৈরি ও চিনি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। একসময় আখ মাড়াইয়ের মেশিন ঘুরাতে ব্যবহৃত হতো গরু-মহিষ। কিন্তু বর্তমানে সেলো ইঞ্জিনের সাহায্যে আখ মাড়াইয়ে কাজ চালাচ্ছে কাজে তেমন বেগ পেতে হচ্ছে না বলে জানা কৃষক।

কৃষকরা জানায়, জমিতে আখ পরিপূর্ণ হতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগে। তাই এর উৎপাদন খরচেয়ে বেশি ব্যয় হয় বলে জানা কৃষক আল-আমিন।

বেলাব উপজেলার বাজনাব গ্রামের সৈয়দ পাড়ার আখ চাষি আসাদ মিয়া জানান, এ বছর তিনি তার ৫ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন এবং তা থেকে অনেক লাভবান হয়েছেন।বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে জমি থেকে আখ কিনে নিয়ে যায় বলে বিক্রি নিয়ে তেমন ঝামেলায় পড়তে হয়নি। তা ছাড়া সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন সবজি চাষ করেও অনেক লাভবান হওয়া যায়। 

বেলাব উপজেলা কৃষি উপসহকারী সালাহ উদ্দিন ভুঁইয়া  সংবাদ কর্মী রুদ্রকে জানান, আখ চাষের জন্য ক্ষারীয় মাটির প্রয়োজন যা এ এলাকায় আছে।

অন্যান্য ফসলের মতো আখ চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কি না জনতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার নাজিম উর রউফ জানান, সরকারিভাবে আখ চাষিদের প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আমরা স্থানীয়ভাবে তাদেরকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকি।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বেলাবতে আখ চাষ করে ৩ সন্তান কে প্রতিষ্ঠিত করলেন এক কৃষক ও তার গৃহিনী

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

একসময় আখ চাষের জন্য নরসিংদী জেলার অন্যতম বিখ্যাত উপজেলা ছিল বেলাব। কিন্তু বিভিন্ন সেচ প্রকল্প আবির্ভাবের ফলে ধান চাষে ঝুঁকে পড়ে কৃষক। আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশে ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে পুনরায় আখ চাষের দিকে ধাবিত হচ্ছে তারা। বর্তমানে এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করে ধানের চেয়ে প্রায় ৭ গুণ বেশি লাভবান হচ্ছে কৃষক।

বেলাব  উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৪ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হচ্ছে। তা ছাড়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে চাষ হচ্ছে আখ বলে জানা যায়। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে বাজনাব, পাটুলী, আমলাব, চর উজিলাব ও নারায়ণপুর। বেলাব উপজেলায় চাষকৃত আখের জাতগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ঈশ্বরদী-২৮ ও টেনাই (বোম্বাই)। টেনাই সরাসরি বাজারে বিক্রি করা হয় খাবারের জন্য। 

অন্যদিকে ঈশ্বরদী গুড় তৈরি ও চিনি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। একসময় আখ মাড়াইয়ের মেশিন ঘুরাতে ব্যবহৃত হতো গরু-মহিষ। কিন্তু বর্তমানে সেলো ইঞ্জিনের সাহায্যে আখ মাড়াইয়ে কাজ চালাচ্ছে কাজে তেমন বেগ পেতে হচ্ছে না বলে জানা কৃষক।

কৃষকরা জানায়, জমিতে আখ পরিপূর্ণ হতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগে। তাই এর উৎপাদন খরচেয়ে বেশি ব্যয় হয় বলে জানা কৃষক আল-আমিন।

বেলাব উপজেলার বাজনাব গ্রামের সৈয়দ পাড়ার আখ চাষি আসাদ মিয়া জানান, এ বছর তিনি তার ৫ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন এবং তা থেকে অনেক লাভবান হয়েছেন।বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে জমি থেকে আখ কিনে নিয়ে যায় বলে বিক্রি নিয়ে তেমন ঝামেলায় পড়তে হয়নি। তা ছাড়া সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন সবজি চাষ করেও অনেক লাভবান হওয়া যায়। 

বেলাব উপজেলা কৃষি উপসহকারী সালাহ উদ্দিন ভুঁইয়া  সংবাদ কর্মী রুদ্রকে জানান, আখ চাষের জন্য ক্ষারীয় মাটির প্রয়োজন যা এ এলাকায় আছে।

অন্যান্য ফসলের মতো আখ চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কি না জনতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার নাজিম উর রউফ জানান, সরকারিভাবে আখ চাষিদের প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আমরা স্থানীয়ভাবে তাদেরকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকি।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত