জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার,শনিবার থেকে চালু হিলি বন্দর



ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার,শনিবার থেকে চালু হিলি বন্দর
ছবি : প্রতিনিধি

দীর্ঘ পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পাওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে আগামীকাল শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতের বালুরঘাটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত সমস্যা, বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ তুলে গত ৩০ আগস্ট থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেন ভারতের হিলির ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রাখা হয়। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয় এবং শত শত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন।

ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মণ্ডল বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে বালুরঘাটে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নসহ বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় আমরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, গত বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বালুরঘাট সফরকালে প্রশাসনিক বৈঠকে ব্যবসায়ীরা হিলি স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহজীকরণ এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিকাশ মণ্ডল জানান, শুক্রবার বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশের হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম মণ্ডল বলেন, ভারতের বালুরঘাটে জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের বৈঠকের বিষয়টি আমরা জেনেছি। তবে বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এখনো আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে ভারতের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট যৌক্তিক ছিল। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও জটিলতার কারণে হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য দিন দিন কমে প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরাই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এদিকে ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি স্থলবন্দর বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। ফলে ইতোমধ্যে শত শত ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অথচ অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে।

তাদের দাবি, অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় শুধু হিলি দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও বিধিনিষেধের কারণে ব্যবসায়ীরা সমস্যার মুখে পড়ছেন। 

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা ও বৈষম্যের প্রতিবাদে তারা গত ৩০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধের কর্মসূচি পালন করেন।

প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। 

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার,শনিবার থেকে চালু হিলি বন্দর

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পাওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে আগামীকাল শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতের বালুরঘাটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত সমস্যা, বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ তুলে গত ৩০ আগস্ট থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেন ভারতের হিলির ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রাখা হয়। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয় এবং শত শত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন।

ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মণ্ডল বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে বালুরঘাটে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নসহ বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় আমরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, গত বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বালুরঘাট সফরকালে প্রশাসনিক বৈঠকে ব্যবসায়ীরা হিলি স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহজীকরণ এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিকাশ মণ্ডল জানান, শুক্রবার বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশের হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম মণ্ডল বলেন, ভারতের বালুরঘাটে জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের বৈঠকের বিষয়টি আমরা জেনেছি। তবে বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এখনো আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে ভারতের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট যৌক্তিক ছিল। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও জটিলতার কারণে হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য দিন দিন কমে প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরাই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এদিকে ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি স্থলবন্দর বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। ফলে ইতোমধ্যে শত শত ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অথচ অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে।

তাদের দাবি, অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় শুধু হিলি দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও বিধিনিষেধের কারণে ব্যবসায়ীরা সমস্যার মুখে পড়ছেন। 

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা ও বৈষম্যের প্রতিবাদে তারা গত ৩০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধের কর্মসূচি পালন করেন।

প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। 


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত