জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

জয়পুরহাটে কেটে ফেলা হলো ঋণের টাকায় চাষ করা লাউগাছ,খেতেই স্ত্রীর কান্না



জয়পুরহাটে কেটে ফেলা হলো ঋণের টাকায় চাষ করা লাউগাছ,খেতেই স্ত্রীর কান্না
ছবি : প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে রাতের আঁধারে এক কৃষকের লাউখেতের সব গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে লাউ চাষ করা কৃষক শরণ্যচন্দ্র বর্মন ও তাঁর পরিবার চরম বিপাকে পড়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত খেতের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষকের স্ত্রী মাধবী রানী।

​উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের হার্টশহর গ্রামের সোনারপাড়া ফসলি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ১৬ শতাংশ জমিতে চাষ করা লাউগাছগুলো কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। খেতের পাশে বসেই হতাশা প্রকাশ করছিলেন কৃষক শরণ্যচন্দ্র বর্মন ও তাঁর স্ত্রী।

​কৃষক শরণ্যচন্দ্র জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ১৬ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে তিনি লাউ চাষ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে খেতে গিয়ে দেখেন গাছগুলো নুয়ে পড়েছে। কাছে গিয়ে দেখতে পান, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা সব লাউগাছের গোড়া কেটে দিয়ে গেছে। লাউ ধরার আগেই গাছগুলো কেটে দেওয়ায় তাঁর পুরো পরিশ্রম ও বিনিয়োগ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঋণের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

​কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাধবী রানী বলেন,ঋণ নিয়ে জমি বর্গা নিয়েছিলাম। শত্রুতামূলকভাবে আমাদের সব গাছ কেটে ফেলা হলো। ঘরে মেয়েসন্তানের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার কীভাবে চালাব, তার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছি না।

​স্থানীয় কৃষক মিজানুর রহমান এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

​ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ জানান, ক্ষতির সরাসরি সরকারি ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না থাকলেও ওই কৃষককে ভবিষ্যতে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।

​ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


জয়পুরহাটে কেটে ফেলা হলো ঋণের টাকায় চাষ করা লাউগাছ,খেতেই স্ত্রীর কান্না

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে রাতের আঁধারে এক কৃষকের লাউখেতের সব গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে লাউ চাষ করা কৃষক শরণ্যচন্দ্র বর্মন ও তাঁর পরিবার চরম বিপাকে পড়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত খেতের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষকের স্ত্রী মাধবী রানী।

​উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের হার্টশহর গ্রামের সোনারপাড়া ফসলি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ১৬ শতাংশ জমিতে চাষ করা লাউগাছগুলো কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। খেতের পাশে বসেই হতাশা প্রকাশ করছিলেন কৃষক শরণ্যচন্দ্র বর্মন ও তাঁর স্ত্রী।

​কৃষক শরণ্যচন্দ্র জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ১৬ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে তিনি লাউ চাষ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে খেতে গিয়ে দেখেন গাছগুলো নুয়ে পড়েছে। কাছে গিয়ে দেখতে পান, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা সব লাউগাছের গোড়া কেটে দিয়ে গেছে। লাউ ধরার আগেই গাছগুলো কেটে দেওয়ায় তাঁর পুরো পরিশ্রম ও বিনিয়োগ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঋণের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

​কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাধবী রানী বলেন,ঋণ নিয়ে জমি বর্গা নিয়েছিলাম। শত্রুতামূলকভাবে আমাদের সব গাছ কেটে ফেলা হলো। ঘরে মেয়েসন্তানের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার কীভাবে চালাব, তার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছি না।

​স্থানীয় কৃষক মিজানুর রহমান এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

​ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ জানান, ক্ষতির সরাসরি সরকারি ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না থাকলেও ওই কৃষককে ভবিষ্যতে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।

​ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত