জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

মৃৎশিল্পীর নিপুণ ছোঁয়ায় রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা



মৃৎশিল্পীর নিপুণ ছোঁয়ায় রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা
ছবি : প্রতিনিধি

শরতের স্নিগ্ধ আলো আর শিউলি ঝরা সকাল জানান দিচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা। দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনকে কেন্দ্র করে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার মন্দির ও মৃৎপল্লিগুলোতে এখন বইছে উৎসবের আমেজ, দিনরাত বাড়ছে ব্যস্ততা। এবার উপজেলা জুড়ে সম্ভাব্য ৪৭টি মণ্ডপে উদযাপিত হতে যাচ্ছে এই আনন্দ উৎসব।

​উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১০ অক্টোবর (শনিবার) শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীকে আবাহন করা হবে। 

এরপর ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) মহা পঞ্চমী এবং ১৭ অক্টোবর (শনিবার) ষষ্ঠীপূজার আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে সূচনা হবে মূল দুর্গোৎসবের। চার দিনব্যাপী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে ২১ অক্টোবর (বুধবার) প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এই সার্বজনীন আয়োজনের।

​পঞ্জিকার ক্ষণগণনা শুরু হতেই মৃৎশিল্পীদের নিপুণ আঙুলের ছোঁয়ায় প্রাণ পাচ্ছে মা দুর্গার মৃন্ময়ী রূপ। বাঁশ-কাঠের কাঠামো তৈরি, খড় বাঁধা এবং তুষ ও এঁটেল মাটির নিখুঁত মিশ্রণে প্রতিমার অবয়ব গড়ে তুলতে দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন কারিগররা। 

নিথর খড়-মাটির কাঠামো থেকে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে সিংহবাহিনী দেবীর রুদ্র অথচ করুণাময় রূপ। সঙ্গে অত্যন্ত নিপুণভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। মাটির প্রলেপ শুকানোর পর শুরু হবে আল্পনা ও অতি সূক্ষ্ম 'চক্ষুদান' পর্ব, যা দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠার রূপক হিসেবে বিবেচিত।

​উপজেলার ঐতিহ্যবাহী 'দুপচাঁচিয়া মহাশ্মশান কালীবাড়ি কেন্দ্রীয় মন্দির'সহ বেশ কিছু মণ্ডপে এবার আধুনিক থিমভিত্তিক শিল্পভাবনা ফুটিয়ে তোলার কাজ চলছে। স্থানীয় প্রতিমা শিল্পী গোপাল চন্দ্র সরকার জানান, মণ্ডপগুলোতে নতুনত্ব আনতে এবং দর্শনার্থীদের মন জয় করতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

​বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ দুপচাঁচিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি অসিম কুমার দাস জানান, শান্তিময় ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসনিক ও সামাজিক সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। 

সময়মতো মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়েই পূর্ণতা পাবে কারিগরদের শ্রম ও ভক্তদের ধর্মীয় আবেগ। নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। 

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মৃৎশিল্পীর নিপুণ ছোঁয়ায় রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

শরতের স্নিগ্ধ আলো আর শিউলি ঝরা সকাল জানান দিচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা। দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনকে কেন্দ্র করে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার মন্দির ও মৃৎপল্লিগুলোতে এখন বইছে উৎসবের আমেজ, দিনরাত বাড়ছে ব্যস্ততা। এবার উপজেলা জুড়ে সম্ভাব্য ৪৭টি মণ্ডপে উদযাপিত হতে যাচ্ছে এই আনন্দ উৎসব।

​উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১০ অক্টোবর (শনিবার) শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীকে আবাহন করা হবে। 

এরপর ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) মহা পঞ্চমী এবং ১৭ অক্টোবর (শনিবার) ষষ্ঠীপূজার আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে সূচনা হবে মূল দুর্গোৎসবের। চার দিনব্যাপী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে ২১ অক্টোবর (বুধবার) প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এই সার্বজনীন আয়োজনের।

​পঞ্জিকার ক্ষণগণনা শুরু হতেই মৃৎশিল্পীদের নিপুণ আঙুলের ছোঁয়ায় প্রাণ পাচ্ছে মা দুর্গার মৃন্ময়ী রূপ। বাঁশ-কাঠের কাঠামো তৈরি, খড় বাঁধা এবং তুষ ও এঁটেল মাটির নিখুঁত মিশ্রণে প্রতিমার অবয়ব গড়ে তুলতে দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন কারিগররা। 

নিথর খড়-মাটির কাঠামো থেকে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে সিংহবাহিনী দেবীর রুদ্র অথচ করুণাময় রূপ। সঙ্গে অত্যন্ত নিপুণভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। মাটির প্রলেপ শুকানোর পর শুরু হবে আল্পনা ও অতি সূক্ষ্ম 'চক্ষুদান' পর্ব, যা দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠার রূপক হিসেবে বিবেচিত।

​উপজেলার ঐতিহ্যবাহী 'দুপচাঁচিয়া মহাশ্মশান কালীবাড়ি কেন্দ্রীয় মন্দির'সহ বেশ কিছু মণ্ডপে এবার আধুনিক থিমভিত্তিক শিল্পভাবনা ফুটিয়ে তোলার কাজ চলছে। স্থানীয় প্রতিমা শিল্পী গোপাল চন্দ্র সরকার জানান, মণ্ডপগুলোতে নতুনত্ব আনতে এবং দর্শনার্থীদের মন জয় করতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

​বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ দুপচাঁচিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি অসিম কুমার দাস জানান, শান্তিময় ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসনিক ও সামাজিক সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। 

সময়মতো মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়েই পূর্ণতা পাবে কারিগরদের শ্রম ও ভক্তদের ধর্মীয় আবেগ। নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। 


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত