প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
ঘোষবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাঠে খেলাধুলা বন্ধের অভিযোগ
সাভারের আশুলিয়ার ঘোষবাগ এলাকায় ৭৭ নম্বর ঘোষবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ সীমিত করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের মাঠে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলা করতে না দেওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহারের সুযোগ থেকে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। একজন অভিভাবক বলেন, “আমার সন্তানকে বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে দেওয়া হয় না। এ কারণে তাকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করার কথাও ভাবছি।”স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের মাঠের পাশাপাশি স্কুলের সামনের ফুটপাতেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দোকান বসানো রয়েছে। এসব দোকান থেকে দোকানপ্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, ‘সোহেল’ নামে এক ব্যক্তি নিয়মিত এসব টাকা সংগ্রহ করেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।স্থানীয়দের প্রশ্ন, বিদ্যালয়ের সামনের সরকারি জায়গা বা ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো এবং সেখান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের কোনো বৈধ অনুমতি রয়েছে কি না। যদি অনুমোদন না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় কীভাবে এসব দোকান পরিচালিত হচ্ছে—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।অভিযোগকারীদের আরও দাবি, মাঠ ব্যবহার কিংবা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে তাদের নিরুৎসাহিত করা হয়। এমনকি এলাকার বাসিন্দারা বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলে হুমকির মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গা সংকুচিত রেখে বিদ্যালয়ের সামনের ফুটপাতে দোকান বসানো এবং সেই দোকান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের প্রশ্ন—শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার অধিকার কি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে?উল্লেখ্য, ২০২২ সালেও আশুলিয়ার ঘোষবাগ এলাকার এই ৭৭ নম্বর ঘোষবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। দীর্ঘ চার বছর পর ২০২৬ সালেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।এদিকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ও মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি রয়েছে বলে জানা গেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ ও মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলেও স্থানীয়দের করা হুমকি, ফুটপাতের দোকান এবং দোকান থেকে মাসিক অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হোক। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের মাঠ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখা, স্কুলের সামনের ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং দোকান বসিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।শিক্ষার্থীদের মাঠ কি শিক্ষার্থীদের জন্য, নাকি সেখানে অন্য কোনো স্বার্থ কাজ করছে—এ প্রশ্নের উত্তর এখন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের তদন্তেই মিলবে।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত