প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
হিলিতে ঝুম বৃষ্টি, জীবিকার চাকা থমকে দাঁড়ানোর শঙ্কা শ্রমজীবীদের
সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। কিছুক্ষণ পরপরই নামছে ঝুম বৃষ্টি। কখনো মুষলধারে, আবার কখনো টিপটিপ বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে হিলির পথঘাট। বৃষ্টির ছন্দে প্রকৃতি পেলেও স্বস্তি নেই খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে। কারণ বৃষ্টি বাড়লেই থমকে যায় তাদের রোজগারের চাকা।রোববার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে হিলির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা। ছাতা কিংবা পলিথিন মাথায় দিয়ে জরুরি প্রয়োজনে কেউ কেউ বের হলেও সাধারণ মানুষের চলাচল ছিল তুলনামূলক কম। আর এতে বিপাকে পড়েছেন রিকশা-ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির শ্রমজীবী মানুষ।হিলি বাজারের এক পাশে ভ্যান নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় বসে ছিলেন ভ্যানচালক হায়দার আলী। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া গামছা দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন, প্রতিদিন সকালে বের হয়ে যতক্ষণ কাজ করি, ততক্ষণই আয় হয়। বৃষ্টি বেশি হলে মানুষ বের হয় না, যাত্রীও পাওয়া যায় না। আজ সকাল থেকে বসে আছি, আয় বলতে তেমন কিছুই হয়নি।একই কথা জানালেন রিকশাচালক রইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় বের হওয়া খুব কষ্ট। তবুও ঘরে বসে থাকলে তো সংসার চলবে না। তাই ভিজতে ভিজতেই বের হয়েছি। কিন্তু যাত্রী কম থাকায় আয়ও কম।নির্মাণশ্রমিক আবুল কালাম বলেন, আমাদের মতো দিনমজুরদের জন্য একদিন কাজ বন্ধ থাকা মানে একদিনের খাবারের চিন্তা। বৃষ্টির কারণে অনেক সময় কাজ বন্ধ থাকে। তখন সংসারের বাজার খরচ জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়ে।শুধু শ্রমজীবী মানুষই নয়, টানা বৃষ্টিতে হিলির বিভিন্ন নিচু সড়ক ও এলাকায় পানি জমে সাধারণ মানুষের চলাচলেও কিছুটা দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। তবে জীবিকার প্রয়োজনে অনেক শ্রমজীবী মানুষকে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কাজের সন্ধানে বের হতে দেখা গেছে।তাদের কাছে বৃষ্টি মানে শুধু ভেজা পথ কিংবা কাদামাটি নয়, বৃষ্টি মানেই অনেক সময় একটি দিনের আয় হারানোর শঙ্কা। তাই মাথার ওপর ঝুম বৃষ্টি, পায়ের নিচে ভেজা পথ, সবকিছুকে উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে ছুটে চলেছেন হিলির খেটে খাওয়া মানুষ।প্রকৃতির এই বৃষ্টির দিনে শহরের ব্যস্ততা কিছুটা থেমে গেলেও থামেনি শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম। কারণ তাদের জীবনে কাজ থামলে সংসার থামে, আয় থামলে থেমে যায় চুলার আগুন।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত