প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
পরিত্যক্ত বাড়িতে ঘোড়া জবাই করে হোটেল-রেস্তোরাঁয় মাংস সরবরাহের অভিযোগ
ঢাকার আশুলিয়ার তৈয়বপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে গোপনে ঘোড়া জবাই করে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে মাংস সরবরাহের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গভীর রাতে ওই বাড়িতে ঘোড়া জবাই করে মাংস গরু ও খাসির মাংস হিসেবে সাভার, আশুলিয়াসহ রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিরিয়ানির দোকানে সরবরাহ করে আসছিল।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৈয়বপুর এলাকার একটি ড্রেন ও ময়লার ভাগাড়সংলগ্ন পরিত্যক্ত বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে চক্রটির গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। জনমানবশূন্য হওয়ায় রাতের আঁধারে সেখানে গোপনে ঘোড়া জবাই, চামড়া ছাড়ানো এবং মাংস প্রক্রিয়াজাত করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পুরো কার্যক্রম সীমিত আলো এবং কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে পরিচালিত হতো।সম্প্রতি সংবাদকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে ঘোড়া জবাইয়ের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘোড়া এনে পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতরে রাখা হতো। এরপর রাতভর জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতের কাজ চলত। ভোর হওয়ার আগেই প্যাকেটজাত করে সেই মাংস সাভার, আশুলিয়া, উত্তরা ও কাশিমপুর এলাকার বিভিন্ন হোটেল, সাধারণ খাবারের দোকান এবং বিরিয়ানি ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র হাতে কয়েকজনকে নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতে দেখা যেত। নির্জন পরিবেশ এবং অস্ত্রধারীদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। বাড়িটির সামনে ও পেছনে পৃথক দুটি প্রবেশপথ থাকায় অভিযুক্তরা সহজেই যাতায়াত ও পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেত বলে অভিযোগ রয়েছে।ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য আছমা বেগম বলেন, পরিত্যক্ত বাড়িটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় নানা গুঞ্জন ছিল। রাতের আঁধারে সেখানে কী হতো, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ ছিল। এখন যে অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে শিগগিরই ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত