প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
ধুনটে মায়ের সঙ্গে নানা বাড়ি বেড়াতে এসে ডোবার পানিতে প্রাণ গেল শিশুর
"আমি গ্রামের বাড়ি যাব না—ঢাকা থেকে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে বাবা-মাকে বারবার এ কথাই বলেছিল সাত বছরের সাদমান ইসলাম সাইম। কিন্তু মা-বাবার অনুরোধে শেষ পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে সে। বাবা নিজ হাতে ট্রেনে তুলে দিয়ে আদর করে বিদায় জানিয়েছিলেন প্রিয় সন্তানকে। কেউ জানত না, সেটিই হবে বাবা-ছেলের শেষ বিদায়।বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে বগুড়ার ধুনট উপজেলার রান্ডিলা গ্রামে ঘটে হৃদয়বিদারক এ দুর্ঘটনা। বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে ডোবার পানিতে ডুবে মৃত্যু হয় সাদমান ইসলাম সাইমের (৭)। সে ঢাকার ওয়ারী থানায় কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকারিয়া খানের একমাত্র ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি ধুনট উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে। বাবার চাকরির কারণে সাইম বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকাতেই বসবাস করত।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ জুলাই) মায়ের সঙ্গে রান্ডিলা গ্রামের নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে সাইম। গ্রামের নির্মল পরিবেশ, আত্মীয়-স্বজনের সান্নিধ্য আর ছুটির আনন্দে মেতে ওঠার কথা ছিল তার। কিন্তু বুধবার দুপুরে খেলতে খেলতে সবার অজান্তে বাড়ির পাশের একটি ডোবার পানিতে পড়ে যায় সে।অনেকক্ষণ সাইমকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা চারদিকে তল্লাশি শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ডোবার পানিতে তার ভাসমান মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।একটি আনন্দভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকের ঘটনায়। যে শিশুটি বাবা-মায়ের হাত ধরে হাসিমুখে নানা বাড়িতে এসেছিল, সে ফিরল সাদা কাফনে মোড়া নিথর দেহ হয়ে। ট্রেনে তুলে দেওয়ার সময় বাবার শেষ বিদায়ের সেই হাসিমাখা দৃশ্য এখন শুধুই অসহনীয় স্মৃতি।সাদমান ইসলাম সাইমের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। আত্মীয়-স্বজনের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। এ মর্মান্তিক ঘটনায় ধুনট উপজেলার রান্ডিলা ও বিষ্ণুপুর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত