প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
চুয়াডাঙ্গায় মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগে নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানির প্রতিবাদ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হুদাপাড়া গ্রামে মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ এনে সাধারণ গ্রামবাসীকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। নিজেকে বিএনপি নেতা দাবিদার বাবর আলী বাবু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।মঙ্গলবার ৭ জুলাই বিকেলে হুদাপাড়া দক্ষিণপাড়ায় গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমের কাছে এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হুদাপাড়া গ্রামের বাবর আলী বাবু নামের এক ব্যক্তি হুদাপাড়া দক্ষিণপাড়ার মরহুম আইয়ুব আলী মেম্বারের ছেলে শাহিন (৩০), ওলি শেখের ছেলে ও পেশায় চুল ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম (২৮), মহৎ হালসানার ছেলে সুইট (৩৫), গোলাম হালসানার ছেলে নজরুল ইসলাম, আজাদ শেখের স্ত্রী শাহিনুর শেখ (৪০), আসেহার (৪৫) এবং জহির উদ্দিন জনিসহ অনেকের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বাবর আলী প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ দিয়ে এই নিরীহ গ্রামবাসীদের অন্যায়ভাবে হয়রানি করাচ্ছেন।বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী গণমাধ্যমকে জানান, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্ত বাবর আলী নিজেকে হঠাৎ বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন। এই নতুন রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এলাকায় এ ধরনের হয়রানিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অথচ এর আগে কখনোই তাকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয় বা জড়িত থাকতে দেখা যায়নি।গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হয়ে হুদাপাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানান, একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হুদাপাড়া এলাকার প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।কোনো প্রকার সঠিক তদন্ত ছাড়া শুধুমাত্র মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতে যেন কোনো নিরীহ গ্রামবাসীকে পুলিশি হয়রানি বা হয়রানিমূলক মামলার শিকার না করা হয়।তবে অভিযুক্ত বাবর আলী এ বিষয়ে বলেন পতিত আওয়ামীলীগের লোকজন তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন। তিনি আরো বলেন জেলা বিএনপির সাথে তার যোগাযোগ আছে। আমি এখানে একটি বিএনপির অফিস করেছেন যা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উদ্বোধন করে দিয়ে গেছেন।এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে মাদক আইনের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যবহার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে তদন্তপূর্বক এই হয়রানি বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত