প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
আসলেই আম খেলে কি ওজন বাড়ে
বাজারে আসতে শুরু করেছে ফলের রাজা আম। বাঙালির রসনাবিলাসে আম অপরিহার্য হলেও অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন বারবার উঁকি দেয়—আম খেলে কি ওজন বাড়বে? ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই এই সুস্বাদু ফলটি ডায়েট চার্ট থেকে বাদ দিয়ে দেন। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন ভিন্ন কথা।তাদের মতে, আম সরাসরি ওজন বাড়ায় না, বরং ওজন বাড়ার বিষয়টি নির্ভর করে আম খাওয়ার পদ্ধতি ও পরিমাণের ওপর।একটি মাঝারি মাপের আমে সাধারণত ২০০ থেকে ৩৫০ ক্যালোরি থাকে। আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি মানের (৫১ থেকে ৬০-এর মধ্যে), যা হুট করে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় না। এছাড়া আমে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সহায়তা করে।বিশেষজ্ঞদের মতে, আমকে যখন প্রাকৃতিক অবস্থা থেকে পরিবর্তন করে জুস, মিল্কশেক, আইসক্রিম বা বিভিন্ন ডেজার্ট হিসেবে খাওয়া হয়, তখনই বিপত্তি ঘটে।কোন রঙের ডিমে বেশি পুষ্টিপ্রক্রিয়াজাত করার ফলে আমের প্রাকৃতিক ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়। জুস বা শেক তৈরিতে বাড়তি চিনি ও দুধ ব্যবহারের ফলে ক্যালোরির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। তরল আকারে খাওয়ার ফলে পেট ভরা থাকে না, ফলে মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করে ফেলে।ওজন নিয়ন্ত্রণ রেখে আমের স্বাদ নেওয়ার জন্য পুষ্টিবিদরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:১. সরাসরি খাওয়া: আমের রস না করে সরাসরি কামড়ে বা টুকরো করে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।২. প্রোটিনের সঙ্গে সমন্বয়: আম খাওয়ার সময় সঙ্গে কয়েকটা বাদাম বা আখরোট খেলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় থাকে এবং দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা লাগে না।৩. পরিমিতিবোধ: আম মূলত নাস্তা বা শরীরচর্চার আগে খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। ভারী খাবারের সঙ্গে বা ঠিক পরেই আম খেলে ক্যালোরি সারপ্লাস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দিনে একটি ছোট আম খেতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে ফাইবার ও প্রোটিনের ভারসাম্য রাখা জরুরি।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত