প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজশাহীতে দাড়িপাল্লার পক্ষ নিয়ে কাজ করায় আওয়ামীলীগ নেতাকে মারধর বিএনপি নেতার
রাজশাহী-৪ সংসদীয় আসনের বাগমারা উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা ও বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মারধর, মোটরসাইকেল ও দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পৃথক দুই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।বুধবার ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের সাদোপাড়া গ্রাম এবং গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের তেলিপুকুর গাঙ্গোপাড়া বাজার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয়ভাবে ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল আলম।তিনি বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুইটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। গাঙ্গোপাড়া বাজারের ঘটনায় মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় শান্ত নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সাদোপাড়ার ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।”স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর ইউনিয়নের সাদোপাড়া গ্রামে জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারীর পক্ষে কথা বলায় আওয়ামী লীগ নেতা মুহিদুল ইসলাম (৪৮)-কে মারধর করা হয়। এ সময় তার দুই ভাতিজা খায়রুল ইসলাম (২৩) ও রাতুল ইসলাম (১৭) হামলার শিকার হন। আহতদের তাহেরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।আহত মুহিদুল ইসলাম শ্রীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। পেশায় তিনি একজন পল্লিচিকিৎসক।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার সময় সাদোপাড়া ডাকঘরের সামনে বিএনপির কয়েকজন কর্মী তার পথরোধ করেন। জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে লাঠি ও রড দিয়ে হামলা চালানো হয় এবং তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।আহত খায়রুল ইসলাম বলেন, “লোহার রড দিয়ে আমাদের পেটানো হয়েছে। আমার বাম হাত ভেঙে গেছে। মামলা করলে আরও ঝামেলা হবে ভেবে মামলা করব না।”তিনি দাবি করেন, রোগী পাঠানোর সুবাদে জামায়াত প্রার্থী ডা. বারীর সঙ্গে পারিবারিক পরিচয় থাকায় তার চাচা ইতিবাচক কথা বলেছিলেন। এ কারণেই হামলা চালানো হয়েছে।তবে শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাম পারভেজ বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতা নির্বাচনবিরোধী উসকানিমূলক কথা বলছিল। ক্ষুব্ধ জনগণ তাকে সামান্য চড়থাপ্পড় দিয়েছে। এটি বড় কোনো ঘটনা নয়। আমি পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছি।”গাঙ্গোপাড়া বাজারে দোকান ভাঙচুর প্রেক্ষাপট:অন্যদিকে, গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের তেলিপুকুর গাঙ্গোপাড়া বাজারে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কথা বলায় এনামুল হক (২৭) নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বাধা দিতে গেলে তার চাচা মোজাম্মেল হককেও মারধর করা হয় এবং চায়ের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা এনামুল হককে বিএনপির প্রার্থীর ফেস্টুন ছেঁড়ার অভিযোগে মারধর করা হয়। এতে তার বুক ও হাঁটুতে আঘাত লাগে। পরে দোকানের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন মালামাল ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনায় বিএনপির সমর্থক শান্ত (২২)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।আহত এনামুল হক অভিযোগ করে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা কেউ কোনো ফেস্টুন ছেঁড়িনি। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার কথা বলায় আমাদের মারধর করা হয়েছে।”তবে বিএনপির গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল ইসলাম বলেন, “ফেস্টুন ছেঁড়া নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝি থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি বা জামায়াত—কেউই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি।”পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনাই নির্বাচনী উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং মামলা না করার প্রবণতা—সব মিলিয়ে ঘটনাগুলো নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতার ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত