প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ঈশ্বরদীতে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে করলেন একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক
পাবনার ঈশ্বরদীতে নিজ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক পুনরায় বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা তাঁকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে বাধা দেন। পরে কোনো ক্লাস না নিয়েই তিনি বাড়ি ফিরে যান।জানা গেছে, উপজেলার মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক মোশারফ হোসেন মুসার সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রিমি খাতুনের (১৪) দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী বিয়ের দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন। প্রথমে বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে চাপের মুখে গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মধ্যরাতে গোপনে তাঁকে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন ঘটনার পরও অভিযুক্ত শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হলে ওই ছাত্রীকে শিক্ষকের বাড়ি থেকে গোপনে তাঁর বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে দীর্ঘদিনের কথিত প্রেমের সম্পর্ক এবং ওই ছাত্রীর দুই দিন ধরে তাঁর বাড়িতে অবস্থান ও রাতযাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান জানান, তিনি লোকমুখে বিষয়টি শুনেছেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তসলিম আরিফ তুষার বলেন, তিন দিন আগে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনায় বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। প্রধান শিক্ষক দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় থাকায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। দ্রুতই তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে বাল্যবিবাহ একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ। পাশাপাশি নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে বিয়ে করার অভিযোগ একজন শিক্ষকের নৈতিক স্খলনের পরিচায়ক। এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদকে অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীরা সন্তানের মতো। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণের অভিযোগ তাঁদের হতবাক করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত