প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচার ৯০ দিনে শেষের দাবি
নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যার বিচার ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার দাবিতে কাফনের কাপড় পরে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। এসময় তারা ১৫ দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল, সব আসামিকে গ্রেফতার এবং মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় জেলা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইউনিট, জেলা ইউনিট ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর সম্পাদক খায়রুল আলম রফিক ও পরিচালক মোহাম্মদ আলী আবির, সভাপতি আরিফুল ইসলাম, কার্যকরী সভাপতি সজীব রাজভর,সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, শ্যাম গঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আল ইমরান,সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরান পারভেস,দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক মো. মোহন মিয়া,সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলাম,সমকালের কেন্দুয়া উপজেলা প্রতিনিধি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা এবং নিহত সাংবাদিক আলিফের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম ফকির।বক্তারা বলেন, সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যার মধ্য দিয়ে শুধু একটি পরিবার স্বজন হারায়নি, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আলিফ সীমান্ত এলাকার চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতেন। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য তুলে ধরার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করেন তারা। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো আসামি যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার, ১৫ দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর এবং ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। পরে পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেন সাংবাদিকেরা।গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে সীমান্ত এলাকার চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি।এ ঘটনায় আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ পর্যন্ত মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ রোববার গ্রেফতার হওয়া ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন ও মো. সাব্বির আহম্মেদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে তাজুল ইসলামকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত