প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬
আক্কেলপুরে আগুনে বিধবার বসতঘর পুড়ে ছাই
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে অগ্নিকাণ্ডে নুরজাহান আক্তার (৫৫) নামে এক বিধবার বসতঘর ও ঘরের সব আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া তাঁর আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার রায়কালী ইউনিয়নের উত্তর নওতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।ক্ষতিগ্রস্ত নুরজাহান আক্তার ওই গ্রামের মৃত রমজানের স্ত্রী। তাঁর দুই ছেলে ঢাকায় থাকেন। বাড়িতে একাই বসবাস করতেন তিনি।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে বাড়িঘর ঝাড়ু দিয়ে বাইরে যান নুরজাহান। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফিরে তিনি ঘরের ভেতর আগুন জ্বলতে দেখতে পান। তাঁর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে গ্রামবাসী পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে মাটির প্রলেপ দেওয়া দুই কক্ষের টিনের ঘরটি পুরোপুরি পুড়ে যায়।সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনে ঘরের খাট, বিছানা, চাদর, বালিশসহ যাবতীয় আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। বসতঘরের পোড়া ধ্বংসাবশেষের সামনে দাঁড়িয়ে কান্না করছিলেন নুরজাহান। একমাত্র আশ্রয়স্থল হারিয়ে এখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তাঁর।কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুরজাহান আক্তার বলেন, ‘আমার দুই ছেলে ঢাকায় থাকে। বাড়িতে আমি একাই থাকি। সকালে বাড়ি ঝাড়ু দিয়ে বাইরে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি, ঘরে আগুন জ্বলছে। আমার সবকিছু পুড়ে গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’প্রতিবেশী আবদুল লতিফ বলেন, ‘বিধবার বাড়িতে আগুন দেখতে পেয়ে আমরা গ্রামবাসী পানি দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করি। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। ততক্ষণে ঘরের সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। ধারণা করছি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এমনিতেই নুরজাহান গরিব ও অসহায়। এখন বাড়িঘর হারিয়ে আরও বিপদে পড়েছেন।’এ বিষয়ে আক্কেলপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা আবদুল কাদের জানান, রায়কালী ইউনিয়নে বিধবার বাড়িতে আগুন লাগার বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো সংবাদ আসেনি। খবর পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত।স্থানীয় ইউপি সদস্য একাব্বর হোসেন বলেন, নুরজাহান খুবই অসহায়। তিনি বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। আগুনে তাঁর সবকিছু পুড়ে গেছে। এ অবস্থায় তাঁর পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো নুরজাহানের পুনর্বাসনে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত