প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
মোহনপুরে বিতর্কিত নই যোগ্য ইমাম চান মুসল্লিরা
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (সাঁকোয়া) ইমাম নিয়োগ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সচেতন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক এর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তারা। গত ২০ অক্টোবর দেওয়া ওই আবেদনে ইমাম নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা, ধর্মীয় জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা, পূর্ববর্তী কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন ও আচরণ সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। আবেদনকারীদের মতে, ইমাম নিয়োগের ক্ষেত্রে হাফেজ হওয়ার শর্ত পূরণসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা ও পূর্ববর্তী কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের রেকর্ড যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) উক্ত মসজিদে সরেজমিনে গিয়ে জুম্মার নামাজ আদায় শেষে মুসল্লিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মুফতি উবায়দুল্লাহ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পবা উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (সাঁকোয়া) ইমাম নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পর দায়িত্ব পালনকালে মুসল্লিদের অসন্তোষ ও আপত্তির মুখে পড়েন। পরে সেখানকার মুসল্লিরা তাকে আর কোনো ওয়াক্তর নামাজ পড়াতে দেন নাই। এখানে তিনি ইমাম হওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানে মুসল্লিরা বলেন, উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক সংলগ্ন কেশরহাট পৌরসভার সাঁকোয়া নামক স্থানে হওয়ায় আমরা অনেক খুশি। তবে আমরা জানতে পারছি, বিগত দিনে পবায় বিতর্কিত ইমাম উবাইদুল্লাহ আমাদের এই মসজিদে ইমাম হওয়ার জন্য নানান ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখানে সেই বিতর্কিত ইমামকে চাচ্ছি না। আমরা এখানে ধর্মীয় জ্ঞান, যোগ্যতা সম্পূর্ণ হাফেজ, পেশাগত দক্ষতা, পূর্ববর্তী কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের রেকর্ড এবং স্থানীয় মুসল্লিদের আস্থা অর্জনকারী ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে চাচ্ছি। আমরা এখানকার মুসল্লীরা আহলে হাদিস অনুসারে নামাজ ও ইবাদত করে থাকি। তাই আমরা এখানে চাই আহেলা হাদিসের জ্ঞান সম্পন্ন যোগ্য ইমাম। যেন আমরা ইসলামী তরিকায় জীবন যাপনের জন্য তার কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারি। এরপরও যদি এখানে কোন বিতর্কিত ইমাম নিয়োগ হয় তাহলে পবার মতো এখানেও তাকে বিতাড়িত করা হবে। তাই একটু সময় নেওয়া হলেও মুসল্লিদের স্বার্থে নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে যেন এখানকার ইমাম হয় এই দাবি আমরা প্রশাসনের কাছে করছি। এদিকে, মসজিদটির নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুসল্লিরা। তাঁদের অভিযোগ, ঠিকাদারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শৌচাগার ও অজুর ব্যবস্থা না থাকায় মহাসড়ক সংলগ্ন এ মসজিদে আসা মুসল্লিরা দুর্ভোগে পড়ছেন এবং সময়মতো নামাজ আদায় করতে পারছেন না।এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহিমা বিনতে আকতার বলেন, মুসল্লিদের অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে ইমাম নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত