প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬
সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ করায় শিক্ষককে পিটানোর হুমকি
নোয়াখালী হাতিয়ায় সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ করায় প্রধান শিক্ষককে পিটানোর হুমকি দিয়েছে সড়ক বিভাগের এক কর্মচারী। এর প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজন মিছিল করে সড়ক অবরোধ করে। বিক্ষুদ্ব জনতা এসময় রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেয়। উপজেলার জাহাজমারা - মোক্তারিয়া রাস্তার আসাদ নগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।এর আগে বৃস্পতিবার দুপুরে একই রাস্তায় উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ করেন এই শিক্ষক। তিনি বার বার কাজের ডিজাইন ও অফিস থেকে দেওয়া অনুমতি পত্র দেখতে চান। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে সড়ক বিভাগের কার্যসহকারী বশির আহাম্মেদ তাকে বেধে রেখে পিটানোর হুমকি দেন। তিনি সড়কের কাজে ব্যাস্ত থাকা শ্রমিকদের এই শিক্ষককে বেধে রাখার জন্য বলেন।এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তাতে সমালোচনার ঝড় উঠে। অনেকে এই ধরনের দৃষ্টতা দেখানোর অপরাধে বশির আহাম্মদের শাস্তি দাবি করেন।বশির আহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালী সড়ক বিভাগের অধিনে হাতিয়া উপজেলায় কার্যসহকারী হিসাবে কাজ করছেন। অন্যদিগে আশ্রাফুল আলম তিনি উত্তর পশ্চিম জাহাজমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত।সৈকত মোল্লা নামে একজন জানান, বশির আহাম্মেদ হাতিয়ার বিভিন্ন অংশে সড়ক বিভাগের রাস্তার কাজ তদারকি করে থাকেন। তিনি বিভিন্ন জায়গায় কাজের অনিয়ম নিয়ে কথা বললে মানুষের সাথে দুর ব্যাবহার করেণ। এর আগে ওচখালি ও জাহাজমারা বাজারে রাস্তার কাজে তিনি মানুষের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হন।স্থানীয় মাহবুবুর রহমান জানান, রাস্তার কাজে অনিয়ম দেখাশুনার দায়িত্ব এই কার্যসহকারী সহ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের। কিন্তু দেখা গেলেও তারাই অনিয়ম পাহারা দিয়ে কাজ সম্পন্ন করছে। ঠিকাদারের পক্ষে এই কর্মচারীর উদৃত্তপূর্ণ আচারান সবাইকে হতাশ করেছে। একজন শিক্ষকের সাথে এমন আচারন কোন ভাবে মেনে নেওয়া যায় না।জাহাজমারা- মোক্তারিয়া ঘাট পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়কের কাজ পায় মেসার্স অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যায়ে কাজটি শুরু হয় গত ৬ মাস থেকে। শেষ হবে ফেবুয়ারী ২০২৭।প্রধান শিক্ষক আশ্রাফুল আলম বলেন, রাস্তায় যে পরিমান কার্পেটিং দেওয়ার কথা তা দিচ্ছে না। এই বিষয়ে আমি তাদেরকে জানালে তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। আমি তাদের অফিস আদেশ দেখতে চাইলে পাশ থেকে বশির আহাম্মেদ আমাকে মারতে তেড়ে আসে। এসময় সে শ্রমিকদের আমাকে বেধে রাখার জন্য বলে।এই বিষয়ে কার্যসহকারী বশির আহাম্মেদ বলেন, রাস্তার কাজে প্রচন্ড তাপদাহের মধ্য থেকে করতে হয়। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এজন্য আমি ক্ষমা চেয়েছি।এই বিষয়ে নোয়াখালী সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মহিবুল্লাহ সুমন বলেন, রাস্তার কাজ সঠিক ভাবে হচ্ছে। কেউ কাজের ডিজাইন দেখতে চাইলে তাকে অফিসে আসতে হবে। আমরা দেখাতে বাধ্য। প্রধান শিক্ষকের সাথে আমাদের কর্মচারী বশির যেটা করেছে তা কোন ভাবে ঠিক হয়নি। এই বিষয়ে সড়ক বিভাগ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত