প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬
ফুলছড়িতে দরপত্র ছাড়াই মাদরাসার সম্পদ বিক্রির অভিযোগ
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া খবিরিয়া দাখিল মাদরাসার একটি আধাপাকা টিনশেড ঘর ভেঙে ইট ও টিন বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির সুপার মো. আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো রেজুলেশন বা দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মাদরাসার এসব সম্পদ বিক্রি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুপার। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদরাসার প্রায় ২০ হাত দৈর্ঘ্যের পুরোনো আধাপাকা টিনশেড ঘরটি ভেঙে ইট ও টিন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব মালামালের মূল্য লক্ষাধিক টাকা হতে পারে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে কী পরিমাণ মালামাল সরানো হয়েছে, কত টাকায় বিক্রি করা হয়েছে এবং বিক্রির অর্থ প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এদিকে, সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের সময় মাদরাসার অফিস সহকারী শামসুজ্জোহা কিনুর বাড়ির উঠোনে ইট দেখতে পান দৈনিক সকালের সময়ের প্রতিবেদক। এ বিষয়ে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে অফিস সহকারী দাবি করেন, মাদরাসার সুপারের সঙ্গে কথা বলেই তিনি ইটগুলো বাড়িতে নিয়ে এসেছেন।অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে মাদরাসার সুপার মো. আব্দুল লতিফ বলেন, অফিস সহকারী শামসুজ্জোহা কিনু কিংবা নৈশপ্রহরী সোহাগ মণ্ডল কেউই মাদরাসার টিন বা ইট নিয়ে যাননি। তাঁর দাবি, ঘর ভাঙার পর ইটগুলো প্রতিষ্ঠানের জায়গায় রাখা হয়েছিল। পরে স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে ইট নিয়ে গেছেন।সুপারের বক্তব্য ও অফিস সহকারীর দাবির মধ্যে ভিন্নতা থাকায় ঘর ভাঙার পর উদ্ধার করা মালামাল কোথায় রাখা হয়েছিল, কীভাবে সরানো হয়েছে এবং এর বিপরীতে কোনো অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।এ বিষয়ে মাদরাসার সভাপতি ও ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের দাবি, মাদরাসার পুরোনো ঘর ভাঙার সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদ্ধার করা মালামাল বিক্রির অনুমোদন, বিক্রয়মূল্য এবং অর্থ জমার হিসাব যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।এখন দেখার বিষয়, উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে মাদরাসার সম্পদ সরানো ও বিক্রির অভিযোগের কী তথ্য উঠে আসে।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত