প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬
ধুনটে দুর্গোৎসব ঘিরে জমজমাট শতবর্ষী বউমেলা
চারদিকে নারীদের ভিড়। কারও হাতে রঙিন চুড়ি, কারও চোখ বাহারি অলংকারে। কোথাও চলছে পছন্দের জিনিস কেনার দরদাম, কোথাও হাসি-আড্ডায় মেতে উঠেছেন নারীরা। কাঁচের চুড়ি, প্রসাধনী, মাটির খেলনা আর হরেক রকম মিষ্টান্নের পসরা নিয়ে বসেছে দোকানিরা। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে বগুড়ার ধুনটে জমে উঠেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘বউমেলা’।বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উপলক্ষে ধুনট পৌর এলাকার সরকারপাড়া-সংলগ্ন ইছামতী নদীর তীরে দিনব্যাপী এ মেলা বসে। শাশুড়ি, ননদ, জা-ঝি থেকে শুরু করে শিশু-কিশোরী ও নানা বয়সী নারীর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। নারীদের প্রাধান্যে আয়োজিত এ মেলায় কেনাকাটার পাশাপাশি চলে আনন্দ-আড্ডা ও পরিচিতজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময়।মেলায় কাঁচের চুড়ি, রঙিন ফিতা, লিপস্টিক, কানের দুল, ঝিনুকের মালাসহ নানা প্রসাধনীর দোকান বসে। পাশাপাশি কদমা, নিমকি, শখের মিঠাই, চানাচুর, খই, বাতাসাসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের পসরা সাজান বিক্রেতারা। পছন্দের জিনিস কিনতে নারীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।মেলার অন্যতম আকর্ষণ মাটির তৈরি বাহারি খেলনা। কুমারদের নিপুণ হাতে তৈরি রঙিন ব্যাংক, বউপুতুল, সাহেব-মেম, গরু, ছাগল, হাতি, বাঘ, সিংহ, ময়ূর ও বিভিন্ন পাখির প্রতিকৃতি মেলায় আসা মানুষের নজর কাড়ে। এসব খেলনায় ফুটে ওঠে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের চিত্র।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারপাড়ার এ বউমেলার ঐতিহ্য বহু বছরের পুরোনো। প্রতিবছর বিজয়া দশমীতে এ মেলার আয়োজন করা হয়। শুরুতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি সব ধর্মের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। নারীদের নিজস্ব পরিসরে আনন্দ ও কেনাকাটার সুযোগ করে দেওয়াই এ মেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই বছর ঘুরে এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করেন অনেকে।মেলায় আসা অনিতা রানী দাস বলেন, ‘সরকারপাড়ার বউমেলা আমাদের পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। আমি মূলত ঐতিহ্যবাহী গরম জিলাপি খেতে আসি। এ ছাড়া বছরের এই একটি দিন নিজেদের মতো ঘোরাফেরা, কেনাকাটা ও পরিচিতজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ পাই।’মেলায় বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসেন মিল্লাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘এই মেলা পুরোনো স্মৃতিগুলো নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। তাই বছর ঘুরে এই দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকি। বৈশাখ আর পূজা ছাড়া এমন উৎসবমুখর পরিবেশ খুব একটা পাওয়া যায় না।’মেলা আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক পার্থ সেন বলেন, ‘গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে এ মেলার আয়োজন করে আসছি।’দিনভর কেনাকাটা, আড্ডা ও উৎসবের আমেজে মুখর থাকার পর সন্ধ্যায় ইছামতী নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে সরকারপাড়ার বউমেলা তাই ধুনটের মানুষের কাছে শুধু কেনাবেচার আয়োজন নয়, বরং আনন্দ ভাগাভাগির এক বিশেষ উপলক্ষ।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত