প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
বাঘায় শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনে পুলিশ-আনসার ও ভিডিপির সতর্ক পাহারা
রাজশাহীর বাঘায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, পারিবারিক বন্ধন ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণের পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে ছবি তোলা,বন্ধুদের আড্ডা ও নানা আয়োজন।সোমবার (১৯ অক্টোবর, ২০২৬) উপজেলার নারায়ণপুর, বলিহার, পাকুড়িয়া, বাউসা ও আড়ানীসহ বিভিন্ন এলাকার মন্দির ও পূজামণ্ডপ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতি, আলোকসজ্জা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।এদিন বলিহার উত্তরপাড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দির, বলিহার মধ্যপাড়া কালীমাতার মন্দির, বলিহার সার্বজনীন শিবমন্দির ও বিনোদপুর সার্বজনীন দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার তিনি মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং পূজার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,"দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।"পরিদর্শনকালে উপস্থিত " উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সত্যজিৎ কুমার সরকার" বলেন, "শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পূজা মণ্ডপে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সকলের সহযোগিতায় পূজার দিনগুলি ভালোভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক সোহেল রানা এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা মনসুর আলী।পূজামণ্ডপ ঘিরে বসেছে নানা ধরনের দোকান। আলোকসজ্জায় সজ্জিত মণ্ডপগুলোতে তরুণদের আড্ডা, চা পান ও ছবি তোলার ব্যস্ততা চোখে পড়ছে।কলেজ শিক্ষার্থী শান্ত মিঞা বলেন, "উৎসব মানেই আনন্দ। বন্ধুদের সঙ্গে এমন প্রাণখোলা আড্ডা ঈদ ও পূজার সময়ই বেশি হয়।"পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মন্দিরে ঘুরতে আসা অপূর্ব কুমার বলেন, "অঞ্জলি দেওয়া ও পরিবারের সঙ্গে পূজায় অংশ নেওয়ার আনন্দ আলাদা। পূজা শুধু ঘোরাঘুরি নয়, বরং সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার উপলক্ষ।"উপজেলায় এবার ৪৭টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি চালের পাশাপাশি পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, সংসদ সদস্য এবং বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।বাঘা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কুমার বাকু পান্ডে বলেন, "সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাইকে মিলেমিশে শান্তি-শৃঙ্খলার সঙ্গে বসবাস করতে হবে। দুর্গাপূজা সত্য প্রতিষ্ঠা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা দেয়।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত