প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
পানছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিদ্যালয় সংস্কার
দুর্গম এলাকায় বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে পানছড়ির দুর্গম প্রফুল্লপাড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর সংস্কার করে আধুনিক রূপ দেওয়া হয়েছে।দুর্গম প্রফুল্ল কার্বারী পাড়ায় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রফুল্লপাড়ায় বসবাসকারী ৪৫টি পরিবারের বিশুদ্ধ পানির সংস্থানে স্থাপন করা হয়েছে সৌরচালিত পানির পাম্প ও সরবরাহ লাইন।যার মাধ্যমে ৪৫টি পরিবারের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে নিরাপদ পানি। পানি সংরক্ষণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে একটি সুদৃশ্য ট্যাংকও।দুর্গম জনপদে পৃথক মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির মাটিরাঙ্গা জোন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে মাটিরাঙ্গার সীমান্তঘেঁষা পানছড়ির এই দুর্গম জনপদপ্রফুল্লপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পানির পাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এসময় মাটিরাঙ্গা জোনের উপ অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেল পিএসসি ও পানছড়ির উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আবুল হাশেম উপস্থিত ছিলেন।প্রফুল্লপাড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজীব চাকমা বলেন, জরাজীর্ণ ভবনে শিশুদের নিরাপদ পাঠদান নিয়ে আমরা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকতাম। সেনাবাহিনীর সংস্কার কাজের পর শিক্ষার্থীরা এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারছে।পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রীমতি ত্রিপুরার কণ্ঠে খুশির সুর। সে বলে, আগে আমাদের স্কুলটা অনেক পুরোনো আর ভাঙা ছিল। বাইরে বৃষ্টি পড়ার আগে আমাদের স্কুল ঘরে পেতো। এখন স্কুলটা অনেক সুন্দর হয়েছে, ক্লাস করতেও ভীষণ আনন্দ লাগবে।পানছড়ির উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আবুল হাশেম বলেন, দুর্গম এলাকার দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট মুহূর্তেই দূর হয়ে গেল। ৪৫টি পরিবার এখন সহজেই সুপেয় পানি পাবে। সেনাবাহিনীর এই জনকল্যাণমূলক কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়।স্থানীয় ইউপি সদস্য শান্তি জীবন ত্রিপুরা বলেন, সুপেয় পানির জন্য আমাদের মা-বোনদের মাইলের পর মাইল দুর্গম পথ হাঁটতে হতো। সৌরচালিত পাম্প বসানোর পর সেই কষ্টের অবসান হলো। এখন ঘরের কাছে সুপেয় পানি পাবে গ্রামবাসী।মাটিরাঙ্গা জোনের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. মাসুদ খান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের পাশে সবসময় রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর এমন বহুমাত্রিক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ একদিকে শিক্ষার প্রসার ও স্থানীয়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর পারস্পরিক আস্থা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করে সচেতন মহল।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত